শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

শাহরু রমাদান: মর্যাদা করণীয় ও বর্জনীয়

মুহাম্মদ মুতাছিম বিল্লাহ মাক্কী : প্রত্যেক মুমিনের ব্যক্তিগত জীবনে আত্মশুদ্ধি অর্জন, সংযম ও ত্যাগের অনুভূতি জাগ্রতকরণ, উন্নত নৈতিক জীবন গঠন, তাকওয়াভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ, সর্বোপরি সুন্দর সুবাসিত জীবন গড়ার দীপ্ত সওগাত নিয়ে প্রতিবছর পবিত্রতম মাস রমযান হাজির হয়। বারোটি চন্দ্র মাসের অন্যতম নবম এবং পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত একমাত্র মাসের নাম রমযান মাস। এ মাস হাজারো গুণে গুণান্বিত, অগণিত মহিমায় উদ্ভাসিত, অজস্র কল্যাণ ও বরকতে পরিপূর্ণ। সীমাহীন রহমতের দ্বার উন্মুক্তকারী অফুরন্ত সাওয়াব প্রাপ্তির মহান মৌসুম শাহরু রমাদান। পবিত্র রমযানে ফরজ রোযা পালন, কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হওয়া, হাজারো মাস অপেক্ষা উত্তম রজনী লাইলাতুল কদর, হক ও বাতিলের প্রথম যুদ্ধ বদরসহ অগণিত ঘটনার সাক্ষী এ মাস। এ মাসের মর্যাদা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য প্রমাণ লক্ষ্যণীয়।
রমাদান মাসের মর্যাদা: ১. কুরআন নাযিলের মাস: এ মাসের অন্যতম ফযিলত বা মর্যাদা হলো বিশ্ব মানবতার হেদায়াতের একমাত্র সোপান, সত্যপথ যাত্রীদের সুস্পষ্ট পথনির্দেশ, সকল সমস্যার একমাত্র সমাধান মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এ মাসে নাযিল হয়েছে। এ প্রসংগে মহান আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা করেছেন- “রমযান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। যা মানুষের জন্য হিদায়াত, পথপ্রদর্শক এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী”। (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত নং-১৮৫)
২. সিয়াম পালনের মাস: এ মাসের সাথে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন সিয়ামের সম্পর্ক রয়েছে। হজ্জ যেমন জিলহজ্জ মাসের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে সে মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে অনুরূপভাবে সিয়াম রমযান মাসে হওয়ার কারণে এ মাসের মর্যাদাও বেড়ে গেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো”।  (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত নং-১৮৩) আল্লাহর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স.) বলেছেন: ইসলাম যে পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তার একটি হল রমযানে সিয়াম পালন। এ সিয়াম জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম। যেমন হাদিসে এসেছে- “যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনলো, সালাত কায়েম করলো, যাকাত আদায় করলো, রমযান মাসে সিয়াম পালন করলো, আল্লাহতায়ালার দায়িত্ব হলো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো—-।” (সহীহ বুখারী)
৩. এ মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর: আল্লাহ তায়ালা বলেন- “লাইলাতুল কদর হাজারো মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণ ও জিবরীল (আ) দুনিয়ার সকল কল্যাণকর জিনিস নিয়ে অবতীর্ণ হয়। সূর্যোদয় পর্যন্ত শান্তি ও রহমত বিদ্যমান থাকে।” (সূরা আল কদর, আয়াত নং-৩-৫) লাইলাতুল কদর রমযান মাসের শেষ দশকের মধ্যে নিহিত। এ ব্যাপারে রাসূল (সা) বলেছেন- “তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো”। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
৪. জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়ার মাস: এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অভিশপ্ত শয়তানকে করা হয় শৃঙ্খলিত। মহানবী (স) ভাষায়- “যখন রমযান মাস আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়। অন্য বর্ণনা মতে, শয়তানদের শিকল পরানো হয়।” (সহীহ মুসলিম-১৭৯৩)  
৫. জাহান্নাম থেকে নাজাতের মাস: রাসূল (স.) বলেছেন-“প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা দিতে থাকে যে, হে সৎকর্মের অনুসন্ধানকারী তুমি অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের অনুসন্ধানকারী তুমি থেমে যাও! এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে অগণিত মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।” (জামেউত তিরমিজি)
৬. দোয়া কবুলের মাস: রমযান দোয়া কবুলের মাস। রাসূল (স.) বলেছেন- “রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।” (মুসনাদ আহমদ) অন্য হাদিসে এসেছে-“ রোযাদারের দোয়া ফেরৎ দেয়া হয়না।”
৭. গুনাহ মাফের মাস : রমযান মাস পাপ থেকে ক্ষমা লাভের মাস। আল্লাহর রাসূল (স) বলেছেন-“যে রমযান মাসে ঈমান  (৬-এর পাতায় দেখুন)
(৫-এর পাতার পর)
ও ইহতিসাবের সাথে রোযা পালন করলো তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। ” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) “ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হোক, যার কাছে রমযান মাস এসে চলে গেল অথচ তার গুনাহসমূহ মাফ করাতে পারেনি।” (জামেউত তিরমিযি) যে ব্যক্তি রমযান মাস পেয়েও তার গুনাহসমূহ মাফ করাতে পারেনি আল্লাহ তাকে তিরস্কার করেছেন।
৮. নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয় : রমযান মাসে নেক ও সৎ আমলের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। হাদিসে এসেছে রমযান মাসে ওমরাহ করলে একটি হজ্জের সাওয়াব পাওয়া যায়।
৯. ধৈর্য ও সংযমের মাস: রোযার অপর নাম সবর। হাদিসে এসেছে- “রমযান হচ্ছে ধৈর্য ও সংযমের মাস। ধৈর্যের পুরস্কার হচ্ছে জান্নাত”। (ইবনে খুযাইমা)
১০. জিহাদ ও বিজয়ের মাস: জিহাদ ও বিজয়ের মাস রমযান। রাসূল (স) জীবদ্দশাতেই রমযানে দুটো গুরুত্বপূর্ণ জিহাদ ও বিজয় সংঘটিত হয়। ২য় হিজরির ১৭ রমযান বদর যুদ্ধে মুসলিমগণ কাফেদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়। ৮ম হিজরির ২০ রমযান রাসুলের নেতৃত্বে মক্কা বিজয় হয়। এ ছাড়াও অগণিত মযার্দার অধিকারী মাস রমযান।
রমাদান মাসে করণীয় : ইসলামী শরিয়ায় এ মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এ মাসে আমরা যেসব নেক আমল করতে পারি তন্মধ্যে অন্যতম হলো-
১.    ফরজ সিয়াম পালন করা : পবিত্রতম এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্বাধীন, সক্ষম মুসিলম নর-নারীর উপর সিয়াম পালন ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির নিকট এ মাস হাজির হয়েছে সে যেন সিয়াম পালন করে”। (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত নং-১৮৫) আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন- “তোমরা রমযানের চাঁদ দেখলে রোযা রাখবে”। (সহীহ বুখারী ও  সহীহ মুসলিম)
২.    কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাত আদায় করা : অর্থাৎ সালাতুত তারাবীহ যথাযথভাবে আদায় করা। হাদিসে এসেছে- “যে ব্যক্তি রমযান মাসে বিশ্বাস ও সওয়াব লাভের আশায় রাতে সালাত আদায় করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (সহীহ মুসলিম) কিয়ামুল লাইলের মধ্যে যেমন সালাতুত তারাবীহ অন্তর্ভুক্ত তেমনি রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদও কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।
৩.    এতেকাফ করা : এতেকাফ হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তির মসজিদে বাস বা অবস্থান করা। রমযানের শেষ দশকে এতেকাফ করা উত্তম। হাদিসে এসেছে- “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রমযানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন”। (সহীহ মুসলিম)  অপর হাদিসে এসেছে- “ যে ব্যক্তি রমযানে দশ দিন এতেকাফ করে,  সে দুই হজ্জ ও দুই ওমরার সমান সওয়াব লাভ করে।” (বায়হাকী)
৪.    রোযাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানো : রোযাদার ব্যক্তিকে ইফতার করালে রোযাদারের অনুরূপ সওয়াব পাওয়া যায়। রাসূল (স.) বলেছেন- “ যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় তার জন্য রয়েছে ঐ রোযারের সমান সওয়াব। তবে তাতে রোযাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমে যাবে না।” (মুসনাদে আহমদ)
৫.    ইফতারের সময় দোয়া করা : ইফতারের সময় রোযাদারের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। হাদিসে এসেছে- “ইফতারের সময় রোযাদারের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না।” (ইবনে মাযাহ) অপর হাদিসে এসেছে- “ তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল করা হয়, রোযাদারের দোয়া, মজলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া। ” (বায়হাকী)
৬.    ইফতার গ্রহণে বিলম্ব না করা/ প্রথমাক্তে ইফতার গ্রহণ করা : ইফতার গ্রহণে তাড়াতাড়ি করা এবং বিলম্ব না করা উত্তম। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) হাদিসে এসেছে- “ যে পর্যন্ত লোকেরা দ্রুত ইফতার করবে  সে পর্যন্ত তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম))
৭.    গর্হিত কাজ থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বিরত রাখা : এ প্রসংগে হাদিসে এসেছে-“ রোযা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোযা রাখলে সে যেন অশ্লীল ও অনর্থক কথা না বলে। যদি তাকে কেউ হত্যা করতে উদ্যত হয় বা গালি দেয় তখন সে যেন বলে আমি রোযাদার। ” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
৮.    ওমরাহ পালন করা : রমযান মাসে ওমরাহ আদায় মর্যাদাপূর্ণ কাজ। মহানবী (সা) বলেছেন- “রমযান মাসে ওমরাহ আদায় করা হজ্জের সমতুল্য।  অপর বর্ণনায় এসেছে- রমযান মাসে ওমরাহ আদায় করা আমার সাথে হজ্জ আদায়ের সমতুল্য।” ( সহীহ বুখারী)
৯.    বেশি বেশি দান করা : রমযান মাসে বেশি বেশি দান করতে আল্লাহর রাসূল অনুপ্রাণিত করেছেন। “নবী করিম (সা) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমযান মাসে তার বদান্যতা আরো বহুগুণে বেড়ে যেত।” (সহীহ মুসলিম)
১০.    অধিক নেক আমলের চেষ্টা করা: বিশেষ করে রমযান মাসের শেষ দশকে নেক আমল অধিক পরিমাণে করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে-“ যখন রমযানের শেষ দশক হাজির হতো রাসূল(সা) তখন কোমর বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন, রাত্রি জাগরণ করতেন, পরিবার-পরিজনকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন”। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)  অপর বর্ণনায় এসেছে- “রাসূল(সা) রমযানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে যে পরিশ্রম করতেন অন্য সময় ততটা করতেন না। ” (সহীহ মুসলিম)
এছাড়াও বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা, তারাবীর নামাজ আদায় করা, তাওবাহ করা, রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা, বিলম্বে সাহরী করা, খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করা, বেশীকরে তাসবীহ-তাহলীল করা, সাহরী খেয়ে রোযা রাখা, অধিকহারে নফল নামাজ  আদায় করাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল করা যেতে পারে। এ পবিত্র মাসকে আমলের মাস হিসেবে গ্রহণ করা মুমিনের দায়িত্ব।
রমাদান মাসে যা বর্জনীয় : বারো মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মাস রমযান। পবিত্রতম এ মাসে যেসব কাজ বর্জন করা উচিত তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১.    দিনের বেলায় পানাহার করা : রমযান মাসে শরয়ী কারণ ব্যতীত দিনের বেলায় খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা। পবিত্র কুরআনে এসেছে-“ তোমরা ভক্ষণ কর, পান কর, যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। অত:পর রোযাকে রাত পর্যন্ত পূর্ণ কর।” (সূরা বাকারাহ-১৮৭)
২.    আগাম রোযা রাখা : রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুইদিন পূর্বে রোযা রাখা উচিত নয় । হাদিসে এসেছে- “তোমাদের কেউ রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুইদিন পূর্বে যেন রোযা না রাখে। অবশ্য যার উপর কাযা রয়েছে সে ঐ দিনকার রোযা রাখতে পারে।” (সহীহ বুখারী)
৩.    মিথ্যা কথা ও  পাপ কাজ করা : রোযাকে মিথ্যা কথা ও পাপ কাজ করা থেকে হেফাজত করার বিষয়ে হাদিসে এসেছে- “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও গুনাহের কাজ ত্যাগ করে না, তার খানা-পিনা বন্ধ রাখাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (সহীহ বুখারী)
৪.   দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করা : রমযান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।
৫.    ইফতার গ্রহণে বিলম্ব করা : রোযাদার ব্যক্তি ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথেই কাল বিলম্ব না করে ইফতার করবে। রাসূলের (সা) হাদিস দ্বারা তা প্রমাণিত। তিনি বলেন-“ দ্বীন ততকাল জয়ী থাকবে যতকাল লোকেরা তাড়াতাড়ি/ শীঘ্র ইফতার করবে। কেননা ইহুদী ও নাসারারা বিলম্বে ইফতার করে”। (আবু দাউদ)
৬.    অশ্লীল গান-বাজনা, ছবি, ভিডিও দেখা ও শ্রবণ করা : পবিত্রতম এ মাসে অশ্লীল গান-বাজনা, ছবি, ভিডিও দেখা ও শ্রবণ করা কোন বিবেকবান মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। কেননা অশ্লীল গান-বাজনা, ছবি বা ভিডিও মানুষের অন্তরকে গোমরাহীর মধ্যে ফেলে দেয়, অন্যায়-অপকর্ম করতে উৎসাহিত করে।
৭.    অধিক পরিমাণে হাসি ও খেল-তামাশা করা : একজন মুমিন মহান আল্লাহর ভয়ে সর্বদা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবে। ইসলামী অনুশাসন মেনে  পরিমিত ও নির্দোষ কৌতুক/ তামাশা করবেন। কখনো বাড়াবাড়ি করবে না।
৮.    অশ্লীল ও মন্দ কথা বলা : রোযাদার ব্যক্তি অশ্লীল ও মন্দ কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন।
৯.    নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা : রমযান মাসে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা/ বিচরণ ইসলামী শরিয়াহ কর্তৃক সমর্থনযোগ্য নয়। তাই রোযাদারকে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থেকে নিজেকে হেফাজত করতে হবে।
১০.     গীবত, পরনিন্দা করা : একজন রোযাদার নিজেকে গীবত, পরনিন্দা থেকে মুক্ত রাখবেন।
এছাড়াও গালি দেয়া, অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, খারাপ ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা, অপবাদ দেয়া, চোগলখুরী করা, বিনা প্রয়োজনে অন্যের গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করা, মোনাফেকী করা, ঝগড়া-ঝাটি করা, হিংসা করা, অভিশাপ দেয়া, তোষামোদি করা,  হারাম খাদ্য ও পানীয় পান করা, হারাম জিনিস দিয়ে ইফতার করা, ধূমপান করাসহ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের জন্য অবশ্যই পালনীয়। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশনার আলোকে এ পবিত্রতম মাসকে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ