শনিবার ০৮ মে ২০২১
Online Edition

পার্সেল বোমা বিস্ফোরণে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতাসহ নিহত ৫

৪ মে, মিয়ানমার নাউ, কিয়োদো : পার্সেল বোমা বিস্ফোরিত হয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত এক আইনপ্রণেতা এবং তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছে। এসব পুলিশ সদস্যরা সেনা শাসনের বিরোধিতা করতে নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার দেশটির নিউজ পোর্টাল মিয়ানমার নাউ-এর খবরে বলা হয়েছে সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে পশ্চিম বাগো শহরে পার্সেল বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, পার্সেল বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার পর অন্তত তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) এক ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতা, তিন পুলিশ সদস্য এবং এক বাসিন্দা নিহত হয়।

এছাড়া ওই বিস্ফোরণে নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া অপর এক পুলিশ সদস্যের হাত উড়ে গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে সহিংসতা চলছে। বিক্ষোভকারীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো গুলিতে নিহত হয়েছে শত শত মানুষ। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা শুরু করেছে।

সোমবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। দেশটির উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে গোষ্ঠীটির সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই তীব্র হয়েছে। এছাড়া ইয়াঙ্গুনে সামরিক সরকারের নিযুক্ত একজন প্রশাসককে সোমবার ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। 

 

অভিযুক্ত জাপানি সাংবাদিক

অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া জাপানি সাংবাদিক ইয়োকি কিতাজুমিকে অভিযুক্ত করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। সোমবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশটির ‘ফেইক নিউজ’ আইনে এই ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়। জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদোর খবরে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ফেইক নিউজ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের সময় কিতাজুমিসহ৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

জাপানি দূতাবাস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কিয়োদো জানিয়েছে, সাংবাদিক ইয়োকি কিতাজুমিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে তার স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে। এই কারাগারটি রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর নীপিড়নের জন্য কুখ্যাত।

অভ্যুত্থানের পর দ্বিতীয় বারের মতো গত ১৮ এপ্রিল আটক হন ইয়োকি কিতাজুমি। ফেব্রুয়ারিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার সময় তাকেও একবার মারধরের পর আটক করা হয়। ওই সময় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মিয়ানমারকে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসা দেশ জাপান। ইয়োকি কিতাজুমিকে মুক্তি দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে জাপান সরকার। যুক্তরাজ্য সফরের সময় সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা আটক থাকা জাপানি নাগরিকের আগাম মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ