রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১
Online Edition

রাজার সাজা 

জহির টিয়া :

বনের রাজা সিংহ। তার বড়ো বড়ো সোনালি কেশ। ঝুলছে ঘাড় বেয়ে। আর বাতাসের তালে তালে দুলছে।  অত্যাচারি রাজা এই সিংহ। তার অত্যাচারে বনের অন্য প্রাণিরা জর্জরিত। কারো মনে সুখটুক নেই। সব সুখ কেড়ে নিয়েছে সিংহ রাজা। দুই দিন পরপর নতুন নতুন আইন চালু করে। সেই আইন মানতে সবার জীবন হাঁসফাঁস করে। যে তার আইন অমান্য করে তাকে কঠোর শাস্তি দেয়। তাই সবাই ভয়ে ভয়ে থাকে। 

বন ছেড়ে কেউ পালাতেও পারে না। কারণ, বনের একপাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটা খরস্রোতা নদী।  অন্য পাশে ঘনবসতিপূর্ণ  গ্রাম। রাতের আঁধারেও পালানোর জো নেই। কাছাকাছি কোনো বন আছে কি-না সেটাও কারো জানা নেই। এভাবেই নানান দুশ্চিন্তায় কাটে বনবাসীর। 

তবুও জীবনটা চলে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার ঘটে গেল অন্য ঘটনা। একদিন সিংহ রাজা বনের সকলকেই ডেকে বললো, তোরা আজ থেকে প্রতিদিনই খাজনা দিয়ে যাবি। যে প্রতিদিন খাজনা দিতে পারবি না, তাকে পাশের নদীতে চুবিয়ে মারবো। 

কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারলো না। মাথা নেড়ে, মুখ বুজে সবাই সম্মতি জানিয়ে চলে এলো। সবাই নিজ গন্তব্যে যেতে যেতে বলাবলি করতে লাগল।  কী করে সম্ভব এই আইন মানা! যেখানে নিজেরাই পেটপুরে দুইবেলা খেতে পাই না। তার ওপর প্রতিদিন খাজনা! আগেরটা কি কম ছিল?  

সিংহ রাজার আগের আইন ছিল, যে তার আইন অমান্য করত।  তাকে কঠিন সাজা দিত আর জরিমানা করত। এটা সবাই মেনেও চলত। 

পরদিন বিকাল হতে সিংহ রাজার দরবারে খাজনা নিয়ে যেতে লাগল সকলেই। নিজে খেতে পাক আর না পাক। রাজাকে খাজনা দেওয়াই লাগবে। সবাই নিজ নিজ সাধ্যমতো খাজনা নিয়ে রাজার সামনে হাজির। সিংহ রাজা সবার নাম ধরে একের পর এক ডাকছে। যে যা পারছে রাজার গুদামঘরে রেখে আসছে। ধীরেধীরে সারি ছোটো হচ্ছে। রাজা দেখল, সারিতে আর মাত্র দুইজন আছে। কিন্তু রাজার খাতায় তিনজনের নাম লেখা। 

তখন রাজা দাঁড়িয়ে থাকা দুইজনকে জিজ্ঞেস করল, এই খোড়া শেয়াল কই। ওকে তো দেখছি না। দাঁড়িয়ে থাকা দুইজন বললো, হুজুর বলতে তো পারছি না। তাকে সকাল হতে চোখে পড়েনি। 

সিংহ রাজা ও এই দুইজনের কথোপকথনের মাঝেই খোড়া শেয়াল হাজির। তাকে দেখে সিংহ রাজা হুংকার দিয়ে বললো, তোর আসতে দেরি কেন? আর কী এনেছিস বস্তা ভরে। খোড়া শেয়াল চোখ টিপটিপ করে বললো, হুজুর একটু দূরে গিয়েছিলাম খাবারের খোঁজে। তাই দেরি হলো।  সিংহ রাজা হাত বাড়িয়ে বললো, তোর বস্তাটা আমার হাতে দে। আর তোরা গুদামঘরে রেখে চলে যা। বাকি দুইজন গুদামঘরে রেখে চলে গেল। খোড়া শেয়াল বস্তাটা সিংহ রাজাকে দিয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। এবার মুচকি হেসে সিংহ রাজা বস্তা খুলতে লাগলো। বস্তার মুখ দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। দড়ির এক মাথা ধরে টান দিতেই খুলে গেল বস্তার মুখ। অমনি বস্তার ভেতর হতে বেরিয়ে পড়ল হাজার হাজার মৌমাছি। আর ঝাঁপিয়ে পড়ল সিংহ রাজার ওপর। সিংহ রাজা হতবাক হয়ে কী করবে বুঝতে পারলো না। ছটফট করতে করতে ছুটে গেল নদীর দিকে। মৌমাছির আক্রমণ হতে বাঁচার কোনো উপায় না দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ল নদীতে। জলের ভেতরেও চলল মৌমাছিদের অত্যাচার। এতো অত্যাচার সহ্য করে আর নদী হতে ডাঙায় উঠে আসতে পারল না। নদীতেই সিংহ রাজার জীবনের ইতি ঘটল। বনের মাঝে শান্তি ফিরে এলো। সবাই সুখ-শান্তিতে বাস করতে লাগল। 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ