রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

করোনার এ সময়ে মানুষের হাতে টাকা দেয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : মহামারি করোনা আর্থিক সংকট বাড়িয়ে তুলেছে। আর সংকটের কারণেই সরকারকে কর দেয়ার পরিবর্তে ছাড়ের দাবি জানাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। করপোরেট করহার কমানো, মিনিমাম করের বিধান প্রত্যাহার, ভ্যাটে সবক্ষেত্রে রিফান্ড প্রদান, কোম্পানির প্রমোশনাল এক্সপেন্সের সীমা তুলে দেয়া, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, নতুন শিল্প স্থাপনে কর অবকাশ সুবিধাসহ ব্যাপক ছাড়ের প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তবে এনবিআর বলছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প এবং অনুন্নয়ন ব্যয় বন্ধ হলে মানুষের হাতে টাকা থাকবে না। করোনার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের হাতে টাকা দেয়া। তাই এনবিআরের আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য এবার বেশি ছাড়ের সুযোগ নেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন করে করারোপ না করেই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনা করতে হবে সরকারকে। এ জন্য রাজস্ব বাড়াতে হবে। সবার আগে এনবিআরের ভিত্তি মজবুত করতে হবে।
জানা গেছে সম্প্রতি দেশে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দেয়া মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআই) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির(সিসিসিআই) সঙ্গে বাজেট আলোচনা শেষ করেছে এনবিআর। আলোচনায় আগামী বাজেটে এসব সংগঠন তিন শতাধিক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসিআই, ডিসিসিআই ও বিসিআই। এর মধ্যে করছাড় ও আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট আইনে সংশোধনের জন্য ১২৬টি প্রস্তাব দিয়েছে বিসিআই। চলমান করোনার অতিমারির মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদদের কাছে প্রস্তাবনা চায় এনবিআর। এমসিসিআই, ডিসিসিআই, সিপিডিসহ ১২০টির অধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে করছাড়ের এসব প্রস্তাব দেয়। তবে রাজস্ব খাতে সংস্কারের মাধ্যমে করের পরিধি বাড়াতেও পরামর্শ দিয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান।
তথ্য বলছে, করোনার কারণে গত এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১৩ শতাংশ। প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে দশ লাখের বেশি জনশক্তি। দেশ-বিদেশে কর্মহীন হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। আমদানি পণ্যে ধস ও স্থানীয় বাজারে সব ব্যবসা-বাণিজ্য নিম্নমুখী। কাঁচামাল সংকট ও উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প উদ্যোক্তারা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে বাড়ছে ক্ষতির আশঙ্কা। এসব সংকটের কারণেই সরকারকে কর দেয়ার পরিবর্তে ছাড়ের দাবি আসছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে শুধু ছাড়ের পরিবর্তে বিদ্যমান কর কাঠামো ঠিক রাখা ও কর ফাঁকি রোধ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ জানান, নতুন করে করারোপ না করেই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনা করতে হবে সরকারকে। এ জন্য রাজস্ব বাড়াতে হবে। সবার আগে এনবিআরের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। রাজস্ব আহরণের প্রক্রিয়াটিকে অনলাইন কেন্দ্রিক করতে হবে। অর্থপাচার কিভাবে বন্ধ করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমদানিতে নজর দিয়ে ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে হবে। ভিত্তি বাড়িয়ে ও করফাঁকি রোধ করে রাজস্ব বাড়াতে হবে।
ছাড়ের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, ব্যবসায়ীদের এ বিপুল ছাড়ের সব দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। করোনার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের হাতে টাকা দেয়া। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প এবং অনুন্নয়ন ব্যয় বন্ধ হলে মানুষের হাতে টাকা থাকবে না। ফলে সংকট তৈরি হবে। সংকট সমাধানে এনবিআরকে বেশি করে আয় করতে হবে। এনবিআরের আয় বাড়াতে হলে বেশি ছাড়ের সুযোগ নেই।
এনবিআরের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতিযোগী যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করপোরেট করহার বেশি। করোনার এ সময়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের রিলিফ দিতে ও নতুন করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে করপোরেট করহার আগামী দুই বছরে ৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছে সরকারের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ  বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ প্রায় সব ব্যবসায়ী সংগঠন। বিডার পরিচালক মো. আরিফুল হক জানান, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় করহার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে পারছেন না। করোনার এ সময়ে এটি বিবেচনা অত্যন্ত জরুরি।
করপোরেট করে ছাড় দেয়ার দাবি করে এনবিআরে দেয়া প্রস্তাবে বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ফরেইন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রূপালী চৌধুরী জানান, বর্তমানে আটটি ক্যাটাগরির কোম্পানির কাছ থেকে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্পোরেট কর আদায় করা হয়। সাধারণ করহার ৩২.৫ শতাংশ; যেখানে প্রতিবেশি দেশ ভারতে করপোরেট কর হার ৩০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৮ শতাংশ। আফগানিস্তানে ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২০ শতাংশ। এ ছাড়া মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ায় ২৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে এসএমইর জন্য করপোরেট ট্যাক্স ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
করপোরেট করের ক্ষেত্রে ছাড় চেয়েছে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে এলিট সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই)। করপোরেট করের বাইরে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় দাবি লোকসানি কোম্পানির জন্য মিনিমাম ট্যাক্সের বিধান প্রত্যাহার। বর্তমানে কোনো কোম্পানিকে লোকসান দেখালেও টার্নওভারের ওপর ২ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এটিকে বৈষম্যমূলক বলছে মেট্রোপলিটন চেম্বার্স। এমসিসিআইয়ের বাজেট কমিটির সদস্য আদিব হোসেন খান বলেন, নতুন ও ছোট প্রতিষ্ঠানের অনেকেই ব্যবসায় মুনাফা পায় না। মুনাফা না পাওয়ার পরও মোট বিক্রির ওপর ২ শতাংশ কর দিতে হলে ঋণী হতে হবে ব্যবসায়ীদের। করোনার এ সময়ে ব্যবসায়ীদের এ ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধন দেয়া ১৪৬০০০ কোম্পানির মধ্যে বড় অংশই লোকসানি কোম্পানি। নতুন করে ব্যবসা শুরুর পর কয়েক বছর মুনাফার দেখা পায় নাই অনেক প্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় মুনাফা না করে কর দেয়াটা সবার জন্য বোঝাস্বরূপ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের একটা বাঁধা লোকসানী হলেও মিনিমাম ট্যাক্স। এ বিষয়টি পরিবর্তন হওয়া দরকার। করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়া জরুরি। এ জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির ওপর টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয় না। যেকোন দোকানদারের বার্ষিক বিক্রি ৩০ লাখ টাকা থেকে ৮০ লাখ টাকার মধ্যে হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে মোট বিক্রির ওপর ৪ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিতে হয়। মূল্য সংযোজন কর বাবদ এ ট্যাক্স আদায় করে এনবিআর। ৮০ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হলেই ওই প্রতিষ্ঠানকে পণ্যভেদে ভ্যাট দিতে হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ছাড় দিতে আগামী বাজেটে টার্নওভার ট্যাক্সের এই সীমা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ছাড়াও নিজেদের কয়েক লাখ উদ্যোক্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জোর দিয়ে বলছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান জানান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অর্থায়ন সমস্যা দূর করা না গেলে সিএমএসএমই খাতকে ধরে রাখা যাবে না। একই দাবি করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিও। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন যাদের পণ্য বিক্রির পর ৪ শতাংশ মুনাফা হয় না। সেখানে ৪ শতাংশ হারে ট্যাক্স পরিশোধ করে টিকে থাকা অসম্ভব।
করপোরেট করহার ও মিনিমাম কর প্রত্যাহারের দাবি ছাড়াও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, কোম্পানির আরএনডি খাতে অন্তত ৫ শতাংশ ব্যয় করমুক্ত রাখা, ডিভিডেন্ট করহার ১০ শতাংশ কমানো, রিফান্ড প্রদানের সময় ১ মাস করা, ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে করহার ১ শতাংশ করা এবং পুঁজিবাজারে গ্রিনফিল্ড অবকাঠামো বিনিয়োগের ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দাবি করেছে বাংলাদেশ চেম্বার্স। বিসিআইয়ের মতো আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব করেছে ডিসিসিআই। কর্পোরেটর ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কর অর্ধেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করা, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হলে তাতে কর সুবিধা দেয়া, ব্যবসায়ীদের তিন কোটি টাকার উপরে মোট আয়ের ওপর বাধ্যতামূলক ০.৫ শতাংশ কর অর্ধেক কমানো, ব্যক্তিশ্রেনীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, পুরো আয়কর ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনার প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা বাঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন। এ সময় করপোরেট ট্যাক্স কমানো, মিনিমাম ট্যাক্স প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরি। ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা ছাড় দেয়ার জন্য টার্নওভার ট্যাক্স ফ্রি লিমিট বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি।
রপ্তানিতে নেতিবাচক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে নগদ সহায়তার পাশাপাশি উৎসে করহার দশমিক ২৫ রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। বিপুল ক্ষতির কথা জানিয়ে টিকে থাকতে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার দাবি জানিয়েছে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরা। মোবাইল উৎপাদনে বিদ্যমান করছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছেন মোবাইল আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের  (বিএমপিআইএ)। টিভি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও কেবিনেটে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।  বিদ্যুতের কাজে ব্যবহৃত ম্যাটেরিয়ালসে নিত্য প্রয়োজনীয়  উল্লেখ করে বেশ কয়েকটি মেশিনারি আমদানিতে কর ছাড় চেয়েছেন বাংলাদেশ ইলেট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন। মোবাইল ফোনের সিমের ওপর আরোপিত ২০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন (অ্যামটব)।
সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিলেও অন্যান্য শিল্পের ন্যায় এ খাত সুবিধা পাচ্ছে না জানিয়ে কাঁচামাল হিসাবে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি করেছে পত্রিকা মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রিসাইক্লিং শিল্পের ওপর থেকে আয়কর প্রত্যাহার, রপ্তানিমূল্যের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানো, কাঁচামাল আমদানির ওপর থেকে অগ্রিম মূসকের মতো অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে প্লাস্টিক উৎপাদন ও রফতানিকারকরা। করোনার সময় লোকসান বিবেচনায় নিযে এসি বাস ও লঞ্চের বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির দাবি করেছে উভয় খাতের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া টায়ার আমদানিতে শুল্কহার কমানো, অবৈধ থ্রি হুইলার আমদানি বন্ধসহ আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কখাতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
নগদ ২০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ ছাড়াও আগামী এক বছর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিউটি পার্লার, ফুড ও দেশীয় পণ্য বিক্রির ব্যবসায় ভ্যাট ৪ শতাংশ নির্ধারণসহ ১০টি কর সুবিধা চেয়েছে নারাী উদ্যোক্তারা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৩ শতাংশ ‘অসমন্বয়যোগ্য’ অগ্রিম আয়কর এবং সরবরাহের ওপর ৩ শতাংশ কর প্রত্যাহার চেয়েছে সিমেন্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হোসেন সাধারণ হোটেল রেস্তোরাঁয় সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ হারে আরোপের প্রস্তাব করেন।
বিশ্বব্যাপী মোটরযানে জ্বালানির ব্যবহার কমে আসছে উল্লেখ করে দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে কর অব্যাহতির সুযোগ চেয়েছে দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশন (বারভিডা)। দেশে উৎপাদিত টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের সিরামিকস পণ্য উৎপাদনকারীরা। সিরামিক উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্ক অনেক বেশি উল্লেখ করে তা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অলাভজনক সংস্থা হিসেবে এ খাতের আয়ের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি এম এ মুবিন খান।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান জানান, অর্থনীতির অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারের রাজস্ব দরকার। রাজস্ব না বাড়লে সরকার যথাযথ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। অর্থনীতি সম্প্রসারিত ও দক্ষ না হলে রাজস্ব আদায়ও কাক্সিক্ষত হারে বাড়ে না । যাঁরা কর সুবিধা চান, তাঁরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত না করে কী হারে রাজস্ব আয় বাড়ানো উচিত, তার একটা ধারণা সরকারকে দিতে পারেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে একটা বিশেষ সময় যাচ্ছে। এর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব আছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা পুনরুদ্ধারে গেলেও তারা আবার খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছে। এ জন্য আগামী বাজেটে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় উদ্যোগ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। অতিক্ষুদ্র, কুটির ও এসএমই (সিএমএসএমই) খাতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা সঠিকভাবে বিতরণ হয়নি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক যেমন আগ্রহী নয়, তেমনি গ্রাহকেরাও যথেষ্ট দক্ষ নয়। এই খাতের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে পারে। ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, করোনার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি এগিয়েছে। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে ব্যবসাবান্ধব রাজস্বব্যবস্থা দরকার। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার মাথায় রেখে বাজেট সাজাতে হবে। আয়কর ও ভ্যাট হতে হবে ব্যবসাবান্ধব।
এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়েও ব্যবসায়ীদের ভাবতে হবে। তিনি বলেন, এসএমই, কৃষি, প্রাণিসম্পদ সরকারের অগ্রাধিকার খাত। ফলে এসব খাতে আমদানি পর্যায়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ