সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

বাজেটে সিগারেটের দাম বৃদ্ধির দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির দাবি তুলে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংসদ সদস্যবৃন্দ।
গতকাল মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’র আয়োজনে ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যে করারোপ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আলোচনায় বক্তারা এসব দাবি তোলেন।
ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি’র সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক এমপি। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, আপনারা অর্থমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন। শুধু এতেই কাজ হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং ফোরামের সবাই যদি যৌথভাবে অর্থমন্ত্রীকে বুঝাতে পারেন, তাহলে ভালো হয়। তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু এড়িয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তাকে বলতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্টকে আপনি সমর্থন করেন কিনা। আপনারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। তাহলে আপনারা সফল হবেন। তামাকের ওপর আপনাদের সুনির্দিষ্ট করারোপের এই উদ্যোগ সফল হোক।
অধ্যাপক ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই তামাকের বিরুদ্ধে কাজ করছি। বাংলাদেশের অনেক সংস্থা তামাকের বিরুদ্ধে কাজ করছে। যারা তামাক উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা শক্তিশালী গোষ্ঠী। তাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হবে। বাজেটে তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি করলে এর ব্যবহার কিছুটা কমবে।
আসন্ন বাজেটে তামাকের কর বৃদ্ধির বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একমত হয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আমরা প্রতি বছর মূল্য বৃদ্ধি করে তামাক নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এটি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে জরিপ করা দরকার। ট্যারিফ ও ট্যাক্স বৃদ্ধির মধ্যে কতটা সুফল আমরা পাচ্ছি, তার কোন জরিপ আমরা এখনও করতে পারিনি। আপনারা যারা তামাক নিয়ে কাজ করেন তারা এই মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে কতটা ফল আসছে, সে বিষয়ে গবেষণা করতে পারেন। এগুলো তামাকের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আরও কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত বলেন, আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’- নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তারই অংশ হিসেবে বাজেটে তামাকের কর কাঠামো শক্তিশালী ও কর বৃদ্ধির সুপারিশ জানিয়ে ৫২ জন সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর নিকট চিঠি দিয়েছেন।
সংসদ সদস্যগণসহ সভার অন্যান্য বক্তারা তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে এসময় একমত পোষণ করেন। সংসদ অধিবেশনে তামাকের উপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাবনার পাশাপাশি তামাকের ওপর কর বাড়িয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পথ তৈরি করা, কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা, বিদ্যমান তামাকের কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা, এনবি আর’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কাজ করার কথা বলেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ