সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

এক কিলোমিটার যেতে ঘুরতে হয় ২০ কিলোমিটার

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : একটি ব্রিজের অভাবে ১০ গ্রামের মানুষকে ২০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। জমি চায়,ফসল ঘরে তোলা, কিংবা সাভাবিক চলাচলেও চরম কষ্ট পোহাতে হয়। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেষা  কোদলা নদীর দু’পাড়ের মানুষ এই দূর্ভোগ পোহাচ্ছে বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে। নদীর পূর্ব পাশে মাটিলা,লেবুতলা, যাদবপুর ও কানাইডাঙ্গা। পশ্চিম পাশে রয়েছে মকরধ্বজপুর, দরবেশপুর, রুলি, ভৈরবা, মোমিনতলা, গোপালপুর, কুটিপাড়া, বাঁশবাড়িয়া, সামন্তাসহ প্রায় ১০/১২টি গ্রাম। আর দক্ষিণের খুব কাছাকাছি রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রেখা।
তবে ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে একটি পাকা ব্রিজ ছিল। এই ব্রিজের সূত্র ধরেই নদীর দু’পাড়ের মানুষের মধ্যে কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠে। তবে দেশ স্বাধীনের আগেই ব্রীজটি ভেঙ্গে যায়। ফলে নদী পাড়ের দু’পাশের মানুষ দূর্ভোগে আছে যুগ যুগ ধরে। দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরে এখানে ব্রিজ না হওয়ায় নদী পাড়ের মাটিলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার অপর পাশে থাকা প্রায় দুইশত বিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ বাঁশের সাঁকো। আর শুষ্ক মৌসুমে পায়েহেটে পানি পার হয়ে তাদের প্রয়োজনী কাজ করতে হয়।
ব্রিজের পূর্ব পাশের গ্রাম মাটিলার বাসিন্দা বয়বৃদ্ধ ওয়াজেদ আলী জানান,  গ্রামের তরফদার পরিবারের নদীর ওই পাশে একশত বিঘা জমি ছিল কিন্তু চাষ করার পর ফসল বাড়িতে আনতে অসুবিধার কারনে সে সব জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। নদীর পশ্চিমপাশে মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রুলি মাধ্যমিক স্কুল ও শহিদুল ইসলাম কলেজ এবং একটি ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে। যেখানে এলাকার ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে। বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের প্রায় ১২ কিলোমিটার ঘুরে স্কুল কলেজে যেতে হয়। ব্রিজের পশ্চিম পাশের গ্রাম মকরধ্বজপুর গ্রামের বাসিন্দা খেলাফত মন্ডল, দেলোয়ার হোসেন ও হবিবর রহমান জানান, ব্রিজটি করা একান্ত প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে দু’পাশের মানুষের সাথে কোনে যোগাযোগ থাকে না। ফলে স্বাস্থ্য সেবা,লেখাপড়া,আত্মীয়তার সর্ম্পক, কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা যাদবপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম শাহীদুল ইসলাম নদী পাড়ের মানুষের দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, ব্রিজটি নির্মাণের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাশ হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
মহেশপুর ৫৮বিজিবির মাটিলা ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার সোহরাব হোসেন জানান, কোদলা নদীর প্রস্তাবিত এই ব্রিজটির পূর্ব পাশে অবস্থিত মাটিলা বিজিবি ক্যাম্প। নদীর পার হয়ে অপরপাশে (পশ্চিম) আমাদের আরো তিন কিলোমিটার পর্যন্ত মাটিলা বিওপির আওতায় রয়েছে। যখন নদীতে পানি থাকে, তখন নদীর পশ্চিম পাশে কোনো সমস্যা হলে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।  ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ব্রিজটি না হওয়ায় কয়েক গ্রামের মানুষের যাতায়াতে প্রকট সমস্যা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের দূর্ভোগ বেড়ে যায় বহুগুণ। ইতোমধ্যে ব্রিজটি নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ