শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

‘রোজা আমার জন্য, আমি তার প্রতিদান দিব’

মোহা.আসাদুজ্জামান আসাদ : রমজান মাস। রহমত,বরকত ও নাজাতের মাস। এ মাস,কোরআন নাজিলের মাস। এরশাদ হচ্ছে-‘এতো সেই মাস,যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে’। আল কোরআন নাজিলেই রমজান মাসের মর্যাদা,সম্মান,ঐতিহ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রোজা ফারসি শব্দ।আরবী শব্দ সওম।অর্থ বিরত থাকা,পরিত্যাগ করা ইত্যাদি।পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত  পানাহার সহ যাবতীয় কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকা।এরশাদ হচ্ছে-‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের প্রতি রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পুর্ববতী জাতির প্রতি। যাতে তোমরা আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পারো’। রোজা শুধু আমাদের প্রতি নয়,ইতিপুর্বেও ফরজ ছিল। সুতরাং সিয়াম সাধনায় যথাযথ ভাবে খোদা ভীতি অর্জন করার প্রয়োজন। দিনে রোজা, রাতে বন্দেগী। পরিশুদ্ধ জীবন গড়ি এবং যাবতীয় পাপ কাজ বর্জন করি।
 চন্দ্র বছর হিসাবে রমজান মাস, একটি গুরুত্ব পুর্ণ মাস। প্রতি বছর রমজান মাসে রোজা পালন করা ফরজ। হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন,‘রোজা এ নিয়মের ব্যতিক্রম। কেননা তা বিশেষ ভাবে আমার জন্য, আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দিব। বান্দা তার পানাহার ও কামনা বাসনাকে আমার সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করে’। বিশ্ব নবী (দ) এরশাদ করেন,‘যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে,তার অতীতের গুনাহ সমুহ মাফ করে দেয়া হবে’।‘প্রত্যেক বস্তুর যাকাত আছে আর শরীর যাকাত হলো রোজা পালন করা’। ‘সিয়াম এবং কোরআন হাশরের ময়দানে বান্দা-বান্দীর জন্য সুপারিশ করবেন। এবং তাদের উভয়ের দোয়া কবুল করবেন।রোজাদার ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের দরজা সমুহ বন্ধ করে দেন।জান্নাতের দরজা খুলে দেন এবং শয়তানকে শিকল বদ্ধ করে রাখেন’। মহান আল্লাহ কোরআনের অনেক জায়গায় শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু বলে ঘোষণা করেছেন।‘শয়তান তোমাদের শত্রু ,তাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ করো’। সে চায় মানুষকে ঝগড়া-বিবাদ,মদ-জুয়ায়,জেনা-ব্যভিচার,অন্যায় ও মিথ্যার মাঝে ডুবে রাখতে । বিশ্ব নবী (দ) বলেন,‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও তৎ সংক্রান্ত কাজ পরিত্যাগ করল না, তার রোজা রাখার কোনো প্রয়োজন নেই’। তাই সর্বদা শয়তানের,শয়তানি ও পাপের কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। সর্বদা আল্লাহর কাছে শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করতে হবে।
 রোজাদার ব্যক্তি খুবই সুভাগ্যবান। কারণ, তার জন্যে জান্নাতে বিশেষ দরজার ব্যবস্থা আছে। বিশ^নবী (দ) ইরশাদ করেন,‘জান্নাতের আটটি দরজা আছে। একটি দরজার নাম রাইয়ান। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদার ব্যক্তি প্রবেশ করবে। অন্যরাও এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে, কিন্তু রোজাদার ব্যতিত অন্য কাউকে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না’।‘রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে। একটি ইফতারের সময় অপরটি আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাতের সময়’। ‘ইফতারের সময়,দোয়া কবুলের সময়। এ সময় আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন’।রমজান মাসে একটি মহিমান্বিত বরকতময় রাত রয়েছে। সে রাতটি হলো কদরের রাত।এ রাতে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন। গুনাহসমূহ মাফ করেন।মহান আল্লাহ আসমানে নেমে আসেন। ফেরেস্তারা বান্দার উদ্দেশ্যে বললেন,কে এমন আছ, যে নিজের গুনাহ আল্লাহর কাছে মাফ করে নিবে। যে ব্যক্তি রাত জেগে ইবাদত বন্দেগিতে কাটায় তার ভাগ্যে এক হাজার মাসের চেয়েও বেশী সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। কদরের রাতের ইবাদত মানে  ৮৬ বছর ৪ মাস। কিন্তু আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম বলেছেন। হযরত আয়শা (রা) বলেন,ইয়া রাসুল্লাহ(দ) আমি যদি কদরের রাত্রি পাই তাহলে আমি কি দোয়া পড়ব।তিনি (দ) বলেন,আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’এই দোয়া পড়বে।‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর তালাশ কর’।রমজান মাস, সওয়াবের মাস। সুতরাংএশার নামাজ শেষে বিতরের পুর্বে তারাবী নামাজ আদায় করা সুন্নত। আমরা, রমজান মাসে ইতিকাফ করি।ইতিকাফ শব্দের অর্থ নিজেকে আবদ্ধ রাখা। শরীয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হলো মহান আল্লাহ সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা, শর্ত সাপেক্ষ নিয়ত সহকারে পুরুষেরা মসজিদে ও নারীরা ঘরের নিদিষ্ট স্থানে আবস্থান করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফ করো’। ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। বিনা প্রয়োজনে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করা যাবে না। ইতিকাফকারী কোরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত ও প্রভুর জিকির-আসকারে মশগুণ থাকা।
পরিশেষে বলতে চাই, রোজার মাস। গুনাহ মাফের মাস। এই মাসে আল্লাহ নৈকট্য লাভ করি। পরিশুদ্ধ জীবন গড়ি। তাকওয়া অর্জনে নিস্পাপ জীবন গড়ি। শান্তি সুখে খোদা ভীতি পরিবেশে জীবন যাপন করি। রোজার মহান শিক্ষা পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করি। আল্লাহ আনুগত্য ও রাসুল (দ) এর সুন্নত গ্রহণ করে সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করি। পরিবেশবান্ধব পরিবেশে বসবাসের প্রচেষ্টা অব্যাহত খাকুক। এই প্রত্যাশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ