মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

রমযানের প্রথম দিনেই অন্যরকম দৃশ্য

 

স্টাফ রিপোর্টার: ত্যাগের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও তাক্বওয়া অর্জনের পবিত্র মাস রমযান শুরু হয়েছে লকডাউন শুরুর মধ্য দিয়ে। তাই এবারের রমযানের প্রথম দিনের দৃশ্যপট ছিল অন্যরকম। যা অতীতে ছিল না। রমযানের সেই আবহ ও বাহারী ইফতারের দৃশ্যপট ছিল না রাজধানীসহ দেশের কোথাও। তবে প্রত্যেকেই যার যার মতো করে ইফতারের আয়োজন করেছে। লকডাউনের কারণে আগে থেকেই নানা বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। মসজিদসমূহে পাঁচওয়াক্ত নামায ও তারাবিহ নামাযে বিধি নিষেধ থাকায় অনেকেই মসজিদে যাননি। বাসায় নিজেদের মতো করে তারাবিহ আদায় করেছেন। আবার কেউ কেউ মসজিদে গিয়ে নামায আদায়ের সুযোগ না পেয়ে ফিরে এসেছেন।এদিকে ইফতার নিয়ে রমযানের শুরু থেকেই নানা আয়োজন থাকে। রাস্তায় ও মসিজদে রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য বাহারী ইফতারের আয়োজন করা হয়, এবার এ ধরনের কোন আয়োজন করা হয়নি। বাহারি ইফতারের চারশ বছরেরও পুরনো ঐতিহ্য রাজধানী ঢাকায় চকবাজারের ইফাতারি। গেল কয়েক বছরে ইফতার কেনাবেচায় এটি হয়ে উঠেছে সারাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তবে করোনা মহামারির কারণে দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এবার চকের ভাসমান ইফতারির দোকানগুলো বসেনি। তার বদলে দোকান খুলে ইফতারি বেচছেন বিক্রেতারা।

লকডাউনের কারণে গেল বছরের রমযানের মতো এবারও রাজধানীর ফুটপাতে কোনো ধরনের ইফতারসামগ্রী বিক্রি করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছেন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা। এ কারণে ঢাকার কোথাও বসেনি ভাসমান ইফতারির দোকান। প্রতিবছর রোজা শুরুর আগে থেকে চকবাজারের সার্কুলার রোডে বসে ইফতারের দোকান। কিন্তু এবার কোনো দোকানতো বসেইনি, নেই ক্রেতা সমাগমও। কেউ কেউ বসার চেষ্টা করলেও তাদের তুলে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন। এ কারণে চকবাজার শাহী মসজিদ রোড ও চক সার্কুলার রোড এ বছর বলতে গেলে ফাঁকা।

রাজধানীর চকবাজারের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজ বলেন, সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা নিয়ম মেনে কাজ করছি। ক্রেতাদের বলছি, স্বাস্থ্যবিধি মানতে। বিক্রেতাদের বলছি, দোকানের ভেতরে বসেন।

পুলিশ বলছে, সরকারি নির্দেশনার কারণেই রাস্তা বা ফুটপাতে কোনো ধরনের ইফতারসামগ্রী বসতে দেয়া হচ্ছে না। মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরবাসীর পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

চকবাজারের ইফতারির বিশেষ আকর্ষণীয় খাবর ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এছাড়াও এই বাজারের বটি কাবাব, সুতা কাবাব, রেশমি কাবাব, জালি কাবাবের সুনাম রয়েছে গোটা ভারতবর্ষেই। এখানে ১৫ থেকে ২০ প্রকারের কাবার বিক্রি হয়। বেচাকেনা হয় রান্না করা আস্ত খাসি ভুনা, আস্ত কোয়েল ভুনা, নানান ধরনের টিকিয়া, শাহী জিলাপি, ফিরনি, লাবাং, বোরহানি, মাঠাসহ নানাধরনের খাবার। কথিত আছে, অনেক আগে এসব খাবারের বেশির ভাগই রান্না হতো মুঘল দরবারের হেঁসেলে।

অপরদিকে বরকতময় এই পবিত্র মাহে রমযানকে স্বাগত জানিয়ে ফেইসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন স্টাট্যাস দিচ্ছেন নেটিজেনরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তার ফেইসবুকে লিখেন, সবাইকে পবিত্র রমযানের শুভেচ্ছা। আল্লাহ্ আমাদের ঠিকমতো রোজা রাখার ও নামায পড়ার তৌফিক দিন। আরো ভালোমানুষ হওয়ার জন্য সাহায্য করুন। করোনাকালে আরো বেশি বেশি করে দান করার বিবেচনাবোধ দিন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষ ভালো থাকুন, শান্তিতে থাকুন।

বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন লিখেন, বছরের সবচাইতে প্রিয় মাসটি চলে এসেছে। সকলে নিয়মিত নামায রোজার মধ্য দিয়ে করোনা মুক্তির জন্য মহান আল্লাহতায়ালার নিকট ক্ষমা চাই।

সাংস্কৃতিক কর্মী সামিউল জীবন লিখেন, মহান আল্লাহ আমাদের রমযানের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের শক্তি দান করুন এবং এই মহামারি থেকে দ্রুত মুক্তি দিন। এই রমযান সবার মাঝে শান্তি বয়ে আনুক। আসুন আমরা সবাই ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরকে ভালোবাসি।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ