সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

ইসরাইলে কোনো বাংলাদেশী গেলে শাস্তি পেতে হবে -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ইসরাইলকে দেশ হিসেবে স্বীকার করে না বাংলাদেশ। তাই সেখানে কোনো বাংলাদেশী গেলে তাঁর শাস্তি পেতে হবে। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় গতকাল বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন। ফিলিস্তিনকে ওষুধসামগ্রী উপহার হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি এবাদুল করিম।
আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের পরীক্ষিত বন্ধু। ১৯৭২ সাল থেকেই আমরা তাদের পাশে থেকেছি। আমরা ইসরাইলকে দেশ হিসেবে স্বীকার করি না। যত দিন আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দিচ্ছি, তত দিন কোনো বাংলাদেশী সেখানে যেতে পারবেন না। কোনো বাংলাদেশী সেখানে গেলে শাস্তি পেতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম পাসপোর্ট সংশোধন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তবে ইসরাইল নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব সুস্পষ্ট। ফিলিস্তিন নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, মাস ছয়েক আগে বাংলাদেশ সরকার ই-পাসপোর্ট থেকে ইসরাইল প্রসঙ্গটি বাদ দেয়। বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট থেকে ইসরাইল ছাড়া সব দেশে ভ্রমণ করা যাবে কথাটি বাদ পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ঢাকায় ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ সরকার বলছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের ইসরাইল ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এ পরিবর্তন করা হয়েছে পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মানের স্বার্থে।
বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে পাওয়া ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধসামগ্রী আজকের অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে উপহার দেওয়া হয়। ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ফিলিস্তিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এসব ওষুধসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনীর জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  এ সহায়তার জন্য ঢাকায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেছেন, ফিলিস্তিনের প্রকৃত বন্ধু বাংলাদেশ। আমরা শুরু থেকেই এই দেশের সরকার ও জনগণের সহায়তা পেয়ে আসছি। তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর বাংলাদেশে আছি। তবে গত ১৪ দিন ধরে বাংলাদেশের মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। গাজা হামলার পর এ দেশের মানুষ আমাদের বিপুলভাবে সহায়তা করেছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার আমাদের দু’টি ব্যাংক হিসাব করতে সহায়তা করেছে। এছাড়াও কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিংয়েও টাকা পেয়েছি। আমরা এই সহায়তা গাজায় পাঠাবো। তবে ঠিক কত টাকা পেয়েছি, এখনও হিসাব হয়নি। সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশী পাসপোর্টে আগে লেখা থাকতো ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরাইল। অর্থাৎ এই পাসপোর্ট ইসরাইল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের ক্ষেত্রে বৈধ। সম্প্রতি ইস্যুকৃত কিছু ই-পাসপোর্টে দেখা গেছে, সেখানে দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড লেখা। অর্থাৎ এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ। এক্সসেপ্ট ইসরাইল বা ইসরাইল ব্যতীত শব্দ দুটি অনুপস্থিত। বাংলাদেশী পাসপোর্টের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-মহাপরিচালক গিলাদ কোহেন টুইট করেন, সেখানে তিনি ইসরাইল ভ্রমণে বাংলাদেশীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করে সাধুবাদ জানান।
বিষয়টি স্পষ্ট করে গত ২৩ মে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশী ই-পাসপোর্টে ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ইসরাইলী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে দেয়া টুইট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। মূলত বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত অংশটুকুর অনুপস্থিতির কারণে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশী ই-পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য ওই অংশে পরিবর্তনটি আনা হয়েছে। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের ইসরাইলে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা অপরিবর্তিতই থাকছে। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজা ও আল-আকসা মসজিদে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলী দখলদার বাহিনীর নৃশংসতার নিন্দা জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যুতে জাতিসংঘ স্বীকৃত রেজুলেশনের আলোকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এবং পূর্ব জেরুসালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখার নীতিগত অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করছে বাংলাদেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ