শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

কঠোর লকডাউনের আগেই ফিরতে হবে বাড়ি

লকডাউনে দূরপাল্লার বাস না চলায় বিভিন্ন উপায়ে রাজধানী ছাড়ছেন সাধারণ মানুষ। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার যাত্রাবাড়ী থেকে তোলা সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কঠোর লকডাউনের আগেই বাড়ি ফিরতে হবে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু। দূর পাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় যে যেভাবে পারছেন বাড়ি যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন। মানুষের অবস্থা দেখলে মনে হলো যেন ঢাকা ছাড়তে মরিয়া। এ অবস্থা ছিল গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও রাজধানী ছেড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
গতকাল বিভিন্ন স্থান থেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরতে শুরু করে রাজধানীর অস্থায়ী বাসিন্দারা। আর এ সুযোগে পরিবহন শ্রমিকরা বহু গুণ ভাড়া হাকায়। বাধ্য হয়ে ট্রাকে, কেউ ছোট পিকআপ ভ্যানে, অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, এমনকি ইজিবাইকেও আমিন বাজার এলাকা থেকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাক এর উপর বসে গন্তব্যে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কঠোর লকডাউন শুরুর আগেই ঢাকা ছাড়তে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে মানুষের ঢল নামে। পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, ছোট ছোট যানবাহনগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের গ্রামের বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সন্ধ্যার পর গাবতলী বাস টার্মিনালে বাড়ি ফেরা মানুষের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।  বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়।
করোনার সংক্রমণ এড়াতে মানুষের এক জেলা থেকে আরেক জেলা অর্থাৎ কর্মস্থল থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যার শুরুতে লকডাউন ঘোষণা এবং তা আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে মানুষ বাড়ি ফিরছেন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত এবং ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়- এমন শ্রেণীর মানুষের সংখ্যাই বেশি।
ঢাকা মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় থাকেন মোহাম্মদ মাসুম মিয়া। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। মাসুম মিয়া বলেন, ‘সাত দিনের কঠোর লকডাউন এখানে চাকরি নাই, থাকি ম্যাচে খাব কি, সরকার কোনো সহযোগিতা করবে না। যে কোন উপায়ে মা-বাবার কাছে যাবো ইনশাআল্লাহ। পাথরবোঝাই একটি ট্রাক-এর ছাদের উপরে উঠেছেন তিনি। যেভাবেই হোক লকডাউনের আগে বাড়িতে ফিরতেই হবে তাকে।
এদিকে লঞ্চ বন্ধ থাকলেও ফেরি, ট্রলার ও কিছু কিছু স্পিডবোটে করে পদ্মা পার হয়ে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছান যাত্রীরা। ঘাট থেকে মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার আর মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরেন তারা। নৌ ও স্থলপথে যানবাহনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে কঠোর লকডাউনের একদিন আগেই বাড়ি ফিরেছেন সাধারণ মানুষ।
গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে বাড়ি ফিরছেন। এই সুযোগে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া নেন যানবাহন মালিকরা।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সপ্তাহের সোমবার থেকে সাত দিন সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে উভয় ঘাটে দুটি ছোট ফেরি চালু রাখতে বলা হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফেরি কম চলায় ঘাটে মালবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হওয়ায় গত রোববার থেকে ১৫টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে।
যাত্রীরা জানায়, লকডাউনে ঢাকায় থেকে কোনো লাভ নাই। শুধু খরচ বাড়বে। তাই বাড়ি যাচ্ছেন তারা। বুধবার থেকে সব কিছু বন্ধ থাকবে। ঢাকায় থেকে কি করবো? তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। শাহনাজ পারভীন নামের এক যাত্রী বলেন, ঈদের তিন/চার দিন আগে বাড়িতে যাওয়া হয়। এবার লকডাউন আর করোনা পরিস্থিতির কারণে রোজার আগেই বাড়ি যাচ্ছি। রোজার পুরো মাস বাড়িতেই থাকবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ