ঢাকা, রোববার 20 June 2021, ৬ আষাঢ় ১৪২৮, ৮ জিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ভারতকে অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছে ব্রিটেন

ছবি: রয়টার্স

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারীতে বিপর্যস্ত ভারতের জনগণের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো উড়োজাহাজে করে ১৮ টন ওজনের তিনটি অক্সিজেন জেনারেটর পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এগুলোর সঙ্গে একহাজার ভেন্টিলেটর নিয়ে শুক্রবার নর্দান আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে কার্গো ফ্লাইটটি ভারতের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মালবাহী উড়োজাহাজ আনতোনভ ওয়ানটুফোর-এ জীবন রক্ষাকারী এসব সরঞ্জাম তুলতে রাতভর কাজ করেছেন বিমানবন্দরের কর্মীরা।

রোববার ভারতের সময় সকাল ৮টায় বিমানটির অবতরণের কথা রয়েছে এবং ইন্ডিয়ান রেড ক্রস এসব সরঞ্জাম হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছে এফসিডিও।

১৮ টন ওজনের প্রতিটি অক্সিজেন উৎপাদন ইউনিট - একটি করে ৪০ ফুট দীর্ঘ ফ্রেইট কনটেইনারে বহন করা হচ্ছে - প্রতি মিনিটে ৫০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম, যা একই সময়ে ৫০ জন মানুষের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, “যুক্তরাজ্যের নর্দান আয়ারল্যান্ডে থাকা অতিরিক্ত অক্সিজেন উৎপাদন ইউনিটগুলো সেখান থেকে ভারতে পাঠানো হচ্ছে। প্রাণ রক্ষাকারী এসব সরঞ্জাম ভারতের হাসপাতালগুলোতে সংকটাপন্ন রোগীদের কাজে আসবে বলে আশা করছি আমরা।”

তিনি বলেন, “এই মহামারী থেকে পরিত্রাণ পেতে যুক্তরাজ্য ও ভারত একসঙ্গে কাজ করছে। কেউই নিরাপদ না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সবাইকে সুরক্ষিত করা সম্ভব হচ্ছে।”

সবশেষ এই সহায়তার বিষয়ে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো এবং গত মাসেই যুক্তরাজ্য থেকে ২০০ ভেন্টিলেটর ও ৪৯৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ভারতে পাঠানো হয়, যার তহবিলও দিয়েছে এফসিডিও।

এই সহায়তা প্যাকেজের সঞ্জামাদির যোগনদাতা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সামাজিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিএইচএসসি)।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, “ভারতের পরিস্থিতি হৃদয়-বিদারক এবং চরম সংকটময় এমন মুহূর্তে আমরা আমাদের বন্ধুর পাশেই আছি।”

সহায়তা সরঞ্জামগুলো বিমানে তোলার কাজ পর্যবেক্ষণ করতে বেলফাস্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নর্দান আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিন সোয়ান।

তিনি বলেন, “ভারতের পরিস্থিতি আমারে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে এই ভাইরাস কতোটা ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে এবং এর থেমে যাওয়ার কোন লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি।”

দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় এবং দৈনিক মৃত্যুর রেকর্ড চার হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরবরাহ নিয়ে দারুন সংকটে রয়েছে ভারত।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ এরইমধ্যে তাদের কাছে থাকা অতিরিক্ত জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।-রয়টার্স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ