সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

চট্টগ্রামে দিনে রাতে মশার উৎপাতে নগরবাসী এখন অস্থির -ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি'র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম একশ দিনে কোনো কাজেই সফল হতে পারেন নি। মেয়রের ব্যর্থতার কারণে চট্টগ্রামে যে মেয়র আছে এটাও দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে করোনা মহামারির এই সময়ে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াসহ যে হারে মশার উৎপাত বেড়েছে তাতে নগরবাসী আতঙ্কিত। মশার উপদ্রবে মানুষ ঘরে টিকতে পারছে না। দিনে রাতে মশার উৎপাতে নগরবাসী এখন অস্থির। মেয়রের মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যেহেতু মেয়র জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি তাই নগরবাসীর প্রতি তার কোন দায়বদ্ধতাও নেই। ডা. শাহাদাত হোসেন নগরবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের বাসাবাড়ী ও আশেপাশের এলাকা নিজেদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহবান জানান। তিনি মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানঘাটা আয়েশা মসজিদের সামনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচীর ৫ম দিনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে এসব কথা বলেন। এরআগে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম আলহাজ মো. ইউসুফের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করে মরহুমের কবর জেয়ারত করেন নেতৃবৃন্দ।
ডা. শাহাদাত বলেন, ইশতেহার অনুযায়ী মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ভাঙা সড়ক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজে কোনো অগ্রগতি দেখতে পায়নি নগরবাসী। তার উপর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা নিরসন কাজের জন্য খাল নালায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্জ্য ও মাটি দিয়ে ভরাট হওয়ায় বিভিন্ন খাল নালায় স্বাভাবিক পানি চলাচলে ব্যঘাত ঘটছে। এই জমে থাকা পানির কারণে খাল-নালাগুলোতে মশার প্রজনন বাড়ছে। সঠিক সময়ে নালা নর্দমা পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসমে খাল নর্দমা পরিষ্কার না করলে প্রতিবারের মত এবারও নগরবাসীকে পানিতে ডুবে থাকতে হবে।
এসময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা। তার শাসনামল ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। কৃষি থেকে শুরু করে রেমিটেন্সসহ অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন সেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে বাংলাদেশকে উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাড়াতে পারতো। কিন্তু দেশি ও বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে তিনি তা করতে পারেনি। বিপদগামী সেনা সদস্যদের হাতে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এ চট্টগ্রামের মাটিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের রক্ত মিশে আছে। এ চট্টগ্রাম থেকে জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে যাবো আমরা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলেন। হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে দেশের জনগন। এমনি এক অনিশ্চয়তার মধ্যে চট্টগ্রামের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে তিনি পাক বাহীনির বিরুদ্ধে "উই রিভোল্ট" বলে বিদ্রোহ ঘোষনা করেন। অষ্টম ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে প্রতিরোধের মশাল জালিয়েছিলেন। সেদিন অমানিশার ঘোর অন্ধকারে উজ্জল নক্ষত্রের মতো জিয়াউর রহমান উদয় হয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জিয়াউর রহমান এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি'র সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপি নেতা এমআই চৌধুরী মামুন, মো. ইদ্রিস আলী, হাশেম সওদাগর, মো. শাহজাহান, আবদুল আজিজ, ইসমাঈল বাবুল, আলী ইউসুফ, আবদুস সবুর, পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল সগির, সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মহিউদ্দীন, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড সভাপতি মো. সেকান্দর, বাকলিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ