রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

করোনার টিকার বিকল্প উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে আঘাত হেনেছে করোনা ভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে চলছে আক্রান্ত-মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙার ভয়ঙ্কর খেলা। এমন পরিস্থিতিতে গত মাসের শেষদিকে বিদেশে করোনার টিকা রফতানি স্থগিত করে ভারত সরকার। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। তবে তাতে থোড়াই কেয়ার ভারতের। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্বের বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনেওয়ালা।
বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, টিকা রফতানির কোনও নিশ্চয়তা নেই এবং এই মুহূর্তে আমরাও মনে করছি, এমন সংক্রমণের সময়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে আমাদের রফতানির দিকে তাকানো উচিত হবে না। সিরাম সিইও বলেন, হতে পারে জুন-জুলাইয়ে আমরা আবারও সামান্য পরিমাণে টিকা রফতানি শুরু করতে পারি। তবে এই মুহূর্তে আমরা দেশকেই অগ্রাধিকার দেব।
ভারতে আগামী ১ মে থেকে নতুন ধাপে শুরু হচ্ছে করোনারোধী টিকাদান কার্যক্রম। এ পর্যায়ে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকেই টিকা দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রতি মাসে দেশটির আরও ২০ লাখ ডোজ বেশি প্রয়োজন পড়বে। তবে সিরামের জন্য সেই চাহিদা পূরণ বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত, টিকা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভারত সরকারের কাছে তিন হাজার কোটি রুপি চেয়েছিলেন আদর পুনেওয়ালা। সেই অর্থ এখনও তার হাতে পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে সিরাম প্রধান বলেন, আমরা মিডিয়াতে বারবার দেখছি, তিন হাজার কোটি রুপি মঞ্জুর হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি শিগগিরই আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে। তবে আমরা এই অর্থের জন্য অপেক্ষা করিনি, উৎপাদন বাড়াতে ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করেছি। আশা করছি, এই সপ্তাহেই সরকার থেকে আমাদের কাছে ওই অর্থ পৌঁছাবে।
এদিকে, বাংলাদেশের হাতে থাকা এক কোটি তিন লাখ ডোজ টিকা ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। দেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৯ জন। অর্থাৎ দুই ডোজ মিলে এখন পর্যন্ত ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ২৭৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। চলমান টিকা কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত থাকলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এটি চলতে পারে। এ সময়ের মধ্যে টিকা না পেলে চলমান কার্যক্রম শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়বে বাংলাদেশ। ফলে বিকল্প উৎসের সন্ধানের খোঁজে বাংলাদেশ।  
গতকাল তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ডোজের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক সংশয় ছড়ানো হয়েছিল। কিছু পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অপপ্রচার চালিয়ে করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরির অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই প্রায় ১৭ লাখ মানুষ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে।
 তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকা নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও টিকা আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে টিকার বিকল্প উৎস খুঁজতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা রাশিয়া ও চীনের টিকা নিয়ে কাজ করছে। তাদের যাচাই-বাছাই করে কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, চীনের টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তারা এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার পর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চীনের টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
টিকার সংরক্ষণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন মাইনাস ৩০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেফ্রিজারেটর। কিন্তু তা বাংলাদেশে আছে মাত্র কয়েকটি। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাতেই রাশিয়ার টিকা সংরক্ষণ সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ