শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সিরাজগঞ্জে পুকুর খননের নামে পুকুর চুরি

আব্দুস ছামাদ খান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের চারটি উপজেলায় “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুর পুনঃখননে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজ কলমে সুফলভোগীদের কথা বলা হলেও বাস্তবের চিত্রটা উল্টো। সুফলভোগীদের ফাঁকি দিয়ে খনন কাজ করছে মৎস্য অফিসের পছন্দের ঠিকাদার ও মৎস্য অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। চারটি উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক অনিয়মের চিত্র। কাজের তুলনায় বিল দেয়া হয়েছে দ্বিগুণ। এদিকে প্রকল্পগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তাদের কার্যক্রম। বিল করার ক্ষেত্রে কৌশলে নেয়া হয়েছে স্বাক্ষর। অনেক পুকুরের তলায় মাটি না কেটেই পানি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশেই পানি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানান কতিপয় সদস্যরা। আর পুকুর পাড়ের চারপাশে যেভাবে কাজ করার কথা তা মানা হয়নি। সুফলভোগীদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে কাজ না হলে এ বছরে মাছ চাষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে। অনেক সদস্যই জানেনা এই প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে। অনেক ঠিকাদার কাজ না করেই এখন বিল তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে সুফলভোগীদের। সিরাজগঞ্জ জেলার চার উপজেলায় “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে প্রায় ৩৩ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি পুকুর খননের জন্য ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন মৎস্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ৩০ জুন এর মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আর চূড়ান্ত বিল প্রদান করতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জে জেলা মৎস্য অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে সাক্ষাতের জন্য অফিসে একাধিকবার গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি, পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানান, সুফলভোগীদের মাধ্যমেই কাজ হচ্ছে এবং কাজের উপর ভিত্তি করেই বিল প্রদান করা হচ্ছে। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ