শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

মুসলিম ভোটেই মমতার বিপুল বিজয়

৪ মে, মুসলিম মিরর : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনে মুসলিম ভোটই মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার আসনগুলোর মধ্যে ৬৩টি আসনে মুসলিমরা প্রাধান্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি আসনে এবার নির্বাচন হয়েছে। প্রার্থীদের মৃত্যুর কারণে ২টি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এই ৬১টি আসনের মধ্যে মমতার তৃণমূল পেয়েছে ৫৮টি আসন, বিজেপি দুটি, সংযুক্ত মোর্চা একটি। মুসলিম মিরর পত্রিকায় এ পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে।

মুসলিম প্রাধান্যপূর্ণ আসনগুলোর বেশির ভাগই ৪টি জেলায়- মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগানা। মুর্শিদাবাদে রয়েছে ১৬টি আসন। বাকি ৩টি জেলার প্রত্যেকটিতে আছে ৯টি করে আসন।

মজার ব্যাপার হলো, মুসলিম প্রাধান্যপূর্ণ ৬১টি আসনের মধ্যে যে ৫৮টি তৃণমূল জিতেছে, তার মধ্যে ৩০টিতে তারা জয় পেয়েছে ৪০ হাজার বা তার চেয়ে বেশি ভোটে। আবার মালদার সুজাপুরের এস কে জিয়াউদ্দিন, ফারাক্কার মনিরুল ইসলাম, ভাঙ্গাবনগোলার ইদ্রিস আলীর মতো প্রার্থীরা ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন।

বিজেপি মুসলিম প্রাধান্যপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে মাত্র ২টিতে জয়ী হয়েছে। এ দুটির একটি হলো উত্তর দিনাজপুর, অপরটি হলো মুর্শিদাবাদে। আর সংযুক্ত মোর্চার সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট জিতেছে একটি আসনে।

 পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মুসলিম ভোট ব্যাংক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিমদের ভোটের ওপর ভর করেই বাম ফ্রন্ট ৩৪ বছর রাজত্ব করে পশ্চিমবঙ্গ। পরে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম বিক্ষোভের জের ধরে মুসলিমরা বাম ফ্রন্ট ত্যাগ করে তৃণমূলে ভোট দিতে থাকে।

 অন্যদিকে কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির পাশেই থেকেছেন রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই ভোটাররাই হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের পর পর ৩ বার সরকার গড়ার অন্যতম কারিগর। তবে যে যে কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম, সেখানে তৃণমূলের থেকে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও, চমকপ্রদভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি।

 নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংখ্যালঘু প্রভাবিত কেন্দ্রগুলো নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক।

 রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৭৪টিতে সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। ওই সব কেন্দ্রের বেশির ভাগেই বিপুল জয় পেয়েছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবির ওই ৭৪টি আসনের মধ্যে ৬৯টি দখল করেছে। বিজেপি পেয়েছে মাত্র ২টি আসন। ভাঙড় আসনটি পেয়েছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। অবশ্য মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এবং সামশেরগঞ্জ আসনে ভোট এখনও বাকি রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর গড় মুর্শিদাবাদে ধস নেমেছে হাতশিবিরের। সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণে ওই জেলার একাধিক কেন্দ্র দখল নিজের ঝুলিতে পুরেছে তৃণমূল। মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরেও দেখা গিয়েছে একই চিত্র।

 রাজ্যের মোট ৫৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে। ওই ৫৭টি আসনের মধ্যে ৪৬টি পেয়েছে জোড়াফুল শিবির। আবার ওই রকম ১১টি আসন দখল করেছে বিজেপি-ও। রাজ্যের সার্বিক ফলে তৃণমূল এবং বিজেপি এই দুই শক্তিধরের লড়াইয়ের মাঝে তৃতীয় পক্ষের কোনও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সেই ধারা বজায় রয়েছে মালদহ, কোচবিহারসহ কয়েকটি জেলার এমন আসনগুলিতে এই ৫৭টি কেন্দ্রগুলোতে।

 পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী আবদুল গনি সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয়ী 

 এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন আব্দুল গনি। আব্দুল গনি মালদহ জেলার সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী। তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬৩ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী ইশা খান চৌধুরীকে।

 নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, আব্দুল গনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইশা খান পেয়েছেন ২২ হাজার ২৮২ ভোট।

 দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে জিতেছেন কলকাতার মেটিয়াব্রুজের তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল খালেক মোল্লা। তিনি বিজেপির প্রার্থী রামজি প্রসাদকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬০৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।

 পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলের একটা হিড়িক পড়েছিল। বিশেষ করে শাসকদল তৃণমূল ছেড়ে একটা অংশ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। দলবদলকারীদের ধারণা ছিল, রাজ্যে যেভাবে প্রচারে ঝড় তুলেছে বিজেপি, তাতে এই দলের জয় নিশ্চিত। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেয়া ১০৭ প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জনই পরাজিত হয়েছেন। এই হার ৭১ শতাংশ।

 এই ঘটনার পর দলবদলকারীদের ব্যাপারে বিজেপি কড়া অবস্থান নিয়েছে। গতকাল সোমবারই তারা ঘোষণা দিয়েছে, এভাবে হুট করে বিজেপিতে যোগ দিলেই কাউকে আর বড় জায়গা দেওয়া হবে না। বিজেপিতে এসে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে যোগ্য পদে বসানো হবে। রাজ্যে এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস-বাম-আইএসএফ দলকে নিয়ে গড়া সংযুক্ত মোর্চা বিধ্বস্ত হয়েছে। এই তিন দলের ৮৫ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ২৯২ আসনের মধ্যে মোর্চা মাত্র ৪২ আসনে জামানত ধরে রাখতে পেরেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ