বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আমরা একজন যোগ্য ও দরদি অভিভাবককে হারালাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ জনাব মকবুল আহমাদের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, আমাদের শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবক মকবুল আহমাদ ১৩ এপ্রিল বেলা ১টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ২ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। তার ইন্তিকালে আমরা একজন যোগ্য ও দরদি অভিভাবককে হারালাম। আমরা তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তারা বলেন, মকবুল আহমাদ ছিলেন আল্লাহর পথের একজন আহ্বানকারী, দাঈ ইলাল্লাহ এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন-যাপন ও দাওয়াতী চরিত্র মানুষকে বিমোহিত করতো। তিনি সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি তার এলাকায় অনেক সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এগুলোর মাধ্যমে তিনি সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং যখনই কোথাও কোনো অসহায় মানুষের খবর পেতেন তখনই তাদের যথাসাধ্য সাহায্য-সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন।
তারা আরো বলেন, দেশের বৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি একজন যোগ্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। সংগঠনের দুর্দিনে তিনি দ্বীনের যে কঠিন জিম্মাদারি আঞ্জাম দিয়েছেন তা তাকে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় করে রাখবে।
তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব ও একজন উদার মনের রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের মানুষ তাকে সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মারণ করবে।
আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে কায়মনোবাক্যে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন। তার নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মর্যাদা দান করুন। তাকে সিদ্দিকীন সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন।
আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অত্মীয়-স্বজন, সুধী-শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদেরকে উত্তম ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের শোক: বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর বর্ষীয়ান জননেতা মকবুল আহমাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
এক  শোকবাণীতে মহানগরী আমীর বলেন, মরহুম মকবুল আহমাদ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের কিংবদন্তীতূল্য প্রবাদ পুরুষ। তার গতিশীল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন অনেক কঠিন সময় সফলতার সাথে অতিক্রম করেছে। তিনি আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসনের ভিত্তিতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য নিজের জীবনের সবকিছুই উৎসর্গ করেছেন। দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য তার এই ত্যাগ ও কুরবানি ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে চিরঅম্লান-চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনোই পূরণীয় নয়।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এই প্রাণ পুরুষ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। মরহুম ১৯৬২ সালে জামায়াতে যোগদান এবং ১৯৬৬ সালে রুকন হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফেনী শহর আমীর, ১৯৬৮ সালে মহকুমা আমীর এবং ১৯৭০ সালে নোয়াখালী জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী ২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মকবুল আহমাদ ১৯৭৯ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৯ সালে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০০৩ সালে নায়েবে আমীর মনোনীত হন। ২০১০ সালে তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতার হলে মরহুম ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমীর হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সফলতার সাথে এই মহান দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, মরহুম আজীবন একজন দায়ী ইলাল্লাহ হিসাবে ইসলামী আন্দোলনের সংকটময় সন্ধিক্ষণে জাতির কাণ্ডারীর দায়িত্ব পালন করেন। তার বিনয়, নম্রতা ও চরিত্রমাধুর্য তাকে অনন্য সাধারণ মর্যাদায় সমাসীন করেছে। মহানগরী আমীর তার দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য খেদমত এবং নেক আমলগুলোকে কবুল করে নিয়ে তাকে শহীদের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন এবং মরহুমের শোকাহত পরিবারের সদস্য ও শোকসন্তপ্ত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন মহানগরী ও জেলা নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ