সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

ইসরাইলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর নৃশংসতা ও অপরাধের জন্য ইসরাইলী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।
গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলী নৃশংসতা: কোথায় মানবতা শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ আহ্বান জানান। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি) এর অধীন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের (সিপিএস) উদ্যোগে এই ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়। ওয়েবিনারে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ফিলিস্তিনে ভবিষ্যত সহিংসতা মোকাবিলায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিতে অবিলম্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সব সম্মিলিত প্রচেষ্টার মূল বিষয় হওয়া উচিত। ফিলিস্তিনীদের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন ও সংহতি সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিলিস্তিনীদের অধিকারের জন্য বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে সোচ্চার ছিলেন।
ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলীদের নৃশংসতার ক্ষেত্রে মানবাধিকার অবহেলিত হয়েছে। মানবতা আজ কোথায়, এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সম্ভাব্য ন্যায়বিচারের অভাবে ফিলিস্তিনীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। গত তিন দশকে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনীদের পক্ষে কিছুই দেয়নি।
ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা সবসময় মানবতার কথা বললেও তারা ইসরাইলী হামলার কোনো নিন্দা করে না। বরং অস্ত্র দিয়ে আরও সাহায্য করেছে। বাংলাদেশী সরকার ও জনগণকে ফিলিস্তিনীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। সাবেক পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক বলেন, এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত। কার্যকর সমাধানের জন্য জাতিসংঘ, ওআইসি এবং আইসিসির ভূমিকা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন তিনি। যদিও ইসরাইলের যেকোন বহুপাক্ষিক হস্তক্ষেপ না মানার ইতিহাস রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক ইসরাইলের বিরুদ্ধে আনীত যুদ্ধপরাধের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মতামত ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ফিলিস্তিনী ইস্যুটি কেবল মুসলমান হিসেবে নয় বরং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী যেকোন ব্যক্তিই ফিলিস্তিনীদের সংগ্রাম ও দুর্দশা উপেক্ষা করতে পারবে না। ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার জয়লাভ করবে এবং ফিলিস্তিনীরা তাদের জমি, স্বাধীনতা ও জীবিকা ফিরে পাবে।
ফিলিস্তিনে সাম্প্রতিক ইসরাইলী হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়ন করার সময় ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, গণমাধ্যমের ওপর পশ্চিমাদের একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। চলমান ইসরাইলী নৃশংসতার চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ফলে সারা বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন বেড়েছে এবং ইসরাইলের বর্বর হামলা নিন্দিত হয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের পিন অধ্যাপক আবদুর রব খান বলেন, যদিও ক্যাম্প ডেভিড অ্যাকর্ড ও অসলো শান্তি প্রক্রিয়ার মতো বিভিন্ন শান্তি আলোচনা হয়েছে তবে বিশ্বজুড়ে সমর্থিত ইসরাইল প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে এই সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ওয়েবিনারটি শুরু হয় সহযোগী অধ্যাপক এবং সিপিএসের সদস্য ড. বুলবুল সিদ্দিকীর স্বাগত বক্তব্য দিয়ে। এসআইপিজির পরিচালক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক এম. হক ওয়েবিনারটির সঞ্চালনা করেন। ওয়েবিনারটিতে শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বিষয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ