রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

করোনায় বিপর্যস্ত ভারতকে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেয়ার প্রস্তাব করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সীমান্ত বন্ধ করেছে বাংলাদেশ। তবে এর মাঝেও জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা সেন্টারে সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় এ তথ্য জানায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। এদিকে কোভিড মহামারি মোকাবিলায় ভারতে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অংশ হিসেবে রেমডিসিভিরও পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনায় বিপর্যস্ত ভারতকে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়ার ঘোষণায় ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারত। ভারতে করোনার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার সে দেশের মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। যার মধ্যে রেমডেসিভিরও রয়েছে। ভারতে এখন প্রচুর রেমডেসিভিরের সংকট রয়েছে। সে কারণে এ ওষুধ পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন গত বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশকে এই ধন্যবাদ জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে এই মহামারি জয় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় ভারতের পক্ষ থেকে।
ভারতীয় হাইকমিশন তথ্য বার্তায় বলা হয়, ২৮ এপ্রিল থেকে আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে লকডাউনের সময় বাড়ানোয় খুব জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা সেন্টার সেবা প্রদান করবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে visahelp.dhaka@mea.gov.in ঠিকানায় যোগাযোগের অনুরোধ করেছে ভারতীয় হাইকমিশন।
এর আগে, গত ১৪ এপ্রিল প্রথম দফায় বিধিনিষেধ জারি করার পর বাংলাদেশে অবস্থিত সব ভারতীয় ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। পরবর্তী এক সপ্তাহের লকডাউনেও ভারতীয় ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে ১৫টি ভিসা আবেদনপত্র কেন্দ্র (আইভ্যাক) আছে। সেগুলো ঢাকা (যমুনা ফিউচার পার্ক), যশোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বগুড়া, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় অবস্থিত।
প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় গত ২৬ এপ্রিল থেকে ভারতের সঙ্গে সব ধরনের সীমান্ত বন্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার, যা আগামী ৯ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে এ সময় বাংলাদেশ থেকে কোনো ভারতীয় নাগরিক জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে চাইলে সহযোগিতা করবে ভারতীয় হাইকমিশন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন গত বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশকে এই ধন্যবাদ জানিয়ে টুইট বার্তায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করায় এবং করোনার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় ঢাকাকে ধন্যবাদ। ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আমরা আশাবাদী। এর আগে এদিন দুপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনায় বিপর্যস্ত ভারতে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। ভারতে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির প্রেক্ষাপটে দেশটির জনগণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
ভারতকে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার মধ্যে থাকছে প্রায় ১০ হাজার অ্যান্টিভাইরাল ইনজেকশন ও মুখে গ্রহণের ওষুধ, ৩০ হাজার পিপিই, কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করোনায় ভারতে মানুষের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ তার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের পাশে আছে। ভারতের প্রতি বাংলাদেশ সংহতি জানাচ্ছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। ভারতে করোনা অবনতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার জরুরি সহায়তার ঘোষণা দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ