সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আজ পহেলা বৈশাখ

ইবরাহীম খলিল : আজ বুধবার পহেলা বৈশাখ- নতুন বাংলা বর্ষ ১৪২৮। আমাদের কাছে এসেছে আরও একটি নতুন বছর। আজ থেকে আরেকটি নতুন বছরের যাত্রা শুরু হলো বাঙালির নিজস্ব বর্ষপঞ্জিতে। আজকের দিনটি আনন্দে কাটার কথা থাকলেও অতিমারি করোনার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ আজ ঘরবন্দি তারা অনেকটাই কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে । সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ভার্চুয়ালি নানা অনুষ্ঠান থাকবে বাংলা নববর্ষ বরণে।
জাতীয় কবি নজরুলের ভাষায়-- ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কাল বৈশাখীর ঝড়/ তোরা সব জয় ধ্বনি কর তোরা সব জয় ধ্বনি কর। কবির কবিতার মতোই নতুনের কেতন নিয়ে প্রতিবছর আমাদের মাঝে ফিরে আসে নতুন বছর, নববর্ষ।
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা  ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।  
ইতিহাস বলছে, কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন পথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
মুসলিম ঐতিহ্যের হিজরি সনকে ভিত্তি করেই বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছে। মুঘল সমাট আকবর বাংলার কৃষকদের সুুুবিধার্থে এবং তার সিংহাসন আরোহনের বছরকে স্মরণীয় রাখতে সভাজ্যোতিষী আমীর ফতেউল্লাহ সিরাজীর (দৈবে দশমরত্ন) পরামর্শে হিজরি ৯৬৩ সনকে বাংলা ৯৬৩ সন ধরে বাংলা সন গণনার নির্দেশ দেন। অধিকন্তু পারস্যের (ইরানের) নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান ‘নওরোজ’ এর আদলে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সূচনাও করেন। তার আনুকূল্যে ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হতো। ‘নওরোজ’ অনুষ্ঠানের অন্যতম পধান অনুষঙ্গ ‘মিনা বাজার’। আর এ মিনা বাজারের আদলে বাংলা নববর্ষ উৎসবে যোগ হয়েছে ‘বৈশাখী মেলার’।
গতবারের মতো এবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পহেলা বৈশাখসহ সব ধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। আজ ১৪ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লোক সমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় এবছরও থাকছে না ছায়ানটের নতুন বছরের আয়োজন।
এবারও পহেলা বৈশাখে হচ্ছে না মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
তবুও আজ নতুন ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের বাঙালি করোনা মহামারি থেকে মুক্তির প্রার্থনা নিয়েই নতুন বছরকে প্রায় অনানুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ