শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মিয়ানমার সংকট আসিয়ানের জন্য ‘একটি লিটমাস টেস্ট ’

মার্তি নাতালিগাওয়া

ভূমিকা ও অনুবাদ : আহমদ মতিউর রহমান
ইন্দোনেশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্তি নাতালিগাওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মিয়ানমার সংকট আসিয়ানের জন্য ‘একটি লিটমাস টেস্ট ’। তিনি বলেন, আসিয়ানের অবশ্যই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে বলা উচিত নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের উপর গুলি করা বন্ধ করতে। আসিয়ানের সদস্য দেশ মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহের সংস্থার (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্চ মাসের শুরুতে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন, তখন এই অঞ্চলের অন্যতম অভিজ্ঞ কূটনীতিক মার্তি নাতালিগাওয়া আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, কীভাবে আসিয়ান মিয়ানমারের সংকট সমাধানে সহায়তা করতে পারে। মিস্টার মার্তি ২০০৯  থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়া যখন আসিয়ানের চেয়াম্যানের দায়িত্বে ছিল তখনো তিনি এ পদে ছিলেন। মিয়ানমার প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়া শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্তির বক্তব্য তাই গুরুত্বপূর্ণ। আল জাজিরা সে কারণেই তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। আর তিনি লিটমাস টেস্ট হিসেবে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে আশংকা করেছেন তার আভাসও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।  
মিয়ানমারে সংকট বৃদ্ধি পেতে থাকলে আসিয়ান দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। এ সময় দেশটির নেত্রী অং সান সুচির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনা হয় এবং সেনা শাসনের বিরুদ্ধে  বিক্ষোভ শুরু হয়। তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলি করে ১৮ জনকে হত্যা করলে বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারে ক্র্যাকডাউনের নিন্দা জানায়। এই নিন্দা উপেক্ষা করে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে গত ২৪ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় আসিয়ানের এক ইমারজেন্সি সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমার পরিস্থিতি।  এতে যোগ দেন মিয়ানমারের সেনা শাসক জেনারেল মিন অং হ্লাইং। বিলম্বিত হলেও এই সামিট ভাল উদ্যোগ সন্দেহ নেই। তবে অবৈধ শাসক জেনারেল মিনকে কেন সেখানে অংশ নিতে দেয়া হলো আর এতে যে আহ্বান জানানো হয়েছে তা মানা না হলে কি সমাধান গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্ন বটে। আর গণহত্যার মুখে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাংলাদেশে আগমন  এবং তাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি সম্মেলনে আলোচনায়ই আসলো না।
প্রথম প্রশ্নের উত্তর, আসিয়ান জোটে কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই, এর পরও ইন্দোনেশিয়ার চাপে বৈঠকটি হয়েছে। বৈধ হোক আর অবৈধ হোক দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোই প্রথা। সেই প্রথায় জেনারেল মিন বৈঠকে গেছেন। হ্যা, আসিয়ান বলতে পারতো আপনি না এসে কোন প্রতিনিধি পাঠান। বৈঠকে তাকে অংশ নিতে দেয়া তাকে একপ্রকার স্বীকৃতি এটা আসিয়ান নেতাদের না জানার কথা নয়। একটা কাজ আসিয়ান নেতৃবৃন্দ করেছেন তা হচ্ছে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সাথে বৈঠকে বসতে সম্মত হলেও তারা তাকে মিয়ানমারের প্রধান হিসেবে সম্ভাষণ থেকে বিরত থাকেন। আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে ৫ দফা ঘোষণা এক ধরনের আহ্বান মাত্র, যা মানা ম্যান্ডেটরি নয়। কোন একটি দেশের ভেতরের সমস্যা মেটানোর নজির আসিয়ানের তেমন একটা নেই যেমনটা দেখা যায় আফ্রিকান ইউনিটি জোটের ক্ষেত্রে। ৫ দফা না মেনে চললে আসিয়ানের আসলে কিছুই করার নেই।
সামিট শেষে ৫ দফা সম্বলিত এক বিবৃতিতে আসিয়ান বলেছে পরিস্থিতির উন্নতিতে সকল পক্ষকে আবশ্যিকভাবে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, দেশটির জনগণের স্বার্থে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সব পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপে বসতে হবে, সংলাপে সব পক্ষকে উৎসাহিত ও মধ্যস্থতায় আসিয়ান প্রধানের বিশেষ এক দূত এখানে কাজ করবেন, মিয়ানমারে মানবিক সহায়তার জন্য সংস্থাটির অন্তর্ভুক্ত আসিয়ান হিউম্যানটেরিয়ান অ্যাসিসটেন্স সেন্টার কাজ করবে। এছাড়া আসিয়ানের বিশেষ দূত ও প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের সকল পক্ষের সাথে সাক্ষাত এবং আলোচনা করবেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। জেনারেল মি অং তার সেখানে যোগ দিয়ে সাফাই গেয়েছেন ও বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তবে এসব দাবির প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায় তা জানার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতেই হবে। এরি মধ্যে আমেরিকাসহ পশ্চিমী দেশগুলো সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধের কিছু নিষেধাজ্ঞামূলক তৎপরতা বাড়িয়েছে। মিয়ানমার বিষয়ে আরো আপডেট হচ্ছে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর হত্যা ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বহু মিয়ানমার সেনা নিহত হয়েছে। মোটকথা সামরিক বাহিনীও খুব শান্তিতে নেই। আর মিয়ানমারের পত্রিকা দি ইরাবতী অনলাইনের খবর, ফল বাতিল করা বিগত নির্বাচনের বিজয়ী এমপিরা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকারের ঘোষণা দিয়েছে। এটি কার্যত একটি প্যারালাল সরকার। এই সরকারে পার্লামেন্টের সাবেক স্পীকার কারেন নেতা মান উইন খাইংকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে নিজ নিজ পদে বহাল রাখা হয়েছে, যদিও  তারা দুজনই ১ ফ্রেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দী। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে কাচিন ন্যাশনাল কনসালটেটিভ এসেম্বলীর সভাপতি দুয়া লাশিকে। কিছু সময়ের জন্য ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় ১২ জন উপমন্ত্রীও রয়েছেন। এই প্রবাসী সরকার আসিয়ান সামিটে দেয়া বিবৃতির প্রশংসা করে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।  
মার্তির সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে আবার আসি। আল জাজিরার ইন্দোনেশিয়া করেসপন্ডেন্ট জেসিকা ওয়াশিংটন কর্তৃক সাক্ষাৎকারটি মাসাধিক কাল আগে গৃহীত হলেও এর বক্তব্য এখনো প্রাসঙ্গিক। সবকিছু বিবেচনায় রেখে সাক্ষাৎকারটির বিবরণ তুলে ধরা হলো।
আল জাজিরা: আমরা জানি মিয়ানমারে সহিংসতা বেড়েছে - কমপক্ষে ১৮ জন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। (এটা প্রথম ঘটনা, মৃতের সংখ্যা বেড়েছে) আপনি এই পরিস্থিতিটি কীভাবে দেখেন?
মার্তি নাতালিগাওয়া: এটি অবশ্যই এই অঞ্চলে আমাদের সবার জন্য একটি লিটমাস টেস্ট। আমরা জানি মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়ন প্রক্রিয়া একটি প্রসেস মাত্র, কো ইভেন্ট নয়। এতে উত্থান পতন থাকবে। এখন একটি স্থিতাবস্থা প্রয়োজন। কয়েকমাসে যে সব ঘটনা ঘটেছে তা এ অঞ্চলের সবার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি গুলি করছে সেই ছবি আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখছি। এটা খুবই উদ্বেগের।
আল জাজিরা: আসিয়ানের প্রতিক্রিয়াকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
নাতালিগাওয়া: এই ঘটনার (সামরিক অভ্যুত্থান) দু’এক দিনের মাথায় আসিয়ানের চেয়ারম্যান ব্রুনেই দারুসসালাম একটি বিবৃতি দিয়েছে .. তারা দ্রুত এই বিবৃতি দিতে সক্ষম হয়েছিল তা গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক পর্যায়ে সিরিজ আলোচনা হয়েছে , তারপরও স্পষ্টতই তাদের কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশ্যই একটি ফলাফল আসা উচিত, আসিয়ান বিষয়টি সেভাবে দেখবে বলে আশা করি। জান্তাকে শুধু সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য বলা উচিত নয়। বলা উচিত, নিরীহ নাগরিকদের উপর গুলি চালানো বন্ধ করুন ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের  মুক্তি দিন। কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আসিয়ান এ বিষয়ে কথা বলতে পারে না। তবে এই বৈঠকটি অন্তত প্রমাণ করে যে আসিয়ান তা ভাবছে না।
আল জাজিরা: একটি সভা আহ্বান করা এবং সংলাপ শুরু করা ছাড়াও আসিয়ানের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
নাতালিগাওয়া: আসিয়ান তাদের বক্তব্য শোনার উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। যখন আসিয়ানের কথা বলি তখন এটি কোনও তৃতীয় পক্ষের সম্পর্ক নয়। মিয়ানমার আসিয়ানের অংশ। আসিয়ানের কেবল জান্তার মতামত শুনলে যথেষ্ট হবে না - আমি জান্তা শব্দটি ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করছি। আসিয়ানকে জান্তার কাছে জানাতে হবে - শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করা চলবে না এবং সংকট সমাধানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের বক্তব্য অবশ্যই শুনতে হবে, তাদের অবশ্যই যেনতেন অভিযোগে আটক করা উচিত নয়। আসিয়ান নেতারা জান্তার প্রতিনিধিদের কথা শুনবেন তবে একই সাথে আসিয়ান তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রত্যাশা জানাতে লজ্জা পাবে না।
আল জাজিরা: মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাথে আলোচনার ধারা কি হওয়া উচিত? তাদের বক্তব্য শোনা ও কথা বলাই কি যথেষ্ট, জনগণের বিপদের বিষয়টি কি আসবে না?
নাতালিগাওয়া: যে কোন কূটনৈতিক উদ্যোগে একটি ডিলেমা বা দ্বিধা থাকে। তবে আসিয়ানের উচিত বিষয়টি স্পষ্ট করা যে তারা (মিয়ানমার বাহিনী) যা করছে তা আসিয়ান মেনে নেবে না।
আল জাজিরা: আমাদের অঞ্চলে যখনই সমস্যা হয়, প্রায়শই বিশ্লেষক বা শিক্ষাবিদরা আসিয়ানকে ব্যর্থ বলে থাকেন। মিয়ানমারে যা ঘটেছে তার আলোকে আপনি কীভাবে সেই সমালোচনার জবাব দেবেন?
নাতালিগাওয়া: অনেকেই গ্লাস অর্ধেক পূর্ণ বা অর্ধেক ফাঁকা হিসাবে দেখতে পারেন, কেউ সর্বদা নেতিবাচকভাবেও দেখতে পারেন। আসিয়ান অকেজো এ কথা বারবার শুনে আসছি। তবে আসিয়ান সংকট সমাধানে সব সময়ই তৎপর হয়েছে। ১৯৮০ এর দশকে কম্বোডিয়ার বিষয়ে আসিয়ান ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল, যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার একটি বিরোধ। এই অঞ্চলে গণতন্ত্র সম্পর্কে কথা বলা অন্ধকারে বাঁশি বাজানোর মতো। তবে কাউকে না কাউকে তো ভূমিকা নিতেই হবে।
আল জাজিরা : আপনি আগে বলেছিলেন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যতিক্রমী হবে কেননা জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিষয়ে একটি নিজস্ব ধারণা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর তার প্রভাব কিভাবে পড়ছে?
নাতালিগাওয়া: এখানকার পরিস্থিতি অনেক জটিল। মিয়ানমারে ক্ষমতায় যেই থাকুক আসিয়ান জড়িত হয়েছে। তারা সেখানকার সিভিল সোসাইটির বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে। মিয়ানমার তার ইতিহাসে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা এবং অঞ্চলগুলির উত্তেজনার ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার মতো নয়। মিয়ানমার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ইন্দোনেশিয়া কোনও মানদণ্ড নয়, এক মাপের সাথে সব ফিট হয় না - তবে আমাদের অভিজ্ঞতা একই রকমের। আমরা সামরিক শাসন থেকে গণতান্ত্রিক শাসনে এসেছি এবং এখনো সেখানে আছি। কিছু অভিজ্ঞতা কম ইতিবাচক। বহু অভিজ্ঞতা এখনো বিনিময়যোগ্য।
আল জাজিরা: কোন সমাধানে পৌঁছতে না পারলে কি আশংকা করছেন?
নাতালিগাওয়া: আমাদের বিলম্ব করা উচিত নয়। আমাদের কেন জড়িত হতে হবে তা অবাক করার কিছু নয় বরং স্পষ্ট। মিয়ানমার অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জযুক্ত ও রাজনৈতিকভাবে অস্থির হয়ে উঠলে তার প্রভাব অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতেও পড়বে বলে আশংকা করছি। আমি আশাবাদী যে এই পরিস্থিতিটিকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া হবে তার একটি রূপরেখা রয়েছে এবং আসিয়ানের এই পরিকল্পনা অবশ্যই মিয়ানমারের জনগণের গণতান্ত্রিক আশা আকাক্সক্ষাকে সর্বাগ্রে স্থান দেবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ