শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

শাওয়াল মাস ও রমাদান পরবর্তী এগারো মাসে করণীয়

মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক : আরবী বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল। ‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। অভিধানে এর অর্থ হলো: উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারি হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা। এ মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়, নেকির পাল্লা ভারি হয়, গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে। এটি হজ্জের তিনমাস তথা শাওয়াল, জিলক্বদ ও জিলহজ্জের মধ্যে প্রথম মাস। এ মাসের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর বা রমাদানের ঈদ এবং ছদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
রমাদান উত্তর ঈদুল ফিতর, ছদাকাতুল ফিতর, হজ্জের সংশ্লিষ্টতাসহ এ মাসটি তার অবস্থান ও মর্যাদার কারণে ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ইতোমধ্যে বিদায় হয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমাদান। এরপর মহাবরকতের বারতা নিয়ে সমাগত শাওয়াল মাস। রমাদানে মাসব্যাপী যারা সিয়াম সাধনা করেছেন তাদের জন্য এ মাসে বাড়তি সুসংবাদ রয়েছে। তা হলো শাওয়াল মাসের ৬ টি সিয়াম। আবূ আইয়ূব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে নর-নারী রমাদান মাসে সিয়াম পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়দিন সিয়াম পালন করলো, সে যেন সারা বছরে সিয়াম পালন করলো। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৫, জামিঈ লিত তিরমিজী, হাদীস নং ৭৫৯, সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ১৭১৫, ১৭১৬, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৭৩০, ৩৭৩৫, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২৩৫৩৩, ২৩৫৬১, সুনানুদ দারিমী, হাদীস নং ১৭৫৪, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৭৯২১, আল মু’জামুল কবীর লিত ত্বাবারানী, হাদীস নং ৩৯০২,৩৯০৩)।
সারা বছরে সিয়াম পালন করার ব্যাখ্যা : আরবী হিসেব অনুযায়ী ৩৬০ দিনের কমে বছর হয়। রমাদানের ৩০ টি এবং শাওয়ালের ৬ টি সিয়াম, (৩০+৬=৩৬) সিয়ামের সংখ্যা ৩৬টি। এবার সওয়াবের দিক থেকে ১=১০, তাহলে ৩৬দ্ধ১০=৩৬০ দিনের সওয়াব।
একে দশগুণ কুরআনুল কারীমের ঘোষণা : ভালো ও মন্দ কর্মের প্রতিদান প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি একটি সৎকাজ করবে, তাকে দশগুণ প্রতিদান দেয়া হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি একটি পাপ করবে, তাকে শুধু এক পাপের সমান বদলা দেয়া হবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আল আনআম আয়াত: ১৬০) উক্ত আয়াতে প্রত্যেক সৎকাজের প্রতিদান দশগুণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে, যদিও তা সর্বনিম্ন পরিমাণ। আল্লাহ তা’আালা স্বীয় কৃপায় আরো বেশি দিতে পারেন।  
দশগুণের বর্ণনা হাদীসে : দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরজ। কোনো বান্দা এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলে আল্লাহ তা’আলা তাকে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের বিনিময় দান করার অঙ্গীকার করেছেন। কেননা, আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন.... আমার ওপর দিনরাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে।
এরপর আমি মূসা (আ) এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উপর কি ফরজ করেছেন? আমি বললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত! তিনি বললেন, আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং একে আরো সহজ করার আবেদন করুন।..... শেষে আল্লাহ তায়ালা বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! যাও দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হলো। প্রতি ওয়াক্ত সালাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত তথা দশ ওয়াক্ত সালাতের সমান সওয়াব রয়েছে। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৩৪২, ১৫৫৫, ৩০৩৫, ৩১৬৪, ৭০৭৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৯, ৪৩৩, মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২৫০৫, ১৭৮৩৩, ২১২৮৮, মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৬৫৭০, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৫০, ৭৪০৬, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৯৯, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্বাবারানী, হাদীস নং ৩৮৭৯)
সহীহ হাদীসে এসেছে, আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক নেক আমলের প্রতিদান দশগুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬৩, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৯৭১৪, ১০১৭৫, ১০৫৪০, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ২৩৫৯০, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৮, ৩৮২৩, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৫৭৯,  সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ১৮৯৭)
উল্লেখ্য যে, এ ৬ টি রোজা শাওয়াল মাসে পালন করতে হয়। তবে ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকেও আরম্ভ করা যায়। শাওয়ালের ছয়টি রোজা নারী-পুরুষ সবার জন্যই সুন্নত ও অনেক সওয়াবের আমল। মাসের শুরু-শেষ কিংবা মাঝামাঝি সব সময়ই রাখা যায় এ রোজাগুলো।
একনাগাড়ে অথবা মাঝে গ্যাপ রেখে পৃথকভাবেও রাখা যায়। শাওয়াল মাসে শুরু করে শাওয়াল মাসে শেষ করলেই হলো। শাওয়াল মাসটি হজ্জ ও যিয়ারতের প্রস্তুতিপর্ব হিসেবেই বিশেষভাবে পরিচিত। এ মাসে মানাসিকে হজ্জ ও যিয়ারতে গমণকারী আল্লাহর বান্দাগণ নিজেদেরকে এর জন্য প্রস্তুত করার কাজে মনোনিবেশ করে থাকেন।
রমাদান পরবর্তী এগারো মাসের অব্যাহত আমল : এ মাসে ও রমাদান পরবর্তী এগারো মাসে নফল সিয়াম ও সালাতসহ অন্যান্য নেক আমল আদায় করাও খুবই উপকারী। যেমন,
কুরআন ও হাদীস অধ্যয়ন : কুরআনুল করীম নাযিলের কারণে রমাদানের যাবতীয় আমলের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা এসেছে। সেকারণে আমরা রমাদান মাসে কুরআনের তাফসীর স্ট্যাডি, তরজমা অধ্যয়ন, তিলাওয়াত, খতমে কুরআন, গুরুত্বপূর্ণ আয়াত ও সূরা মুখস্ত করার চেষ্টা করি। কুরআনুল করীম বান্দার জন্য জান্নাতের সুপারিশ করবে এবং হুজ্জাত বা দলীল হিসেবে আল্লাহর দরবারে উপস্থাপিত হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫৬, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৮৪৪, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৬৬২৬, ২২৯০৮, জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫১৭, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৮০, সুনানুল বাইহাক্বী, হাদীস নং১৮৫, সুনানুদ দারিমী, হাদীস নং৬৫৩, সুনানুন নাসাঈ, হাদীস নং ২৪৩৭, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ১৯৯৪, ২৭০৯,২৮০৫, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ২০৫০, ২৩৫৭৫, ২৫৯৯৮, ২৬০২৮, ৪৩৫৮৫) হেতু রমাদানের পরেও সারাবছর কুরআনের সাথে আমাদের তায়াল্লুক ও মুলাঝামাত থাকা দরকার। প্রতিদিন ২/৩ টি করে আয়াতের তিলাওয়াত, ব্যাখ্যা, তাফসীর স্ট্যাডি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা দরকার। সালাতে তিলাওয়াতকৃত সূরা ও আয়াতসমূহের অর্থ এবং মর্মার্থ উপলদ্ধি করার প্রচেষ্টা করা অতীব প্রয়োজন। এতে ঈমানী তরক্কী বৃদ্ধি পাবে এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভ সহায়ক হবে।
কুরআনুল করীমের ব্যাখ্যা হাদীস। মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সা) এর বিশাল হাদীসের ভান্ডার হতে প্রতিদিন ২/৩ টি হাদীস অধ্যয়নে জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধ হবে। প্রতিদিনের কুরআন ও হাদীস অধ্যয়নের জযবা আমাদের ঈমান, তাক্বওয়া, ইখলাছ, তাওয়াক্কুল, ইহসানসহ মৌলিক মানবীয় গুণাবলী অর্জনে মু’মিনে কামিল ও ইনসানে কামিলে উন্নীত করবে।  
সালাত আদায় : রমাদানকে ইবাদতের মৌসুম বলা যায়। রমাদানে প্রতিটি মসজিদে মুসুল্লীদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ার মত। হাদীসে এসেছে, মহান আল্লাহর নিকট ঐ আমল প্রিয় যে আমল পরিমাণে কম হলেও স্থায়িত্ব বেশি। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৫৫২৩, ৬০৯৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৬৩, ১৮৬৬, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩২৩, ৩৫৩, ১৫৭৮, ২৫৭১, সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ১৬২৬, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১২২৫, ৪২৩৭, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২৪৩২২, ২৫৩১৭, ২৬১৩১, ২৬৩০৭, ২৬৩৪৩, ২৬৭২৬, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ৫২৯৯, ৫৩০৯, ৫৪০১, ৫৪৭৬, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্বাবারানী, হাদীস নং ৭৮৯৬)
তাহাজ্জুদসহ নফল সালাত : রমাদান মাসে সাহরী করতে শেষ রাতে জেগে আমরা সাধারণত: তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের চেষ্টা করেছি। সারাবছরে প্রতি রাতের শেষাংশে মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে এসে ফরিয়াদকারীর ফরিয়াদ শুনেন ও তা মঞ্জুর করেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করেন। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১০৯৪, ৫৯৬২, ৭০৫৬, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৯২০, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৬৬, ১৩৬৭, সুনানুদ দারিমী, হাদীস নং ১৪৭৯, সুনানু আবী দাউদ, হাদীস নং ১৩১৭, ৪৭৩৫, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৭৫৯২, ৭৬২২, ১০৩১৩, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ২১০৬, ১৯৬৫৩, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ৩৩৫২, ৪৪৮৫, ১৯৪৮৫, আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭৫৩, আল মু’জামুল আওসাত্ব, হাদীস নং ৫৩৬২) অতএব ফরজ সালাত আদায়ের পাশাপাশি তাহাজ্জুদসহ নফল সালাত আদায়ে যত্নবান হবার চেষ্টা করবো।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করো। (সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াত: ৪৫)। মহানবী (সা) যেকোনো সংকট, সমস্যা বা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেই সালাতে দাঁড়িয়ে যেতেন, আল্লাহর দরবারে ধরণা দিতেন। সহীহ হাদীসে এসেছে, গাযওয়ায়ে বদরের প্রাক্কালে তিনি সালাতে দাঁিড়য়ে যান এবং ফরিয়াদ করে বলেন, আয় আল্লাহ তোমার যাত ও ইযযতের কমস! আজকের এ সম্মুখযুদ্ধে বিজয়ী না হতে পারলে তোমার যমীনে আল্লাহর ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাঁর সাহায্য নাযিলের মাধ্যমে বিজয়ের ঘোষণা দেন। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ২৭৫৮, ৩৭৩৭, ৪৫৯৪, ৪৫৯৬, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৩০৪২, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৯৭৩৭, আল মু’জামুল কবীর, হাদীস নং ১০২৭০, সুনানুন নাসাঈ, হাদীস নং ৮৬২৮, ১০৪৪২) অতএব রমাদানের পরেও অব্যাহতভাবে তাহাজ্জুদ, চাশতম, ইশরাক ও আওয়াবীন সহ নফল সালাতের আমল অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট হতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা দরকার।
নফল সাওম পালন : রমাদানের শাওয়ালের ৬ সিয়ামের পাশাপাশি মহররমের সাওম পালন করা। সহীহ হাদীসে এসেছে, রমাদানে সিয়ামের ফরজ হবার পূর্বে রসূল (সা) আশুরার সাওম রাখতেন ও সাহাবাদের রাখতে নির্দেশ দিতেন। রমাদানের পরেই সর্বোত্তম সাওম হলো মহররমের সাওম এবং মহররমের আশুরার সাওম বিগত এক বছরের গুণাহের কাফ্ফারা হবে। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০০, ৪২৩৩, ৪২৩৪, ২৬৯৫, ২৬৯৬, ২৬৯৮, ২৭০৩২৭০৪, ২৭০৭, ২৭২২, ২৮০৩, ২৮০৪, সুনানু আবী দাউদ, হাদীস নং ২৪২৭, ২৪৪৪, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৫২০৩, ১৬৫০৭, ২২৫১৭, ২২৫৮৯, ২২৬৫০, ২৪০১১, ২৪২৩০, ২৫২৯৪, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৩২, সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২০৮৭, জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ৭৫২, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৩৮) প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়্যামে বীযের সাওম।
এ সিয়ামের মাধ্যমে সারা বছর সিয়ামের সওয়াব আল্লাহ তাআলা দিবেন। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৮৮০, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৩৮, ৩৬৫৬, সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২১২৭, ২১২৯, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২০৩১৯, ২০৩২১, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৮৪৮, ৩৮৫৩, আল মু’জামুল কবীর লিত ত্বাবারানী, হাদীস নং ২৪৯৯, ১৬৬৯৪, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ২৪১৮৬, সুনানুল বাইহাক্বী, হাদীস নং ৮২২৬, ৮২২৭) আবার আরাফার সাওম বিগত একবছর ও  আগামী এক বছরের গুণাহ মাফ হয়ে থাকে। এক বর্ণনায় বিগত দুই বছর ও আগামী দুই বছরের গুণাহ মাফ করা হয়ে থাকে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮০৩, ২৮০৪, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২২৫১৭, ২২৫৮৯, ২২৬৫০, ২৪৯৭০, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৩১, ৩৬৩২, সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২০৮৭, জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ৭৪৯, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম, হাদীস নং ৪১৭৯, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৩০) অনুরূপভাবে প্রতি সোমবার ও বৃস্পতিবারের সাওম (সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ২১১৯, জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ৭৪৫, সুনানুদ দারিমী, হাদীস নং১৭৫০, মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বা, হাদীস নং ৯২২৭, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৮৩৬১, ২১৭৮১, ২১৭৯১, ২১৮১৬, ২৬৪৬১, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ১৮০৬৫, ২৪৫৬০, ২৪৫৭৭, আল মু’জামুল কবীর, হাদীস নং ৯৪২, ১০২৩৩,  সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৪০, সুনানুল বাইহাক্বী, হাদীস নং ৮২১৮) সহ ব্যাপক নফল সাওম পালনের চেষ্টা করা উচিত।  
নফল দান-ছদাক্বা : রমাদান মাসে অবারিত সওয়াবের ভাগী হবার জন্য আমরা অকাতরে দান-ছদাকা করে থাকি। মহানবী (সা)ও এ মাসে অধিক পরিমাণে দানের হাত সম্প্রসারিত করতেন। সহীহ হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা) অধিক দানশীল ছিলেন।
বিশেষ করে রমাদান মাসে তাঁর দানশীলতা অধিকমাত্রায় বৃদ্ধি পেত। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ