শুক্রবার ১৪ মে ২০২১
Online Edition

ফেনীতে চির নিদ্রায় শায়িত বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মকবুল আহমদ

ফেনীর জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামে মরহুম মকবুল আহমাদের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মকবুল আহমদ আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর বেলা ১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমীর মকবুল আহমাদের মৃত্যুতে দেশে বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলের নেতাকর্মীই নয়, তার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গভীর শোক জানিয়েছে। তারা বলছেন, মকবুল আহমেদ বর্তমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জনঅধিকার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুণ:প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। 

অত্যন্ত সহজ সরল ব্যক্তিত্ব মকবুল আহমাদ ১৯৩৯ সালের ৮ই আগস্ট ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম নাদেরুজ্জামান। তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ২ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। 

ফেনী থেকে আলী হায়দার মানিক জানান, গতকাল রাত ১১টায় মরহুমের গ্রামের বাড়ীর পাশে স্কুল মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরহুমের লাশ গ্রামের বাড়ীতে পৌছে। এ সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃস্টি হয়। মরহুমের প্রিয়জন, স্বজন, সহকর্মী ও উপস্থিত জনতা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, মোবারক হোসেন, ফেনী জেলার সাবেক আমীর লিয়াকত আলী ভূইয়া, বর্তমান আমীর একেএম শামসুদ্দিন, মরহুমের বড় ছেলে মো: মাসুদ, ছোট ভাই খিজির আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন চৌধুরী, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান প্রমুখ। 

মকবুল আহমাদের ইন্তিকালের খবরের পর থেকে আশেপাশে মানুষ তার গ্রামের বাড়ীতে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। হাজার হাজার জনতা মরহুমকে শেষ বিদায় না দেয়া পর্যন্ত গভীর রাত অবদি অপেক্ষায় ছিলেন। 

২০১০ সালের জুনে জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মকবুল আহমাদ ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমীর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ১৮ দলীয় জোট গঠনের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন মরহুম মকবুল আহমাদ। তার আইনজীবীর দেয়া তথ্য মতে, মরহুম মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে ২৪টি হয়রানীমূলক মামলা রয়েছে। কয়েক দফা গ্রেফতার হয়ে পুলিশী রিমান্ডেও কাটিয়েছেন এই প্রবীন রাজনীতিবিদ।  

এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবক মকবুল আহমাদ  রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তিকাল করেছেন। তাঁর ইন্তিকালে আমরা একজন যোগ্য ও দরদি অভিভাবককে হারালাম। আমরা তাঁর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি।

মকবুল আহমাদের ইন্তিকালের পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান দুপুরে ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘চলে গেলেন ইসলামী আন্দোলনের এক বর্ণালী মুজাহিদ সাবেক আমীরে জামায়াত জনাব মকবুল আহমাদ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...। 

আজীবনের এই দা'য়ী ইলাল্লাহ জামায়াতে ইসলামীর কঠিনতম সময়ের কান্ডারী আমাদের জন্য রেখে গেলেন অনেক শিক্ষা এবং উদাহরণ। রাব্বুল আলামীন তার এই গোলামের তামাম জিন্দেগীর সমস্ত ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে নেকিতে পরিণত করে দিন। 

তার নেক আমলগুলো কবুল করুন, শহীদ হিসেবে কবুল করে তাকে সম্মানিত করুন। মহান রবের কাছে আবেগ ও বুকভরা এ আকুতি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ