শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১
Online Edition

চূড়ান্ত দরকষাকষিতেও ছাড় হচ্ছে না দাতাদের প্রতিশ্রুত অর্থ

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের এক বছর কেটে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গত বছর মার্চে দেশে কোভিড শনাক্ত হওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও সরকারের বাজেট সহায়তা বাবদ বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশ থেকে ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান পাওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রকল্প গ্রহণে ধীরগতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে ছাড় হয়েছে মাত্র ১.৬৭ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় না হওয়ার কারণে অনেক প্রকল্পের বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চলায় ভোগান্তিতে পড়ছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষ। বেড়ে যাচ্ছে নির্মাণ ব্যয়। জটিল হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন। অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি বছর মোটা অংকের আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পায় বাংলাদেশ। তবে বছর শেষে ছাড় হচ্ছে প্রতিশ্রুতির সামান্যই।
জানা গেছে, গত বছরের জুনে ১০৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিতে এক সাথে তিনটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে ডিসেম্বরে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা ছাড় হয়ে গেলেও ৭৯৫ মিলিয়ন ডলারের অন্য দুই প্রকল্প এখনও নিতে পারেনি সরকার। প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে করোনা থেকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য এই দুই প্রকল্প নেওয়ার কথা থাকলেও সরকারের ধীরগতির কারণে গত ১০ মাসেও ঋণচুক্তি হয়নি। গত বছর বাজেট সহায়তা বাবদ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সরকার। বাকি ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলার প্রকল্প সহায়তা ও অনুদানের মধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র ১৭০.৪৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কোভিড মোকাবিলায় নেওয়া একটি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ৩৭.৪৭ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানিখাতের বেকার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মান সরকারের ১৩৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান পাওয়া গেছে।  
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেট সহায়তা বাবদ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড় হচ্ছে। তবে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন, দাতা সংস্থার সঙ্গে চূড়ান্ত দরকষাকষিতে বাড়তি সময় ব্যয় হওয়ায় ঝুলে আছে প্রকল্প সহায়তা বাবদ দাতাদের প্রতিশ্রুত অর্থ। ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সরাসরি স্বাস্থ্য খাতে ৮০০ মিলিয়ন ডলারসহ এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক নতুন প্রকল্পে প্রায় ২.৯৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পে ১.০৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। আর বিভিন্ন জটিলতায় ছয় প্রকল্পে ১.৮৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি এখনও আটকে আছে।
জানা গেছে গত এক দশকে অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে সরকার। বিনিয়োগের এ ধারা এখনো অব্যাহত। তারই ধারাবাহিকতায় চার লেনে উন্নীত হচ্ছে একের পর এক মহাসড়ক। পদ্মায় গড়ে উঠছে স্বপ্নের সেতু। দেশজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে রেলপথ। পারামাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পগুলো বাংলাদেশকে দেখাচ্ছে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি বছর মোটা অংকের আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পায় বাংলাদেশ। তবে বছর শেষে ছাড় হয় প্রতিশ্রুতির সামান্যই। ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশ যত আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, তার মধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র চার ভাগের এক ভাগ অর্থ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহায়তার সবই ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয় অর্থ ছাড়ে। কিন্তু এ ধাপে গিয়েই অনাকাক্সিক্ষত দেরি হয়, যার প্রভাব পড়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতিশ্রুত লাইন অব ক্রেডিটে আকার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের। যদিও ব্যবহার হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। এটাই বাস্তবতা যে প্রতিশ্রুতি খুব দ্রুতই আসে, কিন্তু বাস্তবায়ন ও প্রকল্প কার্যকারিতা শুরু করতেই কয়েক বছর লেগে যায়। কিছুটা দেরি হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। আবার রাজনৈতিক কারণেও আটকে যায় অর্থ ছাড়।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অবকাঠামো খাতের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের হার বরাবরই অনেক কম। ২০১৫ সালে অবকাঠামো খাতে ঘোষিত আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ১২৪ কোটি ৭২ লাখ ডলারের। ওই বছর পরিবহন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও আইসিটি মিলিয়ে মোট সহায়তা ছাড়ের হার ছিল ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০১৬ সালে অবকাঠামো খাতে ঘোষিত মোট আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ১৭৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের। ওই বছর অর্থ ছাড়ের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘোষণা ছিল ৬৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের। ওই বছর সহায়তা ছাড়ের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০১৮ সালে অবকাঠামো খাতে ঘোষিত আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ৪০৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের। ওই বছর পরিবহন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও আইসিটি মিলিয়ে মোট সহায়তা ছাড়ের হার ছিল ২২ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্বব্যাংক। ওই অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২৯৮ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতা সংস্থাটি।
২০১০ থেকে ২০১৩-এই তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ‘তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। শুরুতে সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩১১ কোটি টাকাই অনুদান। কিন্তু এসএফডির টাকা ঠিকমতো না আসায় এখনো ঝুলে আছে সেতুটির নির্মাণকাজ। সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণে (৫৯৯ কোটি ২৭ লাখ) উন্নীত হয়েছে নির্মাণ ব্যয়। বর্ধিত ব্যয়ের পুরো অংশটিই এসে পড়েছে বাংলাদেশ সরকারের কাঁধে। ফলে একনেকে অনুমোদনের ১০ বছর পরও কাজের অগ্রগতি এখন ৪০ শতাংশের ঘরে। কেবল তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নয়, এ রকম আরো অনেক প্রকল্পের বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হচ্ছে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় না হওয়ার কারণে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চলায় ভোগান্তিতে পড়ছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষ। বেড়ে যাচ্ছে নির্মাণ ব্যয়। জটিল হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন।
গত কয়েক অর্থবছর সরকার উন্নয়ন বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে দিলেও ২০১৫-২০১৮ সময়ে সবচেয়ে বেশি বিদেশী সহায়তা পেয়েছে বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো। এ সময়ে ছাড় হওয়া বিদেশী সহায়তার অর্থের পরিমাণ ২৩৮ কোটি ডলার। রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্লান্টের মতো ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর বাইরে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিদ্যুৎ খাতের আরো বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সহায়তা নির্ভরতা অনেক কমে গেলেও ইদানীংকালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের একটি বড় অংশ বাইরে থেকেই আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়ের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয়গুলোর চেয়ে বহুপক্ষীয়গুলো হয়তো কিছুটা দ্রুত হয়। কোনো প্রকল্পের চুক্তি যখন হয়ে যায় তখন সমস্যা হয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। যেমন পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে সমস্যাটা আমাদের, এক্ষেত্রে অর্থায়ন বিলম্ব বড় কারণ নয়।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের একটি প্রকল্পে জরুরী ভিত্তিতে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ৩৭.৪৭ মিলিয়ন ডলার। একই প্রকল্পের আওতায় ভ্যাকসিন কিনতে আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেবে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে একনেকের সভায় প্রকল্পটির সংশোধনী অনুমোদন দেয়া হলেও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়নি। এর ফলে সরকারের টিকা ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না।
গত বছরের জুনে অনুমোদন হওয়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের বেসরকারী বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন (প্রাইড) প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট এন্ড ইকোনমি (এজ) প্রকল্পে ২৯৫ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সংশ্লিষ্টদের আয় পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্পে ২০০ মিলিয়ন ডলার ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি উন্নয়নে ১২০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।  বোর্ডে অনুমোদন পাওয়া এ সব প্রকল্পের অর্থ ছাড় হলে করোনা সঙ্কট মোকাবিলা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করেন ইআরডির কর্মকর্তারা।
করোনা মোকাবিলায় সরাসরি স্বাস্থ্য খাতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ ও অনুদান বাবদ ৬০৭.২৩ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে সংস্থাটির ঢাকা অফিস সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে অনুদান হিসেবে আসবে ৭.২৩ মিলিয়ন ডলার। বাজেট সহায়তা বাবদ সংস্থার ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরকারের তহবিলে যোগ হয়েছে। আর ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণে নেয়া প্রকল্পে অগ্রগতি না থাকায় কোন অর্থ ছাড় হয়নি। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় পরোক্ষ ভূমিকা রাখতে ছোট উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে ৫০ মিলিয়ন ডলার, পল্লী অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে ১০০ মিলিয়ন, খুলনায় পানি সরবরাহে ১৬০ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ১.১০ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি করেছে এডিবি। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে না আসায় এ সব প্রকল্পের অর্থ ছাড় হয়নি। এদিকে সংক্রমণ শুরুর পর থেকে করোনা সংকট মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ৮৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে চীনভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এআইআইবি। এর মধ্যে গত বছরের মে মাসে অনুমোদন করা বাজেট সহায়তার ২৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সিএমএসএমই খাতের জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে না আসায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অপর দুই প্যাকেজ থেকে অর্থ ছাড় হয়নি।
জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইং প্রধান আবদুল বাকি জানান, প্রকল্প অনুমোদন ও চূড়ান্ত দরকষাকষিতে বিলম্বের কারণে কিছু প্রকল্পের ঋণচুক্তিতে বাড়তি সময় লাগছে।   বেজা ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের দুই প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের পর অনেকটা সময় চলে গেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রকল্প দুইটি একনেকের অনুমোদনও পেয়েছে। চলতি মাসেই চূড়ান্ত  মধ্যস্থতা শেষে ঋণচুক্তি হবে। এছাড়া করোনার ভ্যাকসিন কেনায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও এ মাসে হবে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ, ভেন্টিলেটর এবং ওষুধ কেনায় বিপুল পরিমাণ অর্থের দরকার। নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করার সামর্থ সরকারের না থাকায় বিদেশি সহায়তা আহরণ অপরিহার্য। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশি বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে এসে দ্রুত এ অর্থ ছাড় করার পরামর্শ দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোভিড মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, ইউরোপীয়ান ইনভেস্টমেস্ট ব্যাংকের সঙ্গে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো (২৯৫ মিলিয়ন ডলার), ফ্রান্সের দাতা সংস্থা এএফডির সঙ্গে ১৭৬ মিলিয়ন ডলার (১৫০ মিলিয়ন ইউরো) সহায়তার বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। এছাড়া ভ্যাকসিন কিনতে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার বিষয়ে এখনও আশাবাদী সরকার। তারা বলছেন, অর্থ ছাড়টা নির্ভর করে আমাদের নেয়ার সক্ষমতার উপরে। আমাদের কাছে সহায়তার প্রতিশ্রুতি অনেক। কিন্তু আমরা ছাড় করাতে পারছি না।  ওরা (দাতা) প্রতিশ্রুতি দেয়,  কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিলেই তো টাকা দেয় না। এজন্য প্রকল্প প্রণয়ন করতে হয়। এর জন্য যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার দরকার হয়, তা করতেই অনেক সময় চলে যায়। এ কারণেই প্রতিশ্রুতির তুলনায় অর্থ ছাড়ের হার থাকে কম।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশকে যেসব দেশ ও দাতা সংস্থা সহযোগিতা করে আসছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, স্ইুজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আইডিএ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইইউ, ইফাদ, ইউএন সংস্থা, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, এশিয়া ফাউন্ডেশন, চীন, ভারত, কুয়েত, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওপেক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ