মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১
Online Edition

ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন নাজমুল

স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। গতকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাট করতে নেমেই ১১ ইনিংস পর টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেন বাঁহাতি টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। আর তাতেই শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালো অবস্থানেও পৌঁছে গেছে বাংরাদেশ। তার সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করেছে ৩০২ রান। নাজমুল ক্রিজে আছেন ১২৬ রানে, মুমিনুল ৬৪ রানে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাকিবের পরিবর্তে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নাজমুলকে তিন নম্বরে খেলায় টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। অবশেষে গতকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে ক্যান্ডিতে প্রথম টেস্টে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেই করলেন বাজিমাত। তামিম ইকবাল ৯০ রানে ফিরলেও হতাশ করেননি নাজমুল। গতকাল ইনিংসের ৩৭তম ওভারে বিশ্ব ফার্নান্দোর একটি বল থার্ডম্যান বাউন্ডারি মেরে হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছান নাজমুল। সবমিলিয়ে ১২০ বলে নাজমুল ৫০ রানের মাইফলকে পৌঁছান। দ্বিতীয় ৫০ রান করতে আরও ১১৫ বল খেলেছেন। সবমিলে ২৩৫ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় নাজমুল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন। গতকাল তামিমের বিদায়ের আগে দ্বিতীয় উইকেটে তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ১৪৪ রানে জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত গড়তে সাহায্য করেন নাজমুল। তামিম ৯০ রানে ফিরে যাওয়ার পর নতুন ক্রিজে নামা মুমিনুলকে দুর্দান্ত সাপোর্ট করেছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া নাজমুলের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১৭ সালে। ওই বছর নিউজিল্যান্ড গিয়েছিলেন ডেভল্যাপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে। ওখানে তার কোনও ম্যাচই খেলার কথা ছিল না। কিন্তু মমিনুলের ইনজুরি শেষ পর্যন্ত ভাগ্য খুলে দেয় তার। অভিষেক টেস্টে ১৮ ও ১২ রান করলেও তাকে নিয়ে হতাশ ছিলেন না নির্বাচকরা! ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে সেটাও কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর ২০২০ সালে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার সুযোগ হয়। পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো কিছুই ইঙ্গিত দিয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা মিলে নাজমুলের। খেলেন ৭১ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস। চলতি বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্টে ফের ব্যর্থ হন তিনি। তবুও নির্বাচকরা নাজমুলের ওপর আস্থা হারায়নি। বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও টিম ম্যানেজমেন্ট কেন নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর আস্থা রাখছিলেন ২২ বছর বয়সী তরুণ তা গতকাল বুঝিয়ে দিলেন। অনেক বছর ধরে জাতীয় দলের আশেপাশে রেখে অভ্যস্ত করা শান্তকে ইদানিং নিয়মিতই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলানো হচ্ছে। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অধিনায়কত্বও করানো হচ্ছে তাকে। কিন্তু বয়সভিত্তিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই ফর্মটা কেন জানি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টেনে আনতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। আগের ছয় টেস্টে তার গড় ২১.৯০। ফিফটি মাত্র একটা, সেটা ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দশাও খারাপ। ৮ ওয়ানডেতে ১১.৬২ গড়ে রান করেছেন মাত্র ৯৩। টি-টোয়েন্টিতে ৩ ম্যাচ খেলে রান মোটে ২৪। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ শান্ত ছিলেন পুরো ব্যর্থ। তবুও তাকে কেন টেনে বেড়ানো হচ্ছে সেই প্রশ্ন উঠেই গিয়েছিল। সাকিব আল হাসান এই সিরিজ থেকে ছুটি না নিলে হয়তো বাদ পড়তেও হতো শান্তকে। সাকিবের অনুপস্থিতিতে সেই তিন নম্বর পজিশনে নেমেই এবার আস্থার প্রতিদান দিলেন তরুণ ব্যাটসম্যান। গতকাল শুরুতে তামিম ইকবাল একপ্রান্ত থেকে রান তুলছিলেন অবলীলায়। ফলে শুরুতে অন্য প্রান্তে ঝুঁকি নিতেই হয়নি শান্ত কে। ধীরে ধীরে এগিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরির দিকে। তামিম ইকবাল ১০১ বলে ৯০ রান করে ফেরার আগে শান্ত ফিফটি পেরিয়েছিলেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি ছুঁয়েছেন ১১২ বলে। দল শক্ত অবস্থানে গেলে তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে শট খেলেননি তরুণ ক্রিকেটার। খুব বেশি আলগা বল না পেলে মারার চেষ্টা করেননি। ফলে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে কাভারের ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ২৩৭ তম বলে। তার ইনিংসে চারের মার ১২টি, ছক্কা ১টি। অবশ্য ৩৭ রানে অপরাজিত থাকার সময় শান্তর ব্যাটের কানা ছুয়ে বল গিয়েছিল উইকেটের পেছনে। কিন্তু বল নিচু হওয়াতে বুঝতেই পারেননি লঙ্কান কিপার। সেটা নিয়ে এখন ভাবার সময় কই শান্তর, ক্যারিয়ারে প্রথমবার স্বপ্নের তিন অঙ্কের ফিগারে পৌঁছুলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ