মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে ব্যাঙ্গালুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার : আইপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। দলটি হায়দরাবাদকে হারিয়েছে ৬ রানে। এই নিয়ে টানা ২ জয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো ব্যাঙ্গালুরু। অন্যদিকে টানা ২ ম্যাচে হেরে টেবিলের সপ্তম স্থানে নেমে গেল হায়দরাবাদ। শুরতে ব্যাট করতে নেমে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ফিফটিতে ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ব্যাঙ্গালুরু। জবাবে ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তুলতে পারে হায়দরাবাদ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শেষ ৪ ওভারে দরকার মাত্র ৩৪ রান। কিন্তু ব্যাঙ্গালুরুর স্পিনার শাহবাজের ১৭তম ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে হায়দরাবাদ তুলল মাত্র ১ রান। আর ওই এক ওভারেই বদলে গেল ম্যাচের ভাগ্য। ১৬ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান তুলে ফেলেছিল হায়দরাবাদ। ৩৭ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ৯ বলে ১ রান করে ওপেনিং সঙ্গী ঋদ্ধিমান সাহা বিদায় নেওয়ার পর মনীশ পান্ডেকে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়েন এই অজি বাঁহাতি ওপেনার। ওয়ার্নার বিদায় নেওয়ার পরই মূলত পথ হারায় হায়দরাবাদ। শাহবাজের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই হার্শাল প্যাটেলের অসাধারণ ক্যাচে বিদায় নেন জনি বেয়ারস্টো (১২)। পরের বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বল উপরে তুলে মারেন মনীশ। উইকেটরক্ষক ডি ভিলিয়ার্স অনেকটা দৌড়ে গিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন। ৩৯ বলে ৩৮ রান করা মনীশের বিদায়ের পর ক্রিজে নামা আব্দুল সামাদ শাহবাজকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করলেও টিকতে পারেন মাত্র ১ বল। ওভারের শেষ বলেই বোলার শাহবাজের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন সামাদ। হার্শালের করা পরের ওভারে বিজয় শঙ্কর (৩) বিদায় নিলে প্রমাদ গুনতে থাকে হায়দরাবাদ। জেসন হোল্ডারও (৪) দ্রুত বিদায় নেন।শেষ ওভারে জিততে হায়দরাবাদের দরকার ছিল ১৫ রান। ক্রিজে দলটির আশা হয়ে ছিলেন রশিদ খান। হার্শালের করা ওভারের তৃতীয় বলটি হয় নো বল, চার মেরে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেন আফগান স্পিনার। কিন্তু ফ্রি হিটে কোনো রান নিতে পারেননি তিনি। পরের বলে রশিদ রান আউট হলে শেষ হয় হায়দরাবাদের আশা। পঞ্চম বলে নটরাজন শাহবাজ আহমেদের ক্যাচে পরিণত হন। শেষ বলে আসে ১ রান।  বল হাতে শাহবাজ ২ ওভারে মাত্র ৭ রান খরচে নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন সিরাজ ও হার্শাল। ১ উইকেট গেছে কাইল জেমিসনের ঝুলিতে। এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৯ রানেই ওপেনার দেবদূত প্যাটেলের (১১) উইকেট হারায় ব্যাঙ্গালুরু। এরপর শাহবাজ আহমেদকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন বিরাট কোহলি। কিন্তু শাহবাজও (১৪) বেশিদূর এগোতে পারেননি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এসে হাল ধরলে ৪৪ রানের জুটি পায় ব্যাঙ্গালুরু।  কোহলি (২৯ বলে ৩৩ রান) দলকে ৯১ রানে রেখে জেসন হোল্ডারের বলে ক্যাচ তুলে দিলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স (১) রশিদ খানের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হলে চাপে পড়ে যান ম্যাক্সওয়েল। ফলে কিছুক্ষণ খোলসে ঢুকে পড়েন এই অজি বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। কিন্তু অপর প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তেই থাকে। তবে স্রোতের বিপরীতে ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকেন ম্যাক্সওয়েল। জেসন হোল্ডারের করা ইনিংসের শেষ বলে তুলে মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ৫৯ রান। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটিই ব্যাঙ্গালুরুকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়।  বল হাতে ৩ উইকেট গেছে হায়দরাবাদের ক্যারিবীয় পেসার হোল্ডারের দখলে। ৪ ওভারে ১৮ রান খরচে ২ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ