শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে শ্রমিক হত্যার শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারায় এস. আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুলী করে পাঁচ শ্রমিক হত্যার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। স্কপের যুগ্ম-সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন স্কপ নেতা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এস.আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, রোজার মধ্যে ১০ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস বাস্তবায়ন, গত শুক্রবারের ডিউটির সময় ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪ ঘণ্টা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকের প্রতিনিধিরা আগের দিন শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরের দিন তা অস্বীকার করায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কাজ বন্ধ কর দিলে তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করতে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। তখন শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করলে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাঁচ জনকে হত্যা এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিককে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।
তারা আরও বলেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া, নিজেদের জীবন হারানোর মত ঝুঁকি তৈরি হওয়া ছাড়া পুলিশ নির্বিচারে গুলি করতে পারে না। এস.আলম কোম্পানির ভাড়াটিয়া কোনো বাহিনীর দায় পুলিশকে সামনে এনে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি-না সেই সংশয় প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি ওই শ্রমিকদের বুকে পুলিশ গুলি চালিয়ে থাকে তাহলে খুনের অপরাধে পুলিশের ওই সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর তদন্ত ছাড়াই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তাই প্রশাসন বা পুলিশের তদন্ত নয়, প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, একই প্রকল্পে ৫ বছর আগেও গুলি করে ৪ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশের ব্যর্থতার কারণে সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি বলেই একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিন লাখ না, নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ অনুসারে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত ১০ দফা মেনে নিতে হবে। সমাবেশ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নিহত শ্রমিক পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। স্কপ নেতৃবৃন্দ, অধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করতে শ্রম আইনের কর্মঘণ্টা সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো স্থগিত করে জারি করা প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল করার এবং করোনা সঙ্কটে কর্মহীন প্রকৃত শ্রমজীবীদের হাতে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ক্রিয়াশীল শ্রমিক সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার জোর দাবি জানান।

নিহত শ্রমিক পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলীতে নিহত পাঁচ শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ লাখ করে সর্বমোট ৭৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে স্কপের নেতারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে স্কপ নেতারা বলেন, এস আলম কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা এবং আহত শ্রমিকদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ক্ষতিপূরণ নিহতদের পরিবার ও দরিদ্র শ্রমিকদের সঙ্গে উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি করছি। একইসঙ্গে আহত শ্রমিকরা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের উন্নত চিকিৎসা, তাদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা এবং বকেয়া বেতন অবিলম্বে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
গুলীবর্ষণের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বকেয়া বেতন দেওয়া, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নামাজ, ইফতারি ও সেহেরির সময় কর্মঘণ্টা কমানো। এই দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং যৌক্তিক। আলাপ-আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে পুলিশের শক্তি প্রদর্শন ও নির্বিচারে গুলি চালানো কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তি দিতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও স্কপের জেলা সমন্বয়ক তপন দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফর আলী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, টিউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউদ্দৌলা, বিএফটিউসির কে এম শহিদুল্লাহ, শ্রমিক জোটের আব্দুল মোমেন, পরিবহন শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের আব্দুর রাজ্জাক, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আলাউদ্দিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ