রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

আমার বক্তব্য কেটে-ছিঁড়ে পোস্ট মর্টেম করে ইচ্ছামতো ছাপানো হয়েছে -মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা আব্বাস। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ আলীর নিখোঁজের নয় বছর পূর্তিতে শনিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তার বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল রোববার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, একটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে- ইলিয়াস আলী গুমের জন্য বিএনপির কিছু নেতা দায়ী। এই কথা কী আমি বলেছি- কেউ কী প্রমাণ করতে পারবে। অসম্ভব, সম্ভব নয়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- আমার কথা বিকৃত করা হয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, পত্রিকায় এসেছে- সরকার বা আওয়ামী লীগ ইলিয়াসকে গুম করে নাই- এই কথাও আমি বলি নাই। আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে পেঁচিয়ে লেখা হয়েছে, টুইয়িস্ট করা হয়েছে। বিএনপির নেতারাই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে-এই কথাটা কী আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হয়ে আমার বক্তব্য দেয়া সম্ভব? অর্থাৎ নিজের মাথায় নিজের বোমা ফুটানো-এটা সম্ভব না। এখানেও টুইয়িস্ট করা হয়েছে।
শনিবার সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মেলনীর উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় যুক্ত হয়ে মির্জা আব্বাস ইলিয়াস আলী গুমের সাথে আওয়ামী লীগ বা সরকার জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেন এবং ‘গুমের’ পেছনে দলের কােেরা সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি পরিষ্কার করে একটা কথা বলতে চাই, আমার সহজ-সরল পরিষ্কার মনের সরল উক্তিগুলোকে বিকৃত করে আমাদের যে সকল সাংবাদিক ভাইয়েরা যার যেখানে প্রয়োজন, আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য যদি বলি তার একটা লাইন কোড করে, যার যেখানে দিয়ে প্রয়োজন কেটে-ছিঁড়ে, পোস্ট মর্টেম করে, কাটপিছ করে ইচ্ছামতো লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। কী কারণে করা হয়েছে তা আমি জানি না। গতকাল (রোববার) সকালে ইলিয়াস আলীর বাসায় গেছে একদল সাংবাদিক। তার স্ত্রীকে গিয়ে রীতিমতো চার্জ করেছে, বিভিন্ন প্রশ্ন করে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটাই বা কেনো? কী এমন ঘটনা ঘটলো যে, হঠাৎ করে এই বিষয়টা নিয়ে এতো মাথা ঘামাতে হবে?
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গত ৯টি বছর ইলিয়াস গুম হওয়ার পরে কোনো পত্র-পত্রিকায় একটি দিবস পালন করে নাই। সেই ইলিয়াস আলীর জন্য আজকে কেনো সাংবাদিকদের মাথা খারাপ হয়ে গেলো? আমি কোনো সাংবাদিককে দোষারোপ করছি না। দয়া করে সত্য বক্তব্যটা যদি তুলে ধরতেন তাহলে ভালো হতো। আমি এমন কোনো কথা বলি নাই যার জন্য জাতির কাছে, দেশের কাছে, বিএনপির কাছে কিংবা আমার নেতা-কর্মীর কাছে আমাকে বিব্রত হতে হবে। আমার বক্তব্য গতকাল যারা শুনেছেন তারা হয়ত বুঝে উঠতে পারেন নাই। আমি দুঃখিত যে, আমি বুঝাতে পারি নাই।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমি আবারো বলছি যে, আমার গতকালের বক্তব্যের কাটপিছকে তুলে ধরে সামনের অংশ, পিছনের অংশ বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে যার যেখানে যতটুকু প্রয়োজন নিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এর সঙ্গে আমার দল এবং আমি কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করি না। যারা বলছেন, যারা লিখেছেন তার জন্য তারাই দায়িত্ব বহন করবেন। আমি যা বলেছি আমার সংগঠনের ভালোর জন্য বলেছি। আমি কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বলি নাই। আমি যা বলেছি, ইলিয়াসকে স্মরণ করে বলেছি, ইলিয়াস আমাদের মধ্যে ছিলেন, আমাদের মাঝে আসবেন, সেই কথা স্মরণ করে আমি বলেছি। দয়া করে আর টুইয়িস্ট করে নিউজ করবেন না। আমাকে কেনো এই সরকার বা কিছু সাংবাদিকের টার্গেট করার প্রয়োজন হলো আমি তা বুঝতে পারছি না। এতো লোক থাকতে ইলিয়াসকে নিয়ে আমাকে টার্গেট করা- এই লক্ষণটা কিন্তু ভালো না, আমি এটাকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করি।
সরকার ইলিয়াসকে গুম করেনি এই বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে কেনো বলব যে- আমি জানি সরকার জড়িত নয়। আমি কটাক্ষ করে বলেছি। ইট মিনস সরকারই বলুক ইলিয়াস আলী কোথায় আছে? সরকারকেই জবাব দিতে হবে। এই সরকারের সময়ে একজন জলজ্যান্ত ইলিয়াস, একজন তরতাজা ইলিয়াস, সত্যভাষী একজন ইলিয়াস গুম হয়ে যাবে? সরকার বলছে তারা জানে না। তাহলে কে করলো গুম? আমি এটা বলতে চেয়েছি। সরকার যদি বলে তারা গুম করেনি তাহলে আপনারা সাংবাদিকরা কি গুম করেছেন? এই কথাটিই আমি বলতে চেয়েছি।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আপনারা কী  বের করতে পেরেছেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড কারা করলো? পারেন নাই। কারা করেছে বলতে পারবেন আপনারা। ইলিয়াস গুম হয়েছে, সাল্হাউদ্দিন আহমেদকে পাচার করা হয়েছে, আমাদের চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে, এরকম আরো হাজার হাজার নেতা-কর্মী গুম করা হয়েছে। কে করলো? তারা হাওয়া হয়ে গেলো?
শাহজাহানপুরে নিজের বাসায় এই সাংবাদিক সম্মেলন দলের আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, কামরুজ্জামান রতন, আবদুস সালাম আজাদ ও কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ