শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

পবিত্র রমযান

চাঁদ দেখা গেলে আগামী কাল থেকে বাংলাদেশে পবিত্র মাস রমযান শুরু হবে। পবিত্র এ মাসটি আল্লাহ তা’লার সান্নিধ্য ও রহমত লাভের এবং গুনাহ থেকে মাফ পাওয়ার জন্যও শ্রেষ্ঠ মাস। সিয়াম বা  রোজা সম্পর্কে অল্প কথায় বলা যায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকাই রমযান মাসে সুস্থ ও প্রাপ্তবয়ষ্ক মুসলিম নরনারীর জন্য আল্লাহর বিধান। রোজা রেখে সকল ধরনের অন্যায় করা থেকেও মুসলিমদের বিরত থাকতে হবে। এগুলোর কোনোটিই আসলে সহজ কাজ নয়। কিন্তু কোনো মানুষ দেখবে না বা জানবে না জেনেও মুসলিমরা লুকিয়ে কিছুই পানাহার করেন না। কোনো অন্যায় বা গুনাহর কাজে লিপ্ত হন না। কারণ, তারা জানেন, মানুষ না দেখলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবই দেখছেন। আর   রোজা যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সেহেতু কষ্ট যতো বেশিই হোক, মুসলিমরা রোজা ভাঙেন না। এর মধ্য দিয়ে মুসলিমরা একদিকে অনাহারক্লিষ্ট গরীব মানুষের জীবন যন্ত্রণা বোধ করতে শেখেন, অন্যদিকে পরীক্ষা দেন ধৈর্য ও সংযমের।   রোজাদাররা অন্যদের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষাও লাভ করেন। রোজা মানুষকে ধৈর্য এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।
রমযানে আল্লাহ অবশ্য তাঁর এই বান্দাদের জন্য নানামুখী সীমাহীন কল্যাণ রেখেছেন। এ মাসে পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি চিন্তা ও কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রেও মুসলিমরা নিজেদের পরিশিলীত রাখেন। তারা কোনো অন্যায় কাজে অংশ নেন না, কারো সঙ্গে বিবাদে জড়ান না, অন্যের ক্ষতির চিন্তা তো এড়িয়ে চলেনই। সব মিলিয়েই রমযানের দিনগুলোতে মুসলিমরা আত্মশুদ্ধির এবং আল্লাহতা’লার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকেন। আল্লাহতা’লাও দান করেন প্রচুর পরিমাণে। তিনি গুনাহগার বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ দেখান এবং তাদের মাফ করে দেন। ভালো কাজ না করার কারণে যারা দরিদ্র ও হীন অবস্থায় থাকে তারাও এ মাসের মাহাত্ম্যে এবং তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়ে উঠতে পারেন। হয়ে ওঠেনও।
রমযান মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদার দ্বিতীয় কারণ পবিত্র লাইলাতুল কদর। ২৬ রমযানের দিন শেষে, অর্থাৎ ২৭ তারিখে, অনেকের মতে রমযান মাসের শেষ ১০ দিনের যে কোনো বেজোড় তারিখের রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়েছিল। আল-কোরআন এমন একটি মহাগ্রন্থ, যার মধ্যে আল্লাহর নাজিল করা পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থের সারবস্তু এবং ভূমন্ডল ও নভোমন্ডলের যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌল নির্দেশনা একত্রিত করা হয়েছে। বস্তুত আকাশ ও মাটিতে তথা সমগ্র সৃষ্টি জগতে এমন কোনো গোপন রহস্য নেই যার উল্লেখ আল-কোরআনে না আছে। পবিত্র এ গ্রন্থটিকে আল্লাহ মানুষের জন্য জীবন বিধান হিসেবে পাঠিয়েছেন। মক্কার নিকটবর্তী হেরা পর্বতের গুহায় শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। স্বয়ং আল্লাহতা’লা বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’ সুরা কদরে আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।’
এই রাতে বেশি বেশি ইবাদতের তাগিদ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি নিজেও কদরের সারারাত আল্লাহর ইবাদতে কাটাতেন। শুধু এই একটি রাত্রি নয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমযানের শেষ ১০দিনই ইতিকাফ করতেন, যার অর্থ পৃথিবীর সবকিছু ছেড়ে কেবলই আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের প্রশংসায় মগ্ন থাকা এবং আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমতের জন্য মোনাজাত করা। গুনাহর জন্য মাফ চাওয়া। এজন্যই কদরের রাতকে যারা পাবেন তারা খুবই সৌভাগ্যবান এবং তাদের উচিত আল্লাহর কাছে সর্বান্তকরণে নিজেদের সমর্পণ করা, তাঁর পানাহ চাওয়া।
আমরা মনে করি, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে রমযান পালনের পাশাপাশি সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকেও নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। কারণ, সরকারের ব্যর্থতা এবং চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা রমযান মাসে মুসলিমদের সর্বাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পণ্যের দামও শুধু বেড়েই চলে। নাভিশ্বাস ওঠে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে।
এজন্যই মুসলিমদের উচিত সরকারের ব্যর্থতা ও দ্রুত বেড়ে চলা পণ্যমূল্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। ব্যবসায়ীদের উচিত অন্তত এই একটি মাসে  রোজাদারসহ জনগণকে কষ্ট না দেয়া। আর সরকারের উচিত প্রতিটি বিষয়ে সততার সঙ্গে তৎপর থাকা, যাতে   রোজাদার মুসলিমদের কষ্ট কম হয়। আমরা মনে করি, এবারের রমযানে বিশেষ করে করোনা মহামারির কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও আল্লাহর অনুগ্রহ চেয়ে মোনাজাত করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ