সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার : কলেজশিক্ষার্থী মোসারাত জাহানকে (মুনিয়া) আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হওয়ার পর মৃত মোসারাত জাহানের নামে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। মামলার বাদী মোসারাতের বোন ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, ‘মোসারাত হত্যাকাণ্ডকে শুরু থেকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য একটি মহল খুবই তৎপর। কেউ আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলে তার খুব বিপদ বলে বড় বোনকে দ্রুত আসতে বলবে কি?’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, মোসারাতের বড় বোন ও মামলার বাদী নুসরাত জাহান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব হাসান, আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুল্লাহ মেজবাহ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি আইরিন আহমেদ প্রমুখ।
রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাসা থেকে গত ২৬ এপ্রিল কলেজশিক্ষার্থী মোসারাত জাহানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোসারাতের বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এ ছাড়া মোসারাতের মৃত্যুর ছয় দিন পর তার বড় ভাই আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকার একটি আদালতে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের নামে হত্যা মামলা নেওয়ার আবেদন করেন।
‘আমার ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করে চলে গিয়েছিল মুনিয়া’
বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের ভালোবাসায় মোসারাত জাহান মুনিয়া তার বোনকে প্রত্যাখ্যান করে চলে গিয়েছিল। তাই মুনিয়াকে নিয়ে বেশি কথা বলতে রাজি নন তার বোন নুসরাত। এসব কথা বলেন মুনিয়ার বোন নুসরাত। এসময় মুনিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়িদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
নুসরাত বলেন, ‘মুনিয়াকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু আমি তাকে নিয়ে কথা বলতে চাই না। আনভীরের ভালোবাসায় সে আমার ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে গেছে।’
বাড়ি ভাড়া করতে দিয়েছেন কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু কাজে আমি তার জেদের কাছে পরাজিত হয়েছিলাম। ‘২৬ এপ্রিল সকালে সে আমাকে ফোন করে বলেছে, আনভীর তাকে নানারকম অপবাদ দিচ্ছে। আমি জানতে চাইলাম কী অপবাদ? সে বললো আজকে আমি তোমাকে সব বলে দেবো। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি অনেক ভুল করেছি। আনভীর আমাকে অনেক ধোঁকা দিয়েছে। এরপর সে অনেক চিৎকার করেছে। কান্নাকাটি করেছে।’
অপবাদ প্রসঙ্গে নুসরাতের ভাষ্য- ‘মুনিয়া নাকি আনভীরের শত্রু শারুনের সঙ্গে যুক্ত। আমি জানতে চাইলাম শারুন কে? মুনিয়া বললো, তুমি এলে আমি সব বলবো।’
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, সাধারণত কোনও এজাহার হলেই পুলিশ উচ্চ অভিযোগকৃত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়। সন্দেহভাজন অনেককেই গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে। মুনিয়া হত্যা মামলার ক্ষেত্রে প্রধান আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কি আমরা বুঝে নেবো যে প্রশাসন তাদের হাতে জিম্মি?’
তিনি আরও বলেন, “এটা হত্যাকাণ্ড না আত্মহত্যা এটা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। মৃত্যুর আগে শারমিন সাহেদ ও মুনিয়ার বড়বোন তানিয়ার ফোনালাপে মুনিয়ার মৃত্যু আশঙ্কায় উদ্বেগ, লাশ উদ্ধারের সময় রুমের দরজার অবস্থান, লাশের অবস্থান, রুমের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ও মুনিয়ার লিখিত ডায়েরিসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনায় অবস্থাদৃষ্টে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও বলয়ের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে মুনিয়া হত্যার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি। আনভীর দেশে না বিদেশে তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি ও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ‘মুনিয়া হত্যায়’ ন্যায়বিচার আদৌও হবে কিনা তা নিয়েও আমরা শঙ্কিত।”
এসময় কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বপর্যায়ের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যৌক্তিক দাবি আদায়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ