শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

নির্বাচন নিয়ে কুচবিহারে রক্তপাত

ঘটনাস্থল কুচবিহার। পশ্চিমবঙ্গ তথা বাংলার নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পাঁচটি প্রাণ অকালে কেড়ে নিয়েছে। এ জন্য সেখানকার সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করে ধিক্কার জানাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগও দাবি করছে জনগণ। তবে তৃণমূল দূষছে বিজেপিকে। বিজেপি দোষ দিচ্ছে তৃণমূলের। নিহতরা সবাই মুসলিম। প্রশ্ন উঠছে বেশি এ জন্যই।
একসঙ্গে পাঁচ জন মুসলিম  নিহত হবার মতো দুঃখজনক ঘটনায় বিজেপি যথেষ্ট খুশি হয়েছে বলে জনগণ মনে করছে। তাঁদের খুশির কারণ মূলত ৩টি। ১. নিহতরা মুসলিম। ২. তাঁরা বিজেপিবিরোধী রাজনৈতিক দলের লোক। ৩. রক্তপাতের মতো মোক্ষম ঘটনা ঘটে গেছে। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো পরিস্থিতি গরম করে লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় আসা। প্রায় সব রাজনৈতিক দল লাশ নিয়ে রাজনীতির সুযোগ নিলেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মূল এজেন্ডা হলো এটাই। দাঙ্গা, তীব্র সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে ভীতিকর পরিবেশ বজায় রাখবার মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহণ করে তা ধরে রাখা। অন্যদিকে এ ভীতিকর খেলাকে উগ্র জাতীয়তাবাদের মলাট দিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে। এর আগেও দেখা গেছে, লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে ২২ জওয়ানের মৃত্যুর রাজনৈতিক সুবিধা এ দলটিই নিয়েছিল। রাজ্যজুড়ে  সৃষ্টি করেছিল ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।
বলাবাহুল্য, ভারতের এ রাজ্যটি আমাদের খুব কাছে। এর নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছুর মিল রয়েছে। এমনকি ওখানকার নাগরিকদের অনেকের সঙ্গে আমাদের রক্তসম্পর্কও বিদ্যমান। তাই ওখানে রক্তপাত ঘটলে আমাদের বেদনার্ত করে বৈকি। ওখানকার সকল নাগরিকের সার্বিক কল্যাণই আমাদের কাম্য। কে মুসলিম আর কে অমুসলিম নয়, তা বিবেচনাযোগ্য  হতে পারে না। রাজ্যটির পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রেখে সবাইকে এর জবাব গণতান্ত্রিক উপায়ে দেবার আহ্বান জানিয়েছে অভিজ্ঞ মহল। আমরাও তেমন আশা করি। রাজ্যটির সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এ নোংরা খেলা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হবে বলে সবাই প্রত্যাশা করছেন। যেকোনও নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে। এটা না থাকলে নির্বাচন জমে না। মজাও থাকে না। প্রতিযোগিতাই নির্বাচনের আমেজ। তাই বলে নির্বাচন নিয়ে রক্তখেলা হবে এমনটি কারুর প্রত্যাশা নয়। যাই হোক, কুচবিহারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ