রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

বিধিনিষেধের শিথিলতা দিয়েই তৃতীয় ধাপের লকডাউন শুরু!

লকডাউনের ৮ম দিনে নিউমার্কেটের দৃশ্য। ছবিটি গতকাল বুধবার তোলা -সংগ্রাম

# তদারকিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৮ কর্মকর্তা কর্মচারি
ইবরাহীম খলিল : ঢাকার রাস্তায় নামলে মনে হবে না দেশে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর সড়কগুলোতে গণপরিবহন বাদে প্রায় সব ধরনের পরিবহন চলাচল করেছে। প্রাইভেটকার, ভাড়ায় চালিত মোটরবাইক ও রিকশার আধিক্য বেশি ছিলো। এদিকে দুপুর থেকে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোর চেকপোস্টে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের নিস্ক্রিয় ভূমিকায় থাকতেও দেখা গেছে। কোন ধরনের চেকিং ছাড়াই নগরবাসী চলাচল করছিলো। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দফা লকডাউন। আজ থেকে শুরু হলো তৃতীয় দফার লকডাউন। চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের সময় বাড়ালেও কিছু শর্ত শিথিল করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। জানা গেছে, লকডাউনের মধ্যেই দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেয়া হতে পারে। এছাড়া গণপরিবহন চলাচল বন্ধের শর্ত শিথিল করা হতে পারে।
গত সোমবার বিধিনিষেধ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় বসেন বেশ কয়েকজন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় শর্ত শিথিলের বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিধিনিষেধের মধ্যেও মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ রাখার জন্য কয়েকজন সচিব মত দেন। এরফলে দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেওয়া এবং সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হতে পারে।
এছাড়া আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তিনি অনুমতি দিলেই বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
এদিকে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রেখে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগের জন্য গত ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। আবেদনে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার বিষয়ে প্রস্তাব করেছে তারা।
সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আগামী সোমবার থেকে যেন সারাদেশের দোকান ও বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, সেজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কোনো দাবি ফেলেননি, এ দাবিও ফেলবেন না বলেই বিশ্বাস।
এর আগে গত সোমবার নিজের সরকারি বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সরকার ঈদের আগে ‘লকডাউন’ শিথিলের চিন্তা-ভাবনা করছে। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের জন্য ‘লকডাউন’ শিথিল হতে পারে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে এ বিধিনিষেধ আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল।
এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য অফিস ও সব ধরনের পরিবহন এবং শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখা ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। তবে শিল্প-কারখানার কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।
এদিকে দ্বিতীয় দফা লকডাউনের শেষ দিন বুধবার রাজধানীর চেকপোস্টগুলোতে সক্রিয় ছিলো না পুলিশ। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে স্থায়ী চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিগত দিনগুলোর মতো সক্রিয় থাকতে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি অন্যান্য দিনের মতো মোটরবাইক আটকে জরিমানা বা মামলা দিতেও।
একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, তীব্র রোদ, গরম আর রমজানের ক্লান্তিতেই অনেকটা বাধ্য হয়ে তৎপরতা কমানো হয়েছে। রোদ থেকে বাঁচতে বেশিরভাগ সময় চেকপোস্ট সংলগ্ন ছায়া হয় এমন জায়গায় সময় অতিবাহিত করছে।
নগরীর সব ধরনের শপিংমলগুলো বন্ধ থাকলেও অন্যান্য বাজারগুলোতে ছিলো মানুষের ভিড়। রমযানকে কেন্দ্র করে এসব বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের ব্যস্ত সময়ই পার করতে গেছে। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের একাধিক দোকানির সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত রমজান কেন্দ্রিক কেনাকাটা করতেই আসছেন ক্রেতারা।
বাহিরে লোক সমাগম বাড়ায় দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন ভাড়ায় যাত্রীটানা মোটরবাইক চালকেরা। এদিকে মহাখালী ও বনানী এলাকায় সব থেকে বেশি দেখা গেছে প্রাইভেটকার। সেই সাথে পায়ে হেটে চলা মানুষের উপিস্থিতিও ছিলো উল্লেখযোগ্য।
এদিকে লকডাউনের সময় মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংস্থাপন অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
উপসচিব মো. সাজজাদুল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ এবং প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সংযোগ সাধনের জন্য এসব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হলো। অফিসে উপস্থিত থেকে তারা এ দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আদেশে জানানো হয়।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে এ বিধিনিষেধ আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল।
এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য অফিস ও সব ধরনের পরিবহন এবং শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখা ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। তবে শিল্প-কারখানার কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ