শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

নিজে ইফতার করা এবং অন্যদের করানোর ফযিলত

-মোঃ আবুল হোসাইন চৌধুরী

১. ইফতারঃ
‘ইফতার’ আরবি শব্দ, যার অর্থ রোজা ভঙ্গ করা বা সমাপ্ত করা। ইফতার রোজাদারদের জন্য একটি আনন্দময় সময়। ইসলামি পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, কামাচার ও পাপাচার থেকে বিরত থেকে সূর্যাস্তের পর কিছু খেয়ে বা পান করে রোজা সমাপ্ত করার নামই ইফতার। ইফতার রামাদানের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি এক বিশেষ নিয়ামত। এটি পালন শুধু কর্তব্য নয়, আনন্দও বটে। এতে আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। রামাদানের রোজা রাখা ফরজ আর ইফতার করা সুন্নত।
২. ইফতার করার সময়ঃ
রামাদানের অন্যতম সুন্নত হলো ইফতার। রোজাদারের ইফতার করার ক্ষেত্রে বিধান হল- সূর্যাস্তের পর বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব ইফতার করা। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতা’আলা বলেছেন- ‘আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোজা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।’ (বাক্বারাহঃ ১৮৭)। রোজাদার ইফতারের দ্রব্যসামগ্রী সামনে রেখে নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। সারা দিন অভুক্ত থেকে ইফতারির নির্দিষ্ট সময়ের আগে সরষে পরিমাণ খাদ্যও স্পর্শ করেন না। বান্দার এই ইফতার মুহূর্ত ও আয়োজন দেখে আল্লাহপাক তার ফেরেশতাদের ডেকে বলবেন- দেখো , আমার বান্দাদের ধর্মভীরুতার কী অপূর্ব দৃশ্য।
১. হযরত রাসূলে করিম (সাঃ) বলেছেন, ‘ রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ- একটি হলো তার ইফতারের সময়, অপরটি হলো আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময়।’ (বোখারী ও মুসলিম)।
২. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘আল্লাহতা’আলা   বলেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় সে ব্যক্তিরাই যারা শীঘ্র শীঘ্র ইফতার করেন।’ (তিরমিজি)।
৩. হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : মানুষ তত দিন কল্যাণের ওপর থাকবে যত দিন তারা অবিলম্বে ইফতার করবে। (বোখারী, মুসলিম, ইবনে মাজা, তিরমিজি, সহীহ ইবনে খুজাইমা, মুসনাদে আহমাদ)
৪. সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন,‘যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন দ্বীন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা ইফতারিতে দেরি করে। (আবু দাউদ)
৫. হযরত আবু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ও মাসরুক  হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললাম : হে উম্মুল মুমিনীন! হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর সাথীদের মধ্যে দুজন এমন আছেন যাঁদের একজন অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। আর অপরজন বিলম্ব করে ইফতার করেন এবং বিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন দুজনের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন? রাবি বলেন আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এভাবেই করতেন। (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ,
মুসনাদে আহমাদ)
তাই ইফতারের আদব হল সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই তাড়াতাড়ি ইফতার করা। রোজাদারদের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি দেরি করে সেহরি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করার নির্দেশ করেছেন। ইফতারের এ বিধান ইসলাম ধর্মেরই অনন্য বৈশিষ্ট্য। ইফতারে ভ্রাতৃত্ববোধ, অন্তর নিঃসৃত ভালোবাসার ছোঁয়া এবং আধ্যাত্মিক ভাবের যে প্রতিফলন ঘটে, তা সত্যিই অতুলনীয়। ইফতারের মধ্যে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। এতে দেরি করতে নেই। সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করা সুন্নত এবং সূর্যাস্তের আগে ইফতারি সামনে নিয়ে বসে থাকা মোস্তাহাব। সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা ইফতার করেন তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার প্রিয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
৩. কি দিয়ে ইফতার করবেন ঃ
খেজুর বা খুরমা দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত; যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো মিষ্টিজাতীয় বস্তু দিয়ে ইফতার করা ভালো। আর যদি এটাও সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো হালাল খাদ্য দিয়ে, এমনকি শুধু পানি দিয়েও ইফতার করা যায়। খেজুর দিয়ে ইফতার করার উপকারিতা হল, খেজুর সহজপাচ্য। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে খাওয়ার পর যে সমস্যা হওয়ার কথা খেজুর খেলে তা হয় না। উপরন্তু খেজুর হালকা খাবারের একটি। পানি, খেজুর এগুলো দ্বারা ইফতার করলে অলসতা সৃষ্টি হয় না।
১. হযরত সালমান ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে তার উচিত খেজুর দিয়ে ইফতার করা। তবে সে যদি খেজুর না পায় তাহলে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ পানি পাক-পবিত্র। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা, মুসনাদে আহমাদ, সহীহ ইবনে খুজাইমা, বায়হাকি শুয়াবুল ইমান,আবু দাউদ, তিরমিজি)
২. হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) নামাজের আগে ইফতার করতেন কয়েকটি টাটকা খেজুর দিয়ে। যদি তিনি টাটকা খেজুর না পেতেন তাহলে শুকনা খেজুর (খুরমা) দিয়ে ইফতার করতেন। আর তাও যদি না পেতেন, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি))
৪. ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় ঃ
ইফতারের সময় যেমন সুনির্দিষ্ট, তেমনি এ সময়ে আল্লাহপাকের কাছে রোজাদার ব্যক্তির দোয়াও কবুল হওয়ার পরম মুহূর্ত। কারণ ইফতারের সময়টা হল বিনয় ও আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধারণের চরম মুহূর্ত। এ সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দানের মুহূর্ত। কারণ ওই সময়ে রোজাদার থাকেন ক্ষুধার্ত। ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার সামনে থাকার পরও না খেয়ে সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকার মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সামনে নিজের চরম অসহায়ত্বের প্রকাশ করে এবং খোদানুগত্যের এক বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাই ইফতারের আগ মুহূর্তে ইফতারি সামনে নিয়ে রোজাদার দোয়া করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সে দোয়া কবুল করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে রোজাদারের দোয়া আল্লাহর কাছে এতই আকর্ষণীয় যে আল্লাহ তা’আলা রামাদানের সময় ফেরেশতাদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, ‘রামাদানে তোমাদের পূর্বের দায়িত্ব মওকুফ করা হলো এবং নতুন দায়িত্বের আদেশ করা হলো, তা হলো আমার রোজাদার বান্দাগণ যখন কোনো দোয়া মোনাজাত করবে, তখন তোমরা আমিন! আমিন! বলতে থাকবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)
ইফতারের সময় হালালদ্রব্য দ্বারা ইফতার করা মহা পুণ্যের কাজ। ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সময়। এই সসময় দোয়া পড়া উত্তম- আল্লাহ রোজাদারদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জীবন লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ইফতারীর দোয়া-
ক) ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া তাওয়াক্কালতু আ’লা রিজকিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
খ) আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু’ বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
১. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল না করে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (ক) ন্যায়বিচারক শাসনকর্তার দোয়া (খ) ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া এবং (গ) মাজলুমের (নির্যাতিত ব্যক্তির)  দোয়া। (মুসনাদে আহমাদ)
২. নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, ‘রোজাদারের নিদ্রা ইবাদততুল্য, চুপ থাকা তাসবিহ-তাহলিলতুল্য, আমল ইবাদত সওয়াব হাসিলে বেশি অগ্রগণ্য, দোয়া কবুলযোগ্য ও তার গুনাহ ক্ষমার যোগ্য।’ (বায়হাকি)। আল্লাহর কাছে দোয়া করলেই তা কবুল হয়। যা চাওয়া হয় তাই দেওয়া হয়। কারও কারও মনে এই প্রশ্ন আসে যে, কেন তাঁর দোয়া কবুল হচ্ছে না। এর উত্তর হচ্ছে, অনেক দোয়া পরকালের জন্য জমা রাখা হয় অথবা দোয়ায় যা চাইছেন তা আপনার জন্য কল্যাণকর নয়, তাই দেওয়া হয় না।
৩. নবী করিম (সাঃ) রামাদান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো, ১. বেশি বেশি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর জিকির করা;       ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৩. জান্নাত চাওয়া, ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।’ হাদীসে পাকে আরো এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা ৩ বার জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুলে সুপারিশ করবে।
৪. হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তাঁদের একজন হলেন রোজাদার ব্যক্তি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ইফতারের আগ পর্যন্ত তাঁর দোয়া কবুল হয়। আরেক বর্ণনায় এসেছে ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়।
৫. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ মহান সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকছ? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছ? আমি তাকে তা দেব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। (বুখারী ও মুসলিম)
রোজাদার ব্যক্তির উচিত সময়-সুযোগমতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা। সাধারণত দোয়ার নিয়ম হলো- একাকী দোয়া করা। অজু না থাকলেও দোয়া করা যায়। এমনকি হাত না তুলে মনে মনে কিংবা মুখে বান্দা নিজের সব কামনা-বাসনার কথা আল্লাহর কাছে বলতে পারেন। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে অজু করে পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ে ও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সুবাহানাল্লা (আল্লাহ পবিত্র) আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) ইয়া ওয়াহহাব (আল্লাহ সবকিছু দানকারী) আসতাগফিরুল্লাহ (আমি আমার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি) দোয়া ইউনুছ তথা লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন-তু মিনাজ জোয়ালেমিন (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ পবিত্র মহান, আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী) এবং রাসূল (সাঃ)–এর ওপর দরুদ শরিফ পড়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। ইহকাল ও পরকালের সফলতার জন্য কীভাবে দোয়া করতে হবে, এই মর্মে আল্লাহ তা’আলা মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করো (বাকারা : ২০১)
প্রতিদিন ইফতারের আগে ও পরে, সাহ্রির আগে ও পরে, তাহাজ্জুদ নামাজের শেষে আল্লাহর কাছে প্রাণভরে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। বেশি করে দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ, তাসবিহ, তাহলিল প্রভৃতি জিকির করা যায়।
ক্ষমা ও মাগফিরাতের বাহানা তালাশ করা হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে এ মাসেই আহ্বান জানানো হতে থাকে, ‘আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী ? যাকে আমি ক্ষমা করে দেব।’আল্লাহ তো ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, ‘ইফতারের সময় তোমরা আমার কাছ থেকে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। রাতের আঁধারে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। শেষ রাতে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’
রামাদান মাসে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে অধিক দোয়া, আহাজারি ও কান্নাকাটি করা উচিত। এ মাসে রহমতের দ্বার উন্মুক্ত থাকে, রহমতের বারি জোরেশোরে বর্ষিত হয়।
৫. ইফতারীর ফযিলত ঃ
রামাদানে রোজাদার নিজে ইফতার করার পাশাপাশি অন্যকে ইফতার করানোতে অনেক সাওয়াব রয়েছে। তাই আমাদের সাধ্যমত অন্যকে ইফতার করানোতে এগিয়ে আসা উচিত।
১. হযরত রাসূলে করিম (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে এক রোজাদার ও গাজীর সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করবে। (বায়হাকি)।
২. অন্য একটি হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি হালাল রুজি দ্বারা কাউকে ইফতার করাবে, ফেরেশতাগণ রামাদানের প্রতিটি রাত্রে তার প্রতি রহমত পাঠান। শবেকদরে স্বয়ং জিবরাইল (আঃ) তার সঙ্গে মোসাফাহা করেন। যার সঙ্গে জিবরাইল (আঃ) মোসাফাহা করেন, তার অন্তর কোমল হয় ও চক্ষু হতে অশ্রু ধারা প্রবাহিত হয়।
৩. হযরত যায়েদ ইবনে খালেদ আল-জুহানি (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে সে রোজাদারের সম পরিমাণ সওয়াব পাবে; রোজাদারের সওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না।”(তিরমিযি, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান) সাহাবিরা একবার রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর নবী, আমাদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে, যাদের ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘কাউকে পেট ভর্তি করে ইফতার করাবে- এমন কোনো শর্ত নেই। কেউ রোজাদার ব্যক্তিকে একটি মাত্র খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করালেও সে সওয়াব লাভ করবে। (বায়হাকি ও শারহুস সুন্নাহ)
৪. হযরত সালমান ফারসি (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘এটা ওই মাস যাতে মুমিন ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এই মাসে যে ব্যক্তি অন্য একজন রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করাবে এটা তার পক্ষে তার গুণাহসমূহের জন্য ক্ষমাস্বরূপ হবে এবং তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তির কারণ হবে। আর তাকে রোজাদারের সমান সওয়াব প্রদান করা হবে, এতে তার সাওয়াব হতে কিছুই কমানো হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম ইয়া রাসূল্লাল্লাহ (সাঃ)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি এমন সামর্থ্য রাখে না যা দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আল্লাহতা’আলা এ সাওয়াব ওই ব্যক্তিকেও দান করবেন যেকোনো ব্যক্তিকে এক ঢোক দুধ দ্বারা, একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করায়। যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্তির সঙ্গে ভোজন করায় আল্লাহতা’আলা  তাকে আমার হাউজ হতে পানি পান করাবেন। ফলে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সে কোনো তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)
এই বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান যে, সারা দিন রোজা রেখে একজন রোজাদারের ইফতার করা ও করানোর মধ্যে রয়েছে অনেক আনন্দ এবং অশেষ নেয়ামত ও বরকত। রোজাদারদের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি দেরি করে সেহরি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করার নির্দেশ করেছেন। ইফতারের এ বিধান ইসলাম ধর্মেরই অনন্য বৈশিষ্ট্য। ইফতারে ভ্রাতৃত্ববোধ, অন্তরনিঃসৃত ভালোবাসার ছোঁয়া এবং আধ্যাত্মিকভাবের যে প্রতিফলন ঘটে, তা সত্যিই অতুলনীয়।
আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে রোজাপালন ও ইফতার করার এবং অন্যকে ইফতার করিয়ে মাহে রামাদানের পূর্ণ সওয়াব হাসিল করার তাওফিক দান করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ