বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

করোনার উৎপত্তি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ বাইডেনের

২৭ মে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এএফপি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বে চলমান মহামারির জন্য দায়ী করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাইডেন। বিস্তারিত তদন্তে অংশ নেওয়ার জন্য চীনের ওপর চাপ দেওয়ার কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

স্থানীয় সময় ২৫ মে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, চলতি মাসের শুরুতে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন তিনি পেয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বাড়তি প্রয়াস চালিয়ে এ ভাইরাস কীভাবে প্রথম মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে, সে বিষয়ে একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নিবিড় তদন্তের আওতায় চীনকে এ নিয়ে প্রশ্ন করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন তিনি।

২০১৯ সালের শেষ দিকে কোভিড-১৯-এর প্রথম সংক্রমণ ঘটে চীনের উহানে। এরপর সংক্রমণ বিস্তৃত হয় সারা বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, করোনায় এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১৬ কোটি ৮২ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ। করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

করোনার উৎপত্তি নিয়ে এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি। কখনো বলা হয়েছে, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রথম সংক্রমিত হয়েছে। আবার উহানের ল্যাব থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে বলেও প্রচার-প্রচারণা আছে। তবে এ ভাইরাস ঠিক কীভাবে ছড়িয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত তা প্রমাণ করা যায়নি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা ভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণের জন্য চীনই দায়ী। তাই চীনকে এই মহামারির দায় নিতে হবে।

চীনের বিরুদ্ধে কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকেন যে দেশটি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে করোনার সংক্রমণ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল। এমন সব তত্ত্ব ও অভিযোগের বিষয় চীন সব সময় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

দিন কয়েক আগে মার্কিন পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল করোনা নিয়ে আগে প্রকাশিত হয়নিÍএমন একটি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উহানের একটি ল্যাবে কর্মরত তিনজন গবেষক অসুস্থতা নিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে চীনের তথ্য প্রকাশের আগেই এ ঘটনা ঘটেছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এ প্রতিবেদনের পর উহানের ল্যাব থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে বিদ্যমান সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

উহানের ল্যাব পর্যন্ত তদন্ত বিস্তৃত করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব প্রয়াসকে সমন্বিত করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাইডেনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা বিশ্বের সমমনাদের সঙ্গে নিয়ে চীনের ওপর এ বিষয়ে চাপ প্রদান করবে। একটি স্বচ্ছ, প্রমাণভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্ত পরিচালনার প্রয়াসের কথা বলেছেন বাইডেন।

করোনা ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানের জন্য চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা চীন গিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের চীন পূর্ণ সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা করোনার উৎস সম্পর্কে কোনো পূর্ণ সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন করে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করার ব্যাপারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। এমন তদন্তে চীনকে এগিয়ে আসতে হবে। তদন্ত দলের সব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার চীনকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে- চীন: করোনা ভাইরাসের উৎস খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের তোড়জোড়ের মধ্যে চীন জানিয়েছে, এটা নিয়ে রাজনীতি হলে তা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে আর সেইসঙ্গে মহামারী দমনে বিশ্ববাসীর প্রচেষ্টাকেও খাটো করবে।

গত বুধবার বিকেলে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “কিছু রাজনৈতিক শক্তি দোষ চাপানো এবং রাজনৈতিক কারসাজির পথ বেছে নিয়েছে।” কোভিড-১৯ এর উৎস খুঁজতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বিতীয় দফায় অনুসন্ধান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়ায় তদন্তকারীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া নিয়ে চাপে আছে চীন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ