মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Online Edition

সাকিবের নম্বর জুয়াড়িদের দিয়েছিলেন স্ট্রিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : ফিক্সিংয়ের কারণে বাংলাদেশ দলের সাবেক বোলিং কোচ, জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক হিথ স্ট্রিককে আট বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকা- থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। দলের তথ্য পাচারের বহু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাকে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্ট্রিককে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি জানায় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে জেনেও দুর্নীতি-দমন ধারা ভেঙে দলের ভেতরের তথ্য পাচার করেছেন স্ট্রিথ। জাতীয় দলের অধিনায়কসহ মোট চারজন ক্রিকেটারকে এমন একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন স্ট্রিক যিনি জুয়াড়ি হতে পারেন। অবশ্য হিথ স্ট্রিকের অধীনে বাংলাদেশ দল পেস বোলিংয়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল। তবে সফলতা এনে দিলেও বাংলাদেশ দলে আরেক খারাপ করেছেন তিনি। কয়েকবছর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে জুয়াড়িদের আনাগোনা বাড়ে তার হাত ধরেই- এমনটাই জানা যাচ্ছে আইসিসির তরফে। ২০১৯ সালের অক্টোবরের ২৮ তারিখ জুয়াড়িদের সঙ্গে যোগাযোগ গোপন করার দায়ে নিষিদ্ধ হন তখনকার টেস্ট ও টি টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, সাকিবের কাছের কেউই জুয়াড়ি দীপক আগরওয়ালকে দিয়েছিলেন সাকিবের নম্বর। সেখান থেকেই দু’জনের কথা চালাচালি হয় হোয়াটস্যাপে, আগরওয়াল জানতে চান বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের কিছু তথ্য। এ ব্যাপারে আইসিসিকে না জানিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন সাকিব। রায়ে বলা হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঠিক আগে অজ্ঞাতনামা এক জুয়াড়ি স্ট্রিকের কাছে বিপিএলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের নম্বর চান। স্ট্রিক তাকে জাতীয় দলের অধিনায়কসহ একাধিক বাংলাদেশী খেলোয়াড়ের নম্বর দেন। এখানেই শেষ নয়, স্ট্রিক সেই জুয়াড়ির নামে খেলোয়াড়দের কাছে সুপারিশও করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজে তথ্য ফাঁস করার জন্য হিথ স্ট্রিক পান ৩৫ হাজার ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন।

সেই সিরিজেই আগরওয়ালের কাছ থেকে সাকিব প্রস্তাব পেয়েছিলেন ‘কাজের’। যদিও স্ট্রিকের রায়ের কোনো জায়গাতেই লেখা নেই আগরওয়ালের নাম, লেখা আছে ‘মিস্টার এক্স’ হিসেবে। কিন্তু সে সময়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ঘটনাক্রম বিচারে ধারণা করা হচ্ছে, লোকটা ছিলেন দীপক আগরওয়ালই। সেসময় বাকি ক্রিকেটাররা বোর্ডের কাছে আগরওয়ালের এ যোগাযোগের বিষয়টি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ফলে আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন করেননি কেউ, নিষেধাজ্ঞাও পেতে হয়নি কাউকে। কিন্তু বিষয়টি গোপন করে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন সাকিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ