রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

ইসলামী শ্রমনীতি চালুর মাধ্যমেই শ্রমিক সমাজের প্রকৃত মুক্তি ও মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হতে পারে  - ডা. শফিকুর রহমান

১ মে “আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার দিবস” তথা ‘মে দিবস' পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতি দিয়েছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগামী ১ মে ‘মে দিবস’। ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিক সমাজ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। বিশ্বের শ্রমিক সমাজ তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এখনো তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সে আন্দোলন আজও পুরোপুরি সফলতা লাভ করেনি। যার ফলে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর সময়েও শ্রমিকগণ তাদের মজুরি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে এবং তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। গত ১৭ এপ্রিল ২০২১ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত ৬ জন শ্রমিককে তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কথা আজ অত্যন্ত স্পষ্ট যে, মানব রচিত কোনো মতবাদই মানুষের সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে সক্ষম নয়। ‘শ্রমিকদের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করার জন্য’ রাসূলে করীম (সা.) জোর তাগিদ দিয়েছেন। শ্রমিকদের মর্যাদা রক্ষার জন্যে রাসূলে করীম (সা.)-এর নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্যেই মালিক এবং শ্রমিক উভয়ের জন্যই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শ্রমিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত। কল-কারখানা ও উৎপাদন সেক্টরগুলোতে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব এক ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। মাঝে মাঝেই শ্রমিকরা শোষণ, জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ জানালেও তাদের ন্যায্য অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। আমরা মনে করি, ইসলামী শ্রমনীতি চালু করার মাধ্যমেই শ্রমিক সমাজের প্রকৃত মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে এবং মালিকদের স্বার্থও সংরক্ষিত হতে পারে।

করোনা ভাইরাস বিস্তৃতির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে যথাযথ গুরুত্বসহ ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার দিবস’ তথা ‘মে দিবস’ পালনের জন্য দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষ ও সর্বস্তরের জনতার প্রতি তিনি আহ্বান জানান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ