শনিবার ১৯ জুন ২০২১
Online Edition

গৃহযুদ্ধের পথে মিয়ানমার

 

৩০ এপ্রিল, রয়টার্স, দ্য স্পেকটেটর : সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মায়ানমারে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। গণতন্ত্রকামীদের প্রবল বিক্ষোভের পর এবার বার্মিজ সেনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন। ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সূত্রে খবর পাওয়া যায়, মাগওয়ে শহরের বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে চারটি রকেট। এছাড়াও মধ্য মিয়ানমারের মেইকটিলা বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতেও আঘাত হানে পাঁচটি রকেট।এই হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি বলে জানিয়েছে টাটমাদাও বা বার্মিজ সেনাবাহিনী। এই ঘটনার নেপথ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি’র (কেআইএ) হাত আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চিনের সীমান্তবর্তী কাচিন প্রদেশের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে লড়াই চালাচ্ছে কেআইএ। এপ্রিলের ১১ তারিখ টারপেইন ব্রিজের কাছে দুটি পুলিশ আউটপোস্ট ও সেনঘাঁটিতে হামলা চালায় বিদ্রোহী সংগঠনটি। তারপর থেকেই সেখানে বিমান হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সেনারা। ফলে ঘর ছাড়া প্রায় ৫ হাজার মানুষ। একইভাবে, থাইল্যান্ড সীমান্তে মায়ানমারের অন্যতম সংখ্যালঘু কারেন সম্প্রদায়ের জঙ্গি-গোষ্ঠী ‘কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন’-এর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। ফলে ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। সব মিলিয়ে মায়ানমারে তৈরি হয়েছে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি।

থাইল্যান্ডে পালাতে মরিয়া কয়েক হাজার গ্রামবাসী

মিয়ানমারের অভ্যুত্থানকারী সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী কারেন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী কয়েক হাজার গ্রামবাসী পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বলছে, ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর কারেনদের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে অনেকেই এরইমধ্যে পালিয়ে প্রতিবেশি দেশটিতে আশ্রয় নেয়।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে কারেন আদিবাসীরাও তাদের সঙ্গে সামিল হবে। মিয়ানমারের কারেন পিস সাপোর্টারস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, কয়েক হাজার গ্রামবাসী সালভিন নদীর মিয়ানমারের তীরে আশ্রয় নিয়েছে এবং দুপক্ষের লড়াই যদি আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নেয় তাহলে তারা পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেবে।

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের মায়ে হং সন প্রদেশের ইয়ে থু হতা উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন কারেন গ্রামের বাসিন্দা চু ওয়াহ। তিনি বলেন, মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে, বর্মীরা গ্রামে এসে আমাদের গুলি করে মারবে, তাই আমরা পালিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি।

এ সপ্তাহেই পরিবারসহ মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের সীমানা বরাবর সালভিন নদী পার হয়ে থাই ভূখ-ে প্রবেশ করে শিবিরে আশ্রয় নেন বলে জানান চু ওয়াহ।

কারেন গোষ্ঠীর ফেইসবুক পেজে বলা হয়, আসন্ন দিনগুলোতে, সালভিন নদীর তীরে অবস্থানরত ৮ হাজারের বেশি কারেন আদিবাসীকে সীমান্ত পার হয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিতে হতে পারে। আমরা আশা করছি, যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে তাদের সাহায্য করবে থাই সেনারা। তবে থাইল্যান্ডের তরফে সহায়তার কোনও আশ্বাস নেই।

থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সপ্তাতে মিয়ানমারের প্রায় ২০০ গ্রামবাসী সীমান্ত অতিক্রম করে তাদের ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছে। থাইল্যান্ড সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে এবং সীমান্ত অতিক্রমে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

নিরাপত্তার খাতিরে কয়েকশ থাই গ্রামবাসীও সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকা ছেড়ে ঘরবাড়ি নিয়ে দেশের ভেতরের দিকে সরে গেছে।

গত মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের আগে সংঘটিত এক হামলায় সালভিন নদীর পশ্চিম তীরে মিয়ানমারের একটি সেনা ইউনিটকে গুঁড়িয়ে দেয় কারেন বিদ্রোহীরা। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংঘাতে ১৩ সেনা ও তিনজন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। এর জবাবে থাই সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা চালায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ