শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

খাল খনন প্রকল্পে সাবধান হোন -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি কোম্পানিগুলোকে সরকারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের অর্থায়নে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অংশ নেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।
সভায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়। এসময় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিডেট কোম্পানি (বিপিসিএল) এর ৯৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত ওই সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থাগুলোকে সরকারি সহায়তা না নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলেন।
এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন বিটিসিএল তো কোম্পানি। তারা নিজেরা কেন ব্যয় করতে পারে না। সরকার থেকে কেন তাদের টাকা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে তারা বলেছে, তাদের সক্ষমতা অর্জন হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি লাভজনক করার জন্য। পরে সামান্য সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তবনাও হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন এইভাবে সরকারি সংস্থগুলো যেন সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারি এসব সংস্থা বিজনেসের জন্য স্থাপিত। তারা তো লিডিটেড কোম্পানি। তারা যেন নিজেদের আয় থেকে ব্যয় করে। আমরা কতদিন তাদের টাকা দিয়ে চালাতে পারি? সরকারের ফান্ড দিয়ে তাদের চলতে হবে এটা অর্থনৈতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়।’
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেসব সরকারি কোম্পানি আছে, দীর্ঘদিন তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে চালানো ব্যবসায়িক দিন থেকেও সঠিক নয়। আমরা এভাবে কতদিন ক্ষতিপূরণ দেবো। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা হলো, এভাবে সহায়তা করা চলবে না। আপনাদের নিজেদের পায়ে নিজেদের দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
এম এ মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সুপার স্পেশাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা দীর্ঘদিন ঝুলে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যে সময় বাড়ানো হয়েছে এর পর যেন না বাড়াতে হয়।
খাল খনন প্রকল্পের নামে নয়-ছয়ে প্রধানমন্ত্রী সাবধান করে দিয়েছেন উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-সাবধান। খাল খননের নামে যে সকল কাণ্ড হয় তিনি তা জানেন। আমরাও সবাই কম বেশি জানি। তিনি বলেছেন, ওপরের দিকে হালকা পরিষ্কার করে বেশি কাজ দেখানোর একটু প্রবণতা রয়েছে। সেটার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সাবধান করেছেন।’
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, ‘উপজেলা পর্যায়ে যে মিনি স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে বলেছেন। এটা কারও আওতায় থাকবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা অন্য কেউ দেখভাল করতে পারবে। তবে এখানে সবার খেলার অধিকার থাকবে। তিনি বলেছেন, স্টেডিয়াম নয়। এটা হবে উন্মুক্ত খেলার মাঠ। একপাশে বসার জায়গা করা হবে। সেখানটা পাকা করে দেওয়া হবে। এটাকে প্রধানমন্ত্রী এভাবেই চাচ্ছেন।’
্এদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১১ হাজার ৯০১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৯৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ দুই হাজার ৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো- ৯৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন (প্রথম পর্যায়);  ৯১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সাইনবোর্ড-মোড়েলগঞ্জ-রায়েন্দা-শরণখোলা-বগী সড়কের পানগুচি নদীর ওপর পানগুচি সেতু নির্মাণ; এক হাজার ৬৪৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম (দ্বিতীয় পর্যায়)” প্রকল্প; ৫২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের বহুতল ভবন নির্মাণ; ১৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে (সর্বমোট ব্যয় ১৫৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (প্রথম সংশোধিত); ৩৩৮ কোটি ৫৪ টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটি জেলার কারিগর পাড়া থেকে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প; আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প;  এক হাজার ১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প; এক ৪৫২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং তিন হাজার ৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (খুলনা বিভাগ) প্রকল্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ