রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

চলনবিলে সজনে ডাঁটার বাম্পার ফলন 

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) শাহজাহান : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ  উপজেলার গ্রীষ্মকালীন সবজি সজনে ডাঁটার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে বেশী উৎপাদন হযেছে।  তাড়াশ উপজেলার সদর থেকে চলনবিলের রায়গঞ্জ, সলঙা, চাটমোহর গুরুদাসপুর, সিংড়া, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, এলাকার  গ্রামে, গঞ্জে, সবখানে গাছেগাছে প্রচুর পরিমাণে সজনে ডাঁটা ধরেছে। বাজারে আমদানিও বেড়েছে দ্বিগুণ। স্থানীয় হাট বাজারে সজনে ডাঁটার ব্যাপক চাহিদা রযেছে। মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে ডাঁটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন উপজেলার যে কোন হাট বাজারে  শত শত মণ সজনে ডাঁটা আমদানি হচ্ছে। দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা কম হলেও প্রতিমণ সজনে প্রাইকারীভাবে বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ থেকে ৮৫০ টাকা। উপজেলার দেশীগ্রামের ইউনিয়নের ডাঃ ইসাহাক আলীর ৩টি গাছে ১৮ মণ সজনে ডাটার ফলন হয়েছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এ ছাড়া মাধাইনগর ইউনিয়নের মালশীন গ্রামের আঃ বারির তার ৪টি সজনে গাছে ২০ মণ সজনে ডাটা বিক্রি করে অনেক টাকার লাভবান হয়েছেন। নিজের চাহিদা মিটিয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে দিয়েছেন। অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাঁটা পুষ্টিগুণ ও স্বাদে বেশি হওয়ায় যে কোন বয়সের মানুষ খেতে ভালবাসে। চিকিৎসাবিদদের মতে সজনে সবজিতে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ, আয়রনসহ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় ,খাদ্য প্রনালী প্রচুর পরিমাণে থাকে। এ ছাড়া ভিটামিন এ ,বি, সি, সমৃদ্ধ সজনে ডাঁটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীরের পুষ্টির জন্য গর্ভবর্তী ও প্রসূতি মায়েদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে বলে সজনে ডাঁটা ওষুধী সবজি হিসেবে ও ব্যাপক সমাদৃত। এ ছাড়া সজনে গাছের ছাল এবং পাতা রক্তামাশয়, পেটের পিরাও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সজনে ডাঁটা প্রধানতঃ দুই প্রজাতির। এর মধ্যে এক প্রজাতি বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে এর নাম বলা হয় রাইখঞ্জন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ