রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

ভোলাহাটে রেশমের বাম্পার ফলন ফিরে আসতে পারে হারানো ঐতিহ্য রেশম গুটি শুকানো হচ্ছে

 

মোঃ জামিল হোসেন, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : দীর্ঘদিন ধরে রেশম চাষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও লাভের মুখ দেখেননি তেমন একটা। রেশম চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বার বার। কিন্ত বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চালিয়ে গেছেন রেশম চাষ। এ বছর রেশমের বাম্পার ফলন পেয়ে মহাখুশি তিনি ও তার পরিবার।

হাসি মুখে কথাগুলো বলছিলেন ভোলাহাট উপজেলার চরধরমপুর গ্রামের রেশম চাষি সমরুদ্দিন। সমরুদ্দিন এ বছর সমরুদ্দিন ৬০০ ডিম নিয়েছিলেন এবং বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন।

রেশমের গুটি রোদে শুকাতে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে তিনি জানান, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি স্যার আব্দুল হাকিম,ও আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় রাজশাহীর উপপরিচালক কাজী মাসুদ রেজা যোগদান করার পর থেকে তার মত দিন দিন চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি ভোলাহাট উপজেলার ২৬৬ জন চাষি রেশমের চাষ করছেন। রেশম চাষে বাম্পার ফলনও পেয়েছেন এবং এতে মহা খুশি তারা।

একই মত চরধরমপুর গ্রামের রেশম চাষি বজলুর রশিদ, ধরমপুর গ্রামের তোফাজ্জুল হক, যাদুনগরের মুন্টু মিয়া, আনিসুর রহমান, কুদ্দুস আলী, বজরাটেক গ্রামের হামিদুলের। তারাও এবছর রেশমের বাম্পার ফলন পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদ্য যোগদানকারী রেশম বোর্ডের কর্মকর্তারা রেশমের সুদিন ফিরিয়ে আনতে রেশম চাষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ফার্মিং পদ্ধতিতে রেশম চাষের পরার্মশ দিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাসহ জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ করেছেন।

ফলে এক বছরের ৪টি বন্দ অগ্রণী, চৈয়তা, জৈষ্ঠি ও ভাদরি বন্দে রেশমের বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষিরা।

চাষিরা জানান, এর আগে কর্মকর্তাদের গাফলতির কারণে ও কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় ফলন বিপর্যয় হতো। এর আগে এ ৪টি বন্দে ১শ’ ডিমে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ কেজি ফলন পাওয়া গেলেও বর্তমান পদ্ধতি অবলম্বন করে এখন ফলন পান ১শ’ ডিমে ৯০-৯৫ কেজি। আগে মণ প্রতি দাম মাত্র ৮-৯ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও এখন কৃষক দাম পাচ্ছেন ১৪-১৫ হাজার টাকা করে। আর এবছর রেশমের দাম পাওয়ায় যারা রেশম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারাও রেশম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বার বার লোকসানের কারণে রেশম চাষ ছেড়ে দেওয়া সমরুদ্দিন জানান, আগ্রহী চাষিদের মধ্যে উন্নতমানের তুঁত চারা সরবরাহসহ আর্থিক সহায়তা দিলে রেশম চাষ আগের ঐতিহ্য ফিরে পাবে, বাড়বে রেশম চাষিদের পরিবারে স্বচ্ছলতা। রেশমের বাম্পার ফলনে চাষিদের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাই তারও রেশম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, তার মত অনেক রেশম চাষি আবারও রেশম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ভোলাহাট রেশম সম্প্রসারণ জোনাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) কাজী মাসুদ রেজা জানান, জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করে পরামর্শ দেয়ার কারণে এ বছর রেশমের বাম্পার ফলন হয়েছে। রেশম চাষিদের দাবি এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে রেশমের আগের ঐতিহ্য। রেশম চাষিদের ঘরে ঘরে ফুটবে সুখের হাসি। আগের তুলনায় দ্বিগুন চাষি বৃদ্ধি পেয়েছে বর্তমানে রেশম চাষির সংখ্যা ২৬৬ জন। ভোলাহাট উপজেলা এক সময় যেমন রেশম চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আবারও সে ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ