বৃহস্পতিবার ০৫ আগস্ট ২০২১
Online Edition

মুহম্মদ মতিউর রহমানের জীবন ও কর্ম

 

স্বদেশ বিপ্লব: মুহম্মদ মতিউর রহমান বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘ ছয় দশক নীরব অবদান রেখে গেছেন। তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসাবে সর্বজন সমাদৃত এবং শ্রদ্ধেয়। নিজে একজন সুসাহিত্যিক ছিলেন এবং বহু মানুষকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার হাতেখড়ি দিয়ে বিশাল এক জনগোষ্ঠী তৈরি করেছেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল সংগঠক। শিক্ষাবিদ এবং জনহিতকর কাজেও তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। তাঁর এ বিশাল জগৎ থাকার পরও ছিলেন নিভৃতচারী। সদা হাস্যোজ্জ¦ল প্রাণবন্ত এক কিংবদন্তী। রচনা করেছেন আশিটি অমূল্য গ্রন্থ এবং অনুবাদ করেছেন বেশ কিছু বিশ্ব বিখ্যাত সাহিত্য কর্ম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিয়মিত রচনা করেছেন জীবনমুখী কবিতা। ইংরেজি ভাষাতেও ছিলেন পাকা, যা তাঁর দু’টি পুস্তিকায় স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

 এ মহান ব্যক্তি ৩ রা পৌষ, সোমবার ১৩৪৪ (১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৭) সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তর্গত শাহজাদপুর থানার চর নরিনা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস একই থানার চর বেলতৈল গ্রামে।

চর বেলতৈল গ্রাম যমুনা নদী থেকে ওঠে আসা হুরাসাগর শাখা নদীর তীরবর্তী একটি সুজলা-সুফলা-শস্যশ্যামলা নদী-বিধৌত নিভৃত পল্লী। একসময় এর উপর দিয়ে হুরাসাগর নদী প্রবল-পরাক্রমে প্রবাহিত হত। কালক্রমে নদীটির গতিপথ দক্ষিণ দিকে স্থানান্তরিত হলে ধীরে ধীরে পলিমাটি পড়ে এখানে চরের উৎপত্তি হয়। ক্রমান্বয়ে এখানে জনবসতি গড়ে ওঠে। এ জনপদের নাম হয় চর বেলতৈল। গ্রামের উত্তর পাশে কাটাখালি বিল, দক্ষিণ পাশেও দু’টি বিল-একটি ছোট বিল আরেকটি বড় বিল নামে খ্যাত। বিলের দক্ষিণে সুবিস্তৃত শস্য-শ্যামল মাঠ আর তারপর এককালের ক্ষুরধার হুরাসাগর নদী প্রবাহিত। এখন হুরাসাগর নদীর রেখাটি মাত্র অবশিষ্ট আছে। গ্রামের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের বিলগুলিও শুকিয়ে গেছে।

চর বেলতৈল একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্য রত্ন (১৮৬০-১৯২৩)। এ গ্রামে মুনশী ওয়াহেদ আলী পণ্ডিতের বড় ভাই মুনশী জহির উদ্দীন ১৮৯২ সনে ‘খাস চর বেলতৈল বালিকা বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। মুনশী জহিরউদ্দীন প্রখ্যাত ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমানের একমাত্র বোন নুরজাহান বেগমের স্বামী। জহিরউদ্দীন মুনশীর ছোট ভাই পণ্ডিত ওয়াহেদ আলী মুনশী প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ষাট বছর উক্ত বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্ত্রী মোছাম্মৎ রমিছা খাতুনও উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষয়িত্রী হিসাবে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর দায়িত্ব পালন করেন। অত্র এলাকায় নারী শিক্ষা বিস্তারে উক্ত বালিকা বিদ্যালয় ও উক্ত শিক্ষক-দম্পতির ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মুহম্মদ মতিউর রহমানের পিতার নাম আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী, মাতা- মোছাম্মৎ আছুদা খাতুন, দাদা মুনশী ওয়াহেদ আলী পণ্ডিত, দাদী মোছাম্মৎ রমিছা খাতুন, দাদার পিতা মুনশী আবু হানিফ। বনেদি মুনশী পরিবারটি একসময় বিদ্যাচর্চা ও শিক্ষাদানের কাজে সুখ্যাতি অর্জনের ফলে ‘পণ্ডিতবাড়ি’ হিসাবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। 

মুনশী ওয়াহেদ আলীর দুই পুত্র। আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী ও রকীব উদ্দীন। উভয়েরই পেশা ছিল শিক্ষকতা। আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী ‘খাস চর বেলতৈল বালিকা বিদ্যালয়’এর পাশে ‘চর বেলতৈল বালক বিদ্যালয়’ নামে ছেলেদের জন্য আর একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। মুনশী জহিরউদ্দীনের পুত্র মুনশী শফিউদ্দীন উক্ত বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৯৫২ সনে সরকারি নির্দেশে পাশাপাশি অবস্থিত বালক ও বালিকা উভয় বিদ্যালয় একীভূত হয়। ঐসময় এক সঙ্গে মুনশী ওয়াহেদ আলী পণ্ডিত ও তাঁর স্ত্রী মোছাম্মৎ রমিছা খাতুন অবসর গ্রহণ করলে আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী উক্ত একীভূত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন এবং সুদীর্ঘ তেত্রিশ বছর কৃতিত্বের সাথে উক্ত পদে নিযুক্ত থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা রকিব উদ্দিন মিয়া এনায়েতপুর হাই স্কুলে আজীবন শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী তিন পুত্র ও নয় কন্যার জনক। তারা হলেন, উম্মে শিরী, দ্বিতীয় কন্যার নাম জানা নেই (জন্মের অল্প কিছুকাল পরেই সে মৃত্যুবরণ করে), মোছাম্মৎ আখতার মহল, মোছাম্মৎ মমতাজ মহল, মোছাম্মৎ কোহিনুর বেগম, মুহম্মদ মতিউর রহমান, মুহম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ফেরদৌসী, মোছাম্মৎ নূর মহল, আব্দুল্লাহ মুহম্মদ, মোছাম্মৎ লুৎফুন নাহার, মোছাম্মৎ জান্নাত মহল ও মোছাম্মৎ ফাতেমা খাতুন। 

মুহম্মদ মতিউর রহমান দুই পুত্র ও দুই কন্যার জনক। তাঁর স্ত্রীর নাম বেগম খালেদা রহমান। পুত্রÑআহমাদুর রহমান (আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা লাভের পর বর্তমানে দুবাইতে কর্মরত) ও আবিদুর রহমান (আমেরিকায় অধ্যয়ন শেষে বর্তমানে সেখানেই কর্মরত) এবং কন্যাÑসুমাইয়া রহমান (আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানে একটি স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত) ও আফিয়া রহমান (স্বামী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত স্কোয়াড্রন লীডার মঈনুল হক)। 

ব্যক্তি জীবনের মতই তাঁর শিক্ষা জীবন। গ্রামের স্কুলে পিতার তত্ত্বাবধানে মুহম্মদ মতিউর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৫০-৫৩ পর্যন্ত নরিনা মধ্য ইংরাজি স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ঐসময় স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন মতিউর রহমানের মামা জনাব হাফিজুর রহমান। ১৯৫৪ সনে পোতাজিয়া হাইস্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ১৯৫৬ সনে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৬-৬০ সনে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে আই.এ. এবং বি.এ. পাশ করেন। ১৯৬০ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হয়ে ১৯৬২ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাতে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।

মুহম্মদ মতিউর রহমান ১৯৬২ সনে ২৬ নভেম্বর ঢাকাস্থ সিদ্ধেশ্বরী নৈশ কলেজে (স্বাধীনতার পর এতে দিবা বিভাগ খোলা হয় এবং পরবর্তীতে তা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হয়) অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। উক্ত কলেজে তিনি ১৯৭৭ সনের ১১ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যথাক্রমে অধ্যাপক, ভাইস-প্রিন্সিপ্যাল ও সর্বশেষে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্ব পালন করেন। ইতোমধ্যে ১৯৬৫ সনে তিনি মাত্র চার মাসের জন্য করটিয়া সা’দৎ কলেজে যোগদান করেন। সিদ্বেশ্বরী নৈশ কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি ১৯৬৩-৬৯ সন পর্যন্ত প্রায় সাত বছর ঢাকাস্থ আমেরিকান প্রকাশনা সংস্থা ‘ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামস’-এর নিয়মিত বিভাগে সহকারী সম্পাদক ও প্রথম বাংলা বিশ্বকোষ প্রকল্পের অন্যতম সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক ছিলেন খান বাহাদুর আব্দুল হাকিম। ১৯৭০ সনের জানুয়ারিতে ‘দৈনিক সংগ্রাম’ প্রকাশিত হলে তিনি পত্রিকার সাহিত্য-সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেন।

১৯৭৭ সনের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ জানুয়ারি ১৯৭৭ সন পর্যন্ত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নগরীতে প্রবাস-জীবন যাপন করেন। সেখানে বছরাধিককাল তিনি ছোটখাট চাকরি ও ব্যবসার কাজে নিয়োজিত থাকেন। অতঃপর ১লা মে, ১৯৭৮ সন থেকে ৩১ডিসেম্বর, ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি ‘দুবাই চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রকাশনা বিভাগে সম্পাদক হিসাবে প্রায় ঊনিশ বছর দায়িত্ব পালন করেন। দুবাইতে সরকারি দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় তিনি বিবিধ শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজে বিশেষভাবে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৯৭ সনের ৫ জানুয়ারি দেশে ফিরে তিনি বিবিধ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজে তৎপর হন এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বাংলা বিভাগের প্রফেসর ও চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন (২০০৩-০৯)।

মুহম্মদ মতিউর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নিজ গ্রাম চর বেলতৈলে যুব সংগঠনের দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে গ্রামের মসজিদে একটি মক্তব চালু করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কায়েম ও তা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উক্ত সাংগঠনিক তৎপরতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপঃ

১. সাধারণ সম্পাদক, ‘পাবনা জেলা সাহিত্য পরিষদ’ (১৯৫৮-৬০)

২. সম্পাদনা পরিষদের সেক্রেটারি ‘আমাদের দেশ’ মাসিক পত্রিকা, পাবনা (১৯৫৮-৬০)

৩. সম্পাদক, ‘ফজলুল হক হল বার্ষিকী’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১-৬২) 

৪. প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ‘পাক সাহিত্য সংঘ’, ঢাকা (১৯৬১-১৯৭১)

৫. যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ‘পাকিস্তান তামদ্দুনিক আন্দোলন’ (১৯৬৬)

৬. কেন্দ্রীয় শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা, ‘পাকিস্তান শাহীন ফৌজ’ (১৯৬৩-৬৭)

৭. কেন্দ্রীয় সভাপতি, ‘পাকিস্তান শাহিন ফৌজ’ (১৯৬৭-১৯৭১)

 

৮. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ‘স্বদেশ সংস্কৃতি সংসদ’, ঢাকা (১৯৭৩-১৯৭৭) 

৯.  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ইংলিশ স্কুল’, দুবাই (১৯৮১-১৯৯৬)

১০. সভাপতি, ’ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’, দুবাই (১৯৮৩)

১১. কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৮৩-৯৬)

১২. সভাপতি-বাংলাদেশ সাহিত্য সম্মেলন, দুবাই (১৯৯০-১৯৯৬)

১৩. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৯৩Ñ৯৬)

১৪. সভাপতি, স্বদেশ সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা (১৯৯৭-২০০২) 

১৫. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন, ঢাকা (১৯৯৮-২০২১)

১৬. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শাহজাদপুর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ, সিরাজগঞ্জ

১৭. উপদেষ্টা, হিলফুল ফুজুল (সমাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান), সিরাজগঞ্জ

১৮. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আহম্মদনগর ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদ, ঢাকা (১৯৯৯-২০০৬) 

১৯. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন ফাউন্ডেশন, ঢাকা, (২০১৫-২০২১)

২০. প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহসভাপতি, শাহেদ আলী-চেমন আরা ফাউন্ডেশন, ঢাকা, (২০১৭-২০২১) প্রভৃতি।।

এছাড়া, মুহম্মদ মতিউর রহমান নিজ চেষ্টায় কয়েকটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কায়েম করেন। এগুলোর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো :

১.  ‘মসজিদে আবু বকর সিদ্দিক (রা)’, দ্বারিয়াপুর, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ- প্রতিষ্ঠাতা ও মুতাওয়াল্লী।

২.  ‘মসজিদে ওমর ফারুক (রা)’, তেলকুপি, সিরাজগঞ্জÑপ্রতিষ্ঠাতা ও মুতাওয়াল্লী

৩. ‘আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী ও মোছাম্মৎ আছুদা খাতুন হাফিজিয়া ফোরকানিয়া মাদরাসা’, চর বেলতৈল, সিরাজগঞ্জÑপ্রতিষ্ঠাতা। 

৪. ‘মুনশী ওয়াহেদ আলী ও মোছাম্মৎ রমিছা খাতুন স্মৃতি পাঠাগার’, চর বেলতৈল, সিরাজগঞ্জÑপ্রতিষ্ঠাতা।

ষাটের দশকে মুহম্মদ মতিউর রহমান ইসলামী আদর্শ ভিত্তিক সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিশু-কিশোর প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ‘পাক সাহিত্য সংঘ’ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। অন্যান্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তবিদ ও সাহিত্যিক আব্দুল মান্নান তালিব, শাহ আব্দুল হান্নান (সাবেক সচিব), অধ্যাপক নূরুল আলম রইসী (বর্তমানে নিউ ইয়র্কের অধিবাসী), সাংবাদিক সালেহ উদ্দীন (জহুরী) প্রমুখ। ষাটের দশকে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। 

ষাটের দশকের শুরুতে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘পাকিস্তান শাহীন ফৌজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামী আদর্শভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি এক দশক কাল পর্যন্ত অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। মুহম্মদ মতিউর রহমান ছিলেন এর অন্যতম উদ্যোক্তা। প্রথমে তিনি এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও পরবর্তীতে এক নাগাড়ে পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বিশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা জনাব নূর মোহাম্মদ আকন (সাবেক সহকারী সচিব)। অন্যদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কোরবান আলী, শাহ আব্দুল হান্নান, অধ্যাপক নূরুল আলম রইসী, এ,কে,এম মোসলেম আলী, ডক্টর মুহাম্মদ হাবিবউল্লাহ, মোহসীন আলী প্রমুখ। শাহীন ফৌজের কেন্দ্রীয় পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন কাজী শামসুল হক (শাহীন ভাই)। পরবর্তীতে এ দায়িত্ব পালন করেন জনাব মাসুদ আলী।

১৯৬৬ সনে এক বিশেষ ক্রান্তিলগ্নে মুহম্মদ মতিউর রহমান পাক সাহিত্য সংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঢাকাস্থ ২২টি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও ছাত্র-যুব সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়ে এক বৈঠক আহ্বান করেন। পরপর দুটি বৈঠকের পর বাংলাদেশের সর্বজনমান্য কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও সংস্কৃতিসেবীদের নিয়ে ‘পাকিস্তান তামদ্দুনিক আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন কায়েমের সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করেন মুহম্মদ মতিউর রহমান। সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক প্রিন্সিপ্যাল ইব্রাহিম খাঁকে সভাপতি, কবি বেনজির আহমদকে সাধারণ সম্পাদক ও মুহম্মদ মতিউর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আখতারুল আলমকে সহকারী সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠিত হয়। উক্ত সংগঠনের সাথে আরও যাঁরা যুক্ত ছিলেন তাঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেনঃ প্রখ্যাত সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন, মুজীবুর রহমান খাঁ, কবি তালিম হোসেন, কবি ফররুখ আহমদ, কবি মুফাখ্খারুল ইসলাম, সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী, অধ্যাপক আব্দুল গফুর, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, কবি আব্দুস সাত্তার, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, হাফেজ হাবিবুর রহমান, আব্দুল মান্নান তালিব প্রমুখ। উক্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউশনে অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খাঁর সভাপতিত্বে ও মুহম্মদ মতিউর রহমানের পরিচালনায় এক জাঁকজমকপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিশিষ্ট সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী আবুল মনসুর আহমদের লেখা একটি প্রবন্ধ পঠিত হয় এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ তাতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে উক্ত সেমিনারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। 

মুহম্মদ মতিউর রহমান বাংলা একাডেমী, ফররুখ একাডেমী (ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন), স্বদেশ সংস্কৃতি সংসদ ও ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সমিতির জীবন সদস্য এবং ঢাকাস্থ বাংলা সাহিত্য পরিষদের একজন স্থায়ী সদস্য।

দুবাই প্রবাসকালে মুহম্মদ মতিউর রহমান তাঁর সরকারি চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য-কর্মে আত্মনিয়োগ করেন। এসব কাজের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হলোÑপ্রবাসী বাংলাদেশী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ইংলিশ স্কুল’-এর প্রতিষ্ঠা (১৯৮১)। ঐসময় দুবাই ও পার্শ্ববর্তী আমিরাত শারজাহতে প্রবাসী বাংলাদেশী ছেলেমেয়েদের জন্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে নানা প্রতিকূল অবস্থা ও বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে ইংরাজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলের মাধ্যমে তিনি সেখানে ছাত্র-ছাত্রী ও প্রবাসী কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে নিয়মিত মাসিক সাহিত্য-সভা, আমিরাতব্যাপী বার্ষিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন, বাংলা পুস্তক-প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৬ই ডিসেম্বর ও ২৬ শে মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপনের ব্যবস্থা করেন। 

বার্ষিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন ও পুস্তক প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর একজন বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিককে দাওয়াত দিয়ে দুবাই নিয়ে যান এবং তাঁদেরকে স্কুলের পক্ষ থেকে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন। এসব পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন-আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ, জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, বিশিষ্ট কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলী, নজরুল-গবেষক শাহাবুদ্দীন আহমদ, ইসলামী চিন্তাবিদ-সাহিত্যিক আব্দুল মান্নান তালিব ও গবেষক কবি কথাশিল্পী আবদুল মান্নান সৈয়দ।

বিভিন্ন সময় বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে যোগদান ও স্কুল পরিদর্শনে যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি আগমন করেন তাঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেন ঃ বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) এ.এস.এম. মুস্তাফিজুর রহমান। সাবেক পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ও শিক্ষা বিভাগের পদস্থ কর্মকর্র্র্র্র্তাবৃন্দ।

মুহম্মদ মতিউর রহমান ‘বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী সকল কবি-সাহিত্যিককে ঐক্যবদ্ধ করার ও তাদেরকে সাহিত্য-চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস পান। তাদের লেখা নিয়ে বার্ষিক সংকলন, প্রবন্ধ সংকলন ইত্যাদি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। তিনি আবুধাবি বেতারে বাংলা অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন। তিনি আবুধাবিস্থ সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ‘ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’-এর (বাংলা বিভাগ) সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে দীর্ঘ পনের বছর দায়িত্ব পালন করেন। ফলে আমিরাতের সর্বত্র তিনি ব্যাপকভাবে সফর করেন এবং বিভিন্ন এলাকায় এর শাখা-প্রশাখা গড়ে তোলেন। 

এছাড়া, প্রবাস-জীবনে তিনি দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বহুবিধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-মুহূর্তে তিনি প্রবাসী সমাজকর্মীদের নিয়ে দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ দান সামগ্রী সংগ্রহ ও দূতাবাসের মাধ্যমে তা বাংলাদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। 

পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে মুহম্মদ মতিউর রহমান কবিতা লেখা শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানত প্রবন্ধকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৫৮ সনের মে মাসে ঔপন্যাসিক নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœর উপর লেখা তাঁর প্রথম গবেষণামূলক প্রবন্ধ ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত হয়। তখন তিনি বি.এ ক্লাশের ছাত্র। এরপর তিনি বাংলাদেশ ও দুবাই থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ইসলামী বিষয়ে লেখালেখি করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের একটি তালিকা নিচে প্রদত্ত হলো ঃ 

‘সাহিত্য কথা’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’, ‘সমাজ সাহিত্য সংস্কৃতি’, ‘মহৎ যাদের জীবন কথা’, ‘ইবাদতের মূলভিত্তি ও তার তাৎপর্য’, ‘ফররুখ প্রতিভা’, ‘বাংলা সাহিত্যের ধারা’, ‘বাংলা ভাষা ও ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন’, ‘ইবাদত’, ‘মহানবী (স)’, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি’, ‘মহানবীর (স) আদর্শ সমাজ’, ‘ছোটদের গল্প’, ÔFreedom of Writer’, ‘বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্য’, ‘মানবাধিকার ও ইসলাম’, ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা’, ‘রবীন্দ্রনাথ’, ‘স্মৃতির সৈকতে’, ‘মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ মহানবী (স)’, ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার’, ‘মাতা-পিতা ও সন্তানের হক’, বাংলাদেশের সাহিত্য, ফররুখ প্রতিভা (পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার, সংস্কৃতি, বাংলাদেশের সাহিত্য, ‘সাহিত্যচিন্তা’, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, হাজার বছরের বাংলা কবিতা, ও ইউরোপ আমেরিকার পথে জনপদে, ‘সমকালীন বাংলা সাহিত্য’, ‘কিশোর গল্প’, ‘আরব উপসাগরের তীরে’, ‘বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভূমিকা’, ‘মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্য-রত্নঃ জীবন ও সাহিত্য’, ‘আশির দশকের কবি ও কবিতা’, ‘নানা প্রসঙ্গ’ প্রভৃতি। 

তাঁর অনুবাদ গ্রন্থগুলো হচ্ছে:  ইরান,  ইরাক, আমার সাক্ষ্য।  তাঁর সম্পাদনায় উল্লেখিত পত্রিকা বা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:  প্রবাসী কবিকণ্ঠ, প্রবাসকণ্ঠ, ভাষা সৈনিক সংবর্ধনা স্মারক, স্বদেশ সংস্কৃতি (সাময়িক পত্রিকা-১৯৯৮), ব্যারিস্টার কোরবান আলী স্মারক পত্রিকা, ফররুখ একাডেমী পত্রিকা (১৯৯৮-২০২১), ফররুখ আহমদেও স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্য (১ম ও ২য় খণ্ড)।  তিনি অসংখ্য পুরস্কারও লাভ করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মুহম্মদ মতিউর রহমান ১৯৯৬ সনে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ইংলিশ স্কুল’, দুবাই কর্তৃক স্বর্ণপদক (১৯৯৬) ও ‘বাংলাদেশ আধ্যাত্মিক কবিতা পরিষদ’, ঢাকা প্রদত্ত পদক ২০০৪, সিএনসি পদক ২০১৭, কিশোরকণ্ঠ পদক ২০১৮ পান। তিনি পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করেন। পবিত্র হজ্জব্রত পালন উপলক্ষে দু’বার সৌদি আরব গমনসহ মুহম্মদ মতিউর রহমান বিভিন্ন সময় এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার বিশটি দেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেন। 

 এ মহান ব্যক্তি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যান এবং রেখে যান অসংখ্য কর্ম। যা অনন্তকাল তাঁকে মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ