বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

মুভমেন্ট পাস লাগবে না ডাক্তার-সাংবাদিকসহ ১৮ পেশার মানুষের 

স্টাফ রিপোর্টার : চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে যাদের একান্তই বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হবে তাদের জন্য ‘মুভমেন্ট পাস’র ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এই পাসধারী ব্যক্তি করোনাকালীন নিয়ম মেনে সড়কে চলাচল করতে পারবেন। মুভমেন্ট পাস দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপস তৈরি করেছে পুলিশ। এর নাম ‘মুভমেন্ট পাস অ্যাপস’।

তবে বেশকিছু জরুরি পেশার মানুষদের মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদরদফতর। তারা শুধুমাত্র নিজেদের অফিস আইডি কার্ড দেখিয়ে বিধিনিষেধের সময় চলাচল করতে পারবেন।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় গতকাল ১৪ এপ্রিল বুধবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ (সর্বাত্মক লকডাউন) জারি করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষকে ঘরের মধ্যে থাকতে বলা হলেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার জন্য ‘মুভমেন্ট পাস’র ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের এই পাস লাগবে না। তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রই মুভমেন্ট পাস হিসেবে গণ্য করা হবে বলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল।

তবুও বিধিনিষেধের দুই দিনে রাজধানীতেই ৪ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে পুলিশের হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সমন্বয় ও নির্দেশনার বিষয় নিয়ে।

বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে এবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হলো মুভমেন্ট পাস কাদের জন্য প্রযোজ্য আর কাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যাদের চলাচলে পাসের প্রয়োজন নেই এমন ১৮টি পেশার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, তাদের চলাচলে মুভমেন্ট পাস প্রয়োজন নেই। শুধু পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতে পারবেন।

লকডাউনে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত যারা:  চিকিৎসক, নার্স ,মেডিকেল স্টাফ, কোভিড-১৯ টিকা/চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/স্টাফ, ব্যাংকার, ব্যাংকের অন্যান্য স্টাফ, সাংবাদিক, গণমাধ্যমের ক্যামেরাম্যান ,টেলিফোন/ইন্টারনেট সেবাকর্মী, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা/কর্মচারী, অফিসগামী সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পকারখানা/গার্মেন্টস উৎপাদনে জড়িত কর্মী/কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিস, ডাকসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/কর্মকর্তা ও বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/কর্মকর্তা।

লকডাউন বাস্তবায়নে স্থাপিত চেকপোস্টে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিফিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে তিন লাখ ১০ হাজার জন ব্যক্তি মুভমেন্ট পাসের জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার জনের পাস ইস্যু করা হয়েছে।

গত ১৩ এপ্রিল সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে মুভমেন্ট পাস অ্যাপসের উদ্বোধন শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘মুভমেন্ট পাস নিতেই হবে এমন না। আমরা কাউকে বাধ্য করছি না। এখানে আইনগত কোনো বিষয় নেই।’ তবে পাস ছাড়া কেউ বের হলে তিনি পুলিশের জেরার মুখে পড়বেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আইজিপি। সেই সময়ে তিনি সাংবাদিকদের মুভমেন্ট পাস দরকার নেই বলে জানিয়েছিলেন।

৪৬ ঘণ্টায় এ পর্যন্ত মোট ১৬ কোটি নাগরিক পুলিশের মুভমেন্ট পাস নেওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে ঢুকেছে। এত সংখ্যক হিটের কারণে ওয়েবসাইটটিতে আবেদনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ১৬ কোটি হিট হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে হিট হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৪২টি। তবে তাদের সবাই পাসের জন্য আবেদন করেননি। গত ৪৬ ঘণ্টায় ৩ লাখ ১৬ হাজার নাগরিককে মুভমেন্ট পাস দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ