শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

সততা ও অসততা

এম এ কবীর: সততা, পেশাদারিত্ব একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ। বড় ভিত্তি। অনেক যোগ্যতা, দক্ষতা থাকলেও সততা ও পেশাদারিত্বের অভাবে অর্জিত সম্মান ধুলোয় মিশে যেতে পারে। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। গণমাধ্যমকর্মীদেরও দর্পণের মতো স্বচ্ছ হতে হয়। এটা যেমন সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশবিশেষ, তেমনি সাংবাদিকতার বিশেষ ভূষণও বটে।

প্রেস কাউন্সিল এ্যাক্ট-এ সাংবাদিকতার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে :

“Working journalist means the activity or profession of writing for newspapers, magazines, or news websites or preparing news to be broadcast by a person who is employed as such in, or in relation to, any newspaper establishment and includes an editor, a leader writer, news editor, sub-editor, feature writer, reporter, correspondent, copy tester, cartoonist, news photography, calligraphist and proof reader.”

সংবাদপত্র অফিসে কর্মরত সম্পাদক, উপ-সম্পাদকীয় লেখক, বার্তা সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, ফিচার সম্পাদক, প্রতিবেদক, প্রতিনিধি, লিপিবদ্ধকার, কার্টুনিস্ট, আলোকচিত্রী ও প্রুফ রিডার-সকলেই সাংবাদিক। এরা খবরের সন্ধান করেন, খবরের পেছনে ছোটেন, খবর নির্বাচন করেন, সম্পাদনা করেন, সংশোধন করেন। সাংবাদিকরা যা করেন, তা হচ্ছে সাংবাদিকতা। অন্যদিকে সাংবাদিকতা হচ্ছে কাজ। এদের কাজ হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ করা, প্রতিবেদন লেখা এবং সম্পাদনা করা।

সাংবাদিকতা হল বিভিন্ন ঘটনাবলী, বিষয়, ধারণা, ও মানুষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি ও পরিবেশন, যা উক্ত দিনের প্রধান সংবাদ এবং তা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। এই পেশায় শব্দটি দিয়ে তথ্য সংগ্রহের কৌশল ও সাহিত্যিক উপায় অবলম্বনকে বোঝায়। মুদ্রিত, টেলিভিশন, বেতার, ইন্টারনেট, এবং পূর্বে ব্যবহৃত নিউজরিল সংবাদ মাধ্যমের অন্তর্গত।

ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল। হঠাৎ করে গুলি এসে জীবন কেড়ে নেবে, এমনটা হয়তো তিনি কখনোই ভাবেননি।

তাকে লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছিল কি না সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় মফস্বলে সাংবাদিকদের টার্গেট করে হত্যা এবং নির্যাতন প্রায়ই ঘটে।

ফেনীর টিপু সুলতানের কথা অনেকেরই হয়তো এখনো মনে আছে। হত্যার উদ্দেশে তাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয় সেটি বিরল।

জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ছিল মূল অভিযোগ। তার পর থেকে ফেনীতে আর সাংবাদিকতা করা হয়নি টিপু সুলতানের।

যশোরের সাংবাদিক শামসুর রহমানকে ১৭ বছর আগে তার অফিসে গুলি করে হত্যা করা হয়। 

মফস্বলের সব সাংবাদিক পরিচিত। সবাই সবাইকে চেনে। কোন সংবাদ হলে তাকে টার্গেট করা সহজ। ঢাকায় সেটা সম্ভব নয়। মফস্বলের সাংবাদিক প্রতি মুহূর্তে, প্রতিদিনই ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

বেশ কিছু অঞ্চল আছে যেখানে সাংবাদিকতা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকি তৈরি হয় নানা দিক থেকে। 

চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, সরকারি প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন সময় মফস্বল সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে।

পাশাপাশি মফস্বলে একজন সাংবাদিক তার পেশাগত কারণে যখন কোন প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ে তখন তার নিয়োগকারী সংবাদমাধ্যম তাকে সহায়তার জন্য কতটা এগিয়ে আসে সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে।

জেলা পর্যায়ে যেসব সাংবাদিক কাজ করেন, তাদের অনেকেরই নিয়োগপত্র নেই। অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম জেলা প্রতিনিধিদের কোন বেতনও দেয় না।

রাজনৈতিক মতাদর্শকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মাঝেও রয়েছে তীব্র বিভেদ।

এসব কারণে অনেক সাংবাদিক সাংবাদিকতার বাইরেও অন্য ক্ষেত্রে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে। ফলে তার কাজের ঝুঁকিও বাড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র এবং মাসিক বেতনের নিশ্চয়তা না থাকলেও খবর পাঠানোর চাপ ঠিকই থাকে মফস্বল সাংবাদিকদের উপর। খবরের পেছনে সাংবাদিক যখন ছোটেন তখন নিজের নিরাপত্তার দিকে নজর দেবার সুযোগ থাকেনা। পরিস্থিতি মোকাবেলার কোন প্রশিক্ষণও নেই তাদের।

গত এক দশকে বাংলাদেশে টেলিভিশন, পত্রিকা এবং অনলাইনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়লেও মফস্বল সাংবাদিকদের স্বার্থ উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।

সাংবাদিকতা পেশাটাইতো বিড়ম্বনার। ডাক্তার, উকিল, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি কিংবা সাধারণ জনগণ; সব শ্রেণিই যেন একবাক্যে সাংবাদিকদের শত্রু জ্ঞান করে। পেছনের কারণ অনেক। কিছু কারণ বিপক্ষে যায়। ব্যথিত হই। আবার কিছু কারণ গর্বেরও। অনুসন্ধানী অনেক প্রতিবেদন অনেকের বিপক্ষে যায়। তারা সাংবাদিকদের শত্রুই ভাববে। তাতে কিছু যায় আসে না। দেশের কল্যাণ হয়। এতে একজন সাংবাদিক হিসেবে পেশার প্রতি ভালোলাগা বাড়ে। গর্ববোধ করি। পেশাটার প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। এতটুকু বিড়ম্বনা, এতটুকু ঝুঁকি জেনেই তো এ পেশায় নাম লেখানো। কিছু বিড়ম্বনা হৃদক্ষরণ বাড়ায়। হাপিত্যেস করি। পরক্ষণে থেমে যাই। পেছনের কারণ খুঁজে হতাশ হই। পেশাটার মস্ত বড় ছিদ্র রয়ে গেছে। বন্ধ করা দূরে থাক আমরাই যেন তা পুষছি। একটু সহজ করে যদি বলিÑ পেশাটা খুবই সস্তা হয়ে গেছে। এ কারণেই আজ বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে যেখানে সেখানে। যখন তখন। 

গণম্যাধমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী লকডাউনের প্রথম দুই দিনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে মামলা, আটকে রাখা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়াসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

দৈনিক ঢাকা টাইমসের নিজস্ব প্রতিবেদক আলামিন রাজুকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এসময় তাকে দীর্ঘক্ষণ পুলিশের জেরার মুখে ফাঁড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়। 

একই অভিযোগ মানবজমিন পত্রিকার চিত্রসাংবাদিক জীবন আহমেদের। 

দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মিরপুর-১ এলাকায় হয়রানির শিকার হন ঢাকা পোস্ট ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাঈদ রিপন।

 অর্থসূচক পত্রিকার সংবাদকর্মী হৃদয় আলম। সকালে কারওয়ান বাজার এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতির লাইভ দিচ্ছিলেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা এসে তাকেও নানান প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। 

তবে হয়রানি করছে কেন? বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়- সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও মামলা দিয়েছে পুলিশ। মুভমেন্ট পাস চেয়েছে। যদিও সাংবাদিকদের মুভমেন্ট পাস প্রয়োজন নেই। 

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠত এমন একটি পেশার মানুষের সঙ্গে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করার সাহস কেন পায়? 

আমরাই দিচ্ছি না তো? এই প্রথম নয়। ইতোপূর্বে এমন অনেক হয়রানির খবর পাওয়া গেছে। 

যখন শুধু খাতির জমানোর উদ্দেশ্যে বা খুশি করতে সন্তুষ্টিমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয় তখন তিনি আপনার পেশাটাকে সস্তা হিসেবেই গণ্য করেন। ফলে এই পেশার মানুষের প্রতি তাদের ধারণা ওই সস্তা শ্রেণিরই হয়। আচরণও এমনই হবে; এটাই স্বাভাবিক।

 একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। এক আত্মীয় খুব বিপদে পড়েই ফোন করেছেন। সাংবাদিকতার কার্ড দরকার। এবারের লকডাউন খুবই কড়া। মুভমেন্ট পাস নিতেও ঝামেলা। সাংবাদিকের কার্ড থাকলে পুলিশ কিছু বলে না। পাশের বাসার ভদ্রলোক একটা কার্ড ম্যানেজ করেছেন। পাঁচশ’ টাকা লেগেছে তার। 

শোনার পর আমি অবাক হওয়ার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলি। নানা সময়ে নানাজন সাংবাদিকতার কার্ড আবদার করেন। তাদের নানাভাবে বুঝিয়ে বিদেয় করি। অনেককে বোঝাতেও ব্যর্থ হই। 

সাংবাদিকতা এক সস্তা পেশা। চাইলেই যে কেউ সাংবাদিক হতে পারে। কোনো নিয়ম নীতি নেই। সত্যি আছে কি? থাকলে কী সেই নিয়ম। যা জানিয়ে এদের থামাতে পারব? বা কতক্ষণ থামিয়ে রাখতে পারব? 

আমি বিদেয় করার পর ঠিকই তিনি ‘পিআরইএসএস’ লেখা চকচকে একখানা পাস্টিক কার্ড নিয়ে হাজির। সঙ্গে শুনিয়ে যান দু’চারটি বেশি কথা। তিনি ঠিকই অন্য কোনো সাংবাদিককে টাকা দিয়ে কার্ডটি সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অর্থাৎ কোনো না কোনো সাংবাদিকই চাচ্ছেন পেশাটাকে সস্তা করতে। এত সহজে যে পেশার কার্ড মেলে সেই পেশাকে আলাদা করে সম্মান দেখানোর কোনো যৌক্তিকতা আছে কী?   

 

দায়িত্বরত পুলিশের কথাই চিন্তা করুন, ইতোপূর্বে দশটি অমন ভুয়া কার্ডধারী সাংবাদিককে ধরতে পেরেছেন। তিনি তো পরবর্তীকালে প্রকৃত সাংবাদিককেও একইভাবে বিবেচনা করবেন।

সাংবাদিক হয়রানি বা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিড়ম্বনার খবর মোটেও ভালো লাগে না। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সমাধানও খুঁজে পাই না। এভাবে চললে সমাধান হওয়াও সম্ভব নয়। সাংবাদিক হওয়ার ন্যূনতম নিয়মনীতি নির্ধারণ করা দরকার। পেশার গুরুত্ব বাড়ানো দরকার। এমনিতেই সবাই গুরুত্ব দেবে। দিতে বাধ্য হবে।

তবে কী সাংবাদিকতার মৃত্যু হতে চলেছে ? তাহলে গণতন্ত্রের কী হবে? রাষ্ট্রশাসনে, ক্ষমতার ব্যবহারে, আইন প্রয়োগে, জনগণের করের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার কী হবে? রাজনৈতিক অধিকার, মানবিক অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, তথ্য জানার অধিকার এসবের কী হবে? 

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতা ছাড়া পৃথিবী চলবে কী করে?

সাংবাদিকতার এ মহান পেশা ক্রমান্বয়ে কলুষিত হয়ে আসছে-সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের স্বাধীনতার নামে এক ধরনের অপসাংবাদিকতার প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঠিক যেন ‘চেরাগের নিচে অন্ধকার’। লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্মী, অর্থলোভী, স্বার্থান্বেষী, টাউট-বাটপার, প্রতারক, নেশাখোর,চাঁদাবাজ, তথ্য গোপনকারী, বদমায়েশ, নারীলোভী, মাদক পাচারকারী, ঠগ, ধান্ধাবাজ, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতরা এখন সাংবাদিকতার কার্ড ঝুলিয়ে বিচরণ করছে মননশীল এ কর্মচর্চায়। তারা জেনে শুনেই ব্যাখ্যার স্থলে অপব্যাখ্যা, ন্যায়কে অন্যায়ের রূপ দান, সত্যকে ঢাকার জন্য অসত্যের আবরণ দেয়াকে মনে করে সাংবাদিকতার বিজ্ঞতা!

অনেকক্ষেত্রেই চোখে পড়ে, সংবাদ লেখার যোগ্যতা নেই অথচ সাংবাদিক। সম্পাদনা করার মেধা নেই অথচ সম্পাদক। দু’কলম শুদ্ধ বাংলা লিখতে কিংবা বলতে পারেনা অথচ রিপোর্টার! জানেনা কোনটা সংবাদ, কোনটা সংবাদ নয়। একটা প্রতিবেদন কিভাবে লিখতে হয় তার জ্ঞান নেই, সে হয়ে যাচ্ছে মস্তবড় প্রতিবেদক। 

আর এই অপসাংবাদিকতার বিকৃত আরেকটি প্রচলিত রূপ হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা।

‘হলুদ সাংবাদিকতা’ কোন সাংবাদিকতা নয়, সেটাকে কোনভাবেই সাংবাদিকতার আবরণ দেয়া যায় না। হলুদ সাংবাদিকতার জন্য দায়ী মূলতঃ এক শ্রেণীর সাংবাদিক ও সংবাদপত্র এবং কিছু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিক ও সম্পাদক। 

এদের কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাংবাদিক মাত্রই সাধারণ মানুষের কাছে পরিণত হয়েছে এক ভীতিকর প্রাণীতে। মানুষ সাংবাদিক দেখলেই ‘সাংঘাতিক’ বলে আঁৎকে উঠে। কারণ হচ্ছে লেখার স্বাধীনতার সুবাদে এরা ন্যূনতম বিধি-বিধান আর নীতি-জ্ঞানকে তোয়াক্কা না করেনা। ‘রাতকে দিন’ আর ‘দিনকে রাত করে’ সংবাদ পরিবেশন করেন। সত্যকে গোপন করে মিথ্যাকে ফুলিয়ে রং লাগিয়ে প্রচার করাটা সাংবাদিকতার কোন ফর্মুলায় পড়ে ?

সংবাদ পরিবেশনায় এক চোখা/বায়াসড আর তিলকে তাল বানানোর ঔদ্ধত্য অবশ্যই সচেতন পাঠক সমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে এটাই স্বাভাবিক। 

অনেক সময় সাংবাদিকতার লেবাস পরে অনেকে কত যে নীচতা, হীনতা, দীনতা আর সংকীর্ণতায় আকন্ঠ নিমজ্জিত থাকেন, তা বলতেও লজ্জা হয়। একজন সাংবাদিক যদি এটা ভাবেন আমি সাংবাদিক, আমার হাতে কলম আছে, কাগজ আছে, তাই যা খুশি লিখবো! সবার মাথা আমি সাংবাদিক কিনে নিয়েছি এমন ভাবা কোনভাবেই উচিত নয়। লেখার স্বাধীনতা মানে অন্যের অধিকার, সামাজিক অবস্থান, মান-সম্মানকে উপেক্ষা করা নয়। সংবাদপত্রের যেই স্বাধীনতা মানুষের সকল স্বার্থের পাহারাদার, তার সকল অধিকারের নিশ্চয়তা বিধানকারী এবং অসহায়ের শেষ কন্ঠ, সেই পবিত্র স্বাধীনতাকে আজ ‘ভেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার’ মতো মর্মান্তিক ভূমিকার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কিংবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যক্তি, গোষ্ঠি বা রাজনৈতিক দলের ওপর অসত্য তথ্য আরোপ করা হয়। ফলে অনেকে সামাজিক, রাজনৈতিক বা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেখা যায়, যেসব অভিযোগ বিভিন্ন গণ মাধ্যমে উত্থাপন করা হচ্ছে তা সংবাদপত্রগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে পারছে না।

বলা হয়,অনেক স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক কিংবা সংবাদপত্রের মালিক সংবাদপত্রের যে স্বাধীনতা রয়েছে সে সুযোগের অপব্যবহার করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের সংবাদপত্র সম্পর্কে, মানুষের বিশ^াস ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে উঠছে। যে সব সাংবাদপত্র এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট কিংবা উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন করে তারা প্রচলিত আইন-কানুন, সংবিধান এক কথায় সমগ্র দেশ ও জাতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। এ ধরনের সাংবাদিকদের রাজনৈতিক স্বার্থান্ধতা ও অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে সাংবাদিকতার মত এ মহান পেশাও আজ প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ