শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ছুটাছুটি না করে যে যেখানে আছেন সেভাবেই ঈদ উদযাপন করেন -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পায়রা বন্দর প্রান্তে অনুষ্ঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার অবকাঠামো ও জলযান উদ্বোধন করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদ উপলক্ষে ছোটাছুটি না করে যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘করোনার সময়ে বেঁচে থাকলে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তো দেখা হবেই। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ উপলক্ষে সবাই ছোটাছুটি না করে যে যেখানে আছেন সেভাবেই ঈদ উদযাপন করেন। আর যারা বিত্তশালী আছেন, তারা যারা একটু দুস্থ তাদের সহযোগিতা করেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার অবকাঠামো ও জলযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব জলযান ও অবকাঠামো-এর উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে নৌমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুক্ত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

করোনা প্রাদুর্ভাব থেকে সুরক্ষায় থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা যাতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সবার কাছে আমার অনুরোধ। আপনারা স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে চলুন। আর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত একেবারে না পারলেই আপনারা করবেন না। কারণ এই যাতায়াতটা করতে গেলেই কে যে সংক্রমিত হবেন আপনি জানেন না। কিন্তু সে যখন অন্য জায়গায় যাবে অনেক লোককে করোনা সংক্রমিত করবে। তখন তাদের জীবন নিয়ে সমস্যা দেখা দেবে। সেটা যাতে না হয় সেজন্যই আমরা কিন্তু যাতায়াত সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু সেই সঙ্গে দেশের মানুষের আর্থিক ও সামাজিক কর্মকা-গুলো যেন অব্যাহত থাকে, সেটাও সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেটার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

নৌ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আমাদের এই নৌযানগুলো চালান বা পরিচালনা করেন বা যারা ব্যবসা করেন তাদের যাত্রীদের সুরক্ষার দিকটি যেমন দেখতে হবে, যাত্রীদেরও নিজেদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে একটা নৌযানে কতজন মানুষ উঠতে পারে বা চড়তে পারে। ঠেলাঠেলি করে একসঙ্গে বেশি উঠতে গিয়ে তারপর একটা দুর্ঘটনা হবে এবং নিজেদের জীবন চলে যাবে। এ ব্যাপারে সবাইকে একটু সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়া করে যেতে গিয়ে যখন একটা দুর্ঘটনা ঘটে, যে মানুষগুলোর জীবন চলে যায়, আর যারা আপনজন হারিয়ে বেঁচে থাকে তাদের কষ্টের কথাটা একবার চিন্তা করে দেখবেন। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কোনও একটা বিপদ আসলে ধৈর্য ধরতে হবে, সবর করতে হবে। সেই সবরটা সবারই করা উচিত এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেটাই আমরা চাই। এছাড়া যেসব নৌ-যান চলাচল করে আমাদের প্রত্যেকেরই রেজিস্ট্রেশন থাকা উচিত। রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে অনেক সময় কে কার কী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা সেগুলো পাওয়া যায় না। তাছাড়া নৌযানের চলতে গেলে কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে। হয়তো একটা ঘটনা ঘটলো, সবাই এক দিকে ছুটে গেলেন সেটা দেখতে। সেখানে কিন্তু নৌকাডুবি ঘটে যায় বা লঞ্চডুবি হয়ে যায়। কাজেই নিয়মগুলি মেনে চলা একান্তভাবে অপরিহার্য।’

এদিকে গতকাল সকালে যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’সহ বেশকিছু নৌযান এবং  নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি অবকাঠামো উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

অবকাঠামো ও জলযানের মধ্যে রয়েছে বি আইডব্লিউটিএ’র ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজার, ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান, প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘টিএস ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই)’, বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ ‘পরিদর্শী’, নবনির্মিত নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইজ; বি আইডব্লিউটিসির দুইটি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পায়রা আবাসন ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট মেরিন একাডেমি।

এগুলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নৌসেক্টরের উন্নয়নে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে তৈরি ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ শতাধিক নৌযান একসঙ্গে উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এগুলো নদীর নাব্য রক্ষা, নৌপথ উন্নয়ন, উপকূলীয় এলাকার যাত্রী পরিবহন ও দক্ষ নৌকর্মী গঠনে ভূমিকা রাখবে।

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০টি ড্রেজার এবং ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান প্রস্তুত করা হয়েছে। নৌপথ খনন ও নাব্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৮টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ২০টি ড্রেজার বি আইডব্লিউটিএর বহরে যুক্ত হয়ে মোট ৪৫টি ড্রেজারের শক্তিশালী ইউনিট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বর্তমান মেয়াদে ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

বি আইডব্লিউটিসির উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ ও সি-ট্রাক বহরকে দক্ষ ও যুগোপযোগী করতে নবনির্মিত অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’ নির্মাণ করা হয়েছে। জাহাজ দুইটি কুমিরা-গুপ্তছড়া এবং চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ-হাতিয়া-বরিশাল রুটে চলাচল করবে। এ জাহাজ দুইটির মাধ্যমে বছরে ছয় লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।

এদিকে বিশ্ব নৌ-বাণিজ্য অর্থনীতিতে অবদান রাখা ও সমুদ্রগামী জাহাজে দেশের নাবিকদের চাকরির বিশাল সুযোগকে কাজে লাগানোর উদ্দেশে পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন চারটি মেরিন অ্যাকাডেমি। যেখানে ক্রমান্বয়ে বছরে ৪০০ ক্যাডেটের পাশাপাশি সমুদ্রগামী মেরিনাররা বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ৫০০টি বাড়ি হস্তান্তর করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তিন হাজার ৪২৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের জন্য জীবন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ