শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের ভ্যাট মওকুফের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন ব্যবসার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভ্যাট মওকুফের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা। ম্যানুফেকচার খাত এবং দেশীয় পণ্য বিক্রি করছেন, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের এমন উদ্যোক্তাদের ভ্যাট মওকুফের এ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তারা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিড পরিস্থিতিতে অনলাইন ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। নারীদের যুক্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। বর্তমানে অনলাইন ব্যবসার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। ভ্যাট মওকুফ করা হলে উদ্যোক্তাদের পক্ষে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সহজ হবে। এছাড়া সিএমএসএমই খাতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় আগামী বাজেটের বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, সিএমএসএমই খাতে অনিবন্ধিত উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।  

গত রোববার 'সিএমএসএমই এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ প্রাক বাজেট আলোচনায় বক্তারা এ দাবি জানান। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশ (এএফডিবি) যৌথভাবে এ প্রাক বাজেট আলোচনার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় বক্তরা এসএমই খাতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থছাড় ও ডিজিটালাইজেনশনের আওতায় নিয়ে আসারও দাবি জানান। 

উদ্যোক্তারা বলেন, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার অর্থ পেলেও ব্যাংকিং খাতের জটিলতায় এসএমই খাতে অর্থছাড় হচ্ছে না। এ কারণে সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণে ব্যাংকিং পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পিকেএসএফ, এসএমই ফাউন্ডেশন, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কাজে যুক্ত পরামর্শ দেন তারা। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এমএমই খাতের সঙ্গে আমাদের একটা দূরত্ব আছে। নানা জটিলতায় এ খাতের প্রণোদনার অর্থ ছাড় হচ্ছে না। এটি দূর করতে হবে। এসএমই খাতে ঋণ, অনুদান এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এ খাত আমাদের জিডিপিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। এম এ মান্নান এমএসই খাতের উন্নয়নে প্রশিক্ষণও গবেষণা খুব জরুরি উল্লেখ করে আগামী বাজেটে এ সব খাতে খাতে বরাদ্দ বাড়াতে ভূমিকা রাখারও আশ্বাস দেন।   

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি এসএমই খাতে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ খাত অনেক বিশাল। এ খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই অনিবন্ধিত। এ কারণে এ খাতে সহায়তা দেয়ার কোনো পদ্ধতি আমরা বের করতে পারছি না। শুধু কিছু অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা দেয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে সহায়তা করতে হলে, নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হবে।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে সিএমএসএমই খাতে। কিন্তু বেশির ভাগেরই উদ্যোক্তারই নিবন্ধন নেই। লাইসেন্সসহ বিভিন্ন অনান্য প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া অনেক উদোক্তা নিওবন্ধন ফি ও দিতে পারেন না। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বরাদ্দ রাখাতে হবে। এসএমই উদোক্তাদের জন্য জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে এ খাতে গবেষণা বাড়াতে বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে, তা ফেরত দেয় না বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তারা। তাদের আবার সুদ মওকুফ সুবিধা দেয়া হয়েছে। অথচ এসএমই খাতে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক, ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, দেশে এসএমই খাতের প্রায় ৬০ লাখ উদ্যোগ আছে। দেশের জিডিপিতে ও উৎপাদনে তাদের অবদান যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ। ৭৮ লাখ মানুষের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন তারা। তবে তারাই অনেক সমস্যার মুখে পড়ছেন। কোভিড-১৯ এর ফলে তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেছে। সিএমএসএমই খাতই কোভিড-১৯ এর প্রথম ওয়েভের আঘাতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়। মহামারির দ্বিতীয় ওয়েভ চলাকালীনও একই সমস্যায় পড়েছেন তারা। তিনি জানান, প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সরকার এসএমই খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অন্যান্য প্রণোদনা প্যাকেজের তুলনায় এর বিতরণ হয় ধীর গতিতে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৮ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায়, প্যাকেজের আওতায় ঋণের সুবিধাভোগী ৯৪ শতাংশই পুরুষ, বাকি মাত্র ৬ শতাংশ নারী উক্ত সুবিধা পান, ড. ফাহমিদা যোগ্যদের মধ্যে দ্রুতগতিতে বরাদ্দের অর্থ বিতরণের তাগাদা দেন। 

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ডিজিটাল ডিভাইস বৈষম্য কমিয়ে আনতে বাজেটে উদ্যোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণায়ও বরাদ্দ দিতে হবে। জীবন ও জীবিকাকে বিবেচনায় এ খাতের বরাদ্দ রাখতে হবে।  

অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশের (এএফডিবি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মানতাশা আহমেদ বলেন, অনলাইনে ব্যবসা সম্প্রসারণ ই-কমার্সে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করার পাশাপাশি নারী উদোক্তাদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে হবে। বিশেষ করে যেসব নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার টার্ন ওভার ১০ লাখ টাকার নিচে তাদের এ সুবিধা দেয়া দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ