রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

রাতুলের বিড়াল ছানা

মোঃ গোলাম রাব্বানী :

রাতুল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট থেকেই সে পড়াশোনায় দুর্বল। কোনরকম ঠেলেঠুলে পাস। এমন পড়াশোনার জন্য ওর বাপ মায়েরও অভিযোগ। বড় হলে রাতুল কি করবে? ভালো পড়াশোনা না হলে ভালো স্কুল-কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। ভীষণ চিন্তা রাতুলের বাপ-মায়ের। পঞ্চম শ্রেণি হতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলো। ভর্তি করার পর মা খুব বকাবকি করে বলে; পড়াশোনা ভালো না করলে তোকে আদর-যতœ কম করবো। খেলাধুলার আসবাবপত্র কিনে দেব না। নানান কথা। সেদিন একাকি রুমে ঘুমাতে গেলো রাতুল। মা কয়েকবার বললো আয় বাবা একসাথে ঘুমাবো। রাতুল বলে আমি একাকি থাকতে চাই মা। রাত অনেকটা বেড়ে গেলো। ওর ঘুম নেই চোখে। হঠাৎ ওর পড়ার টেবিলে দেখে একটি কালো বিড়াল ছানা টগবগিয়ে চেয়ে আছে। লাল-লাল চোখ তার। কিছুটা ভয় ওর গলা শুকিয়ে গেছে তখন। মা দুধের গ্লাস টেবিলে রেখেছে। সেই দুধ নিজে না খেয়ে বিড়াল ছানাটাকে দিলো বাটিতে ঢেলে। তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে সে চলে গেলো। রোজ এইভাবে রাতে সে বিড়ালছানা আসে। এবং রাতুলও দুধ না খেয়ে বিড়ালছানাটাকে খেতে দেয়। এভাবে ঐ বিড়াল ছানার উপর তার মায়া বেড়ে গেলো। আর বিড়াল ছানাটাও রাতুলের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলো। একদিন রাতুল পড়ছে। হঠাৎ ওর বইয়ের পাতা নিয়ে তার চোখে- মুখের উপর ধরলো। রাতুল বুঝতে পারছে বইয়ের সমস্ত  লেখা  তার মস্তিষ্কে দেখা যাচ্ছে। দু’মিনিট পর খেয়াল করে বই তার হাতে। একটা-দুইটা পাতা উল্টিয়ে দেখে এসব পড়া তো কিছু আগে পড়েছি। পরের দিন ক্লাসে শুরু হলো পড়া ধরার ধুম। সবাইকে ধরা হলো। কেউ পারলো না। রাতুলের পালা অবশেষে। শিক্ষক পড়া ধরার আগেই কয়েক পৃষ্ঠা ঝরঝর করে বলে ফেললো সে। শিক্ষক ও ছাত্ররা তো হতবাক। যে ছেলে পড়াশোনায় একদম গোল্লা পায় সে কিভাবে পড়া মুখস্থ করলো? সেদিন এভাবে পড়া দেওয়ার পর ওর মন ফুরফুরে মেজাজে ছিলো। কেমন একটা আনন্দের ঢেউ ওর মনে বয়ে বেড়াচ্ছে। রাস্তায় এসে দু ফুট লাফ দিলো। এভাবে রোজ তার বিড়ালছানা বই নিয়ে তার চোখের সামনে ধরে আর তার পড়া মুখস্থ হয়ে যায়। এমনি করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা হলো। পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। ওর বাপ-মা ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তো হতবাক ওর রেজাল্ট দেখে। রেজাল্টের দিন ওর বাপ-মা কত খুশি। ওর জন্য নানান পোশাক কিনে এনেছেন। দিতে গিয়ে দেখেন রাতুল একটা কালো বিড়াল ছানার সাথে কথা বলছে। বলছে তুমি কি এলিয়েন "? বিড়ালছানা সেজে আছো তাই না?  কারণ এলিয়েন হলে মানুষ তো তোমাকে ধরে অত্যাচার করবে। তাই বিড়াল ছানা সেজে আমার কাছে আসো। তখন বিড়াল ছানাটি ঘরের উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। রাতুল বুঝলো ঠিক এটি এলিয়েনই হবে। কিরে রাতুল কি বলছিস এসব। হ্যাঁ মা এই বিড়ালছানাটার জন্যই তোমার রাতুল এতো ভালো পড়াশোনা করে। ওকে এক গ্লাস দুধ দাও তুমি। তারপর একটি বড় বাটিতে ঢেলে দিলো দুধ। সে খেয়ে গেলো উধাও হয়ে। রাতুল কাঁদতে  কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে গেলো। তারপর আর  আসেনি  বিড়াল ছানা রাতুলের ঘরে। কিন্তু ওর ছায়া লেগে থাকে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ