শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

সিয়াম : প্রতিবছর যে শিক্ষা অনুপ্রাণিত করে

মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক : হেরা গুহায় নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তেরোটি বছর মক্কায় ইসলামের দা‘ওয়াত পেশ করেন মানবতার বন্ধু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। কিছু সংখ্যক লোক তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হন। কিন্তুমক্কার অধিকাংশ মানুষ মুশরিক নেতাদের দাপটের কারণে ইসলাম গ্রহণ করেনি। অপরদিকে ইয়াসরিবের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একটি বড়ো অংশ ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ইয়াসরিবে ইসলামী দা‘ওয়াতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় ও দাওয়াতের পরিধির প্রসার ঘটে। এমতাবস্থায় আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর অনুসারীদেরকে ইয়াসরিবে হিজরাত করার নির্দেশ দেন। ৬২২ খৃস্টাব্দে মুহাম্মাদুর রাসূল (সা.) ইয়াসরিব পৌঁছেন। ইয়াসরিবে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি নগররাষ্ট্র। তখন থেকে ইয়াসরিব হয় মদীনা মুনাওয়্যারাহ।
হিজরাতের পূর্বে মুহাম্মাদুর রাসূল (সা.) দা‘ওয়াতী তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে মুশরিকদের মধ্যে। হিজরাতের পর আরেক শ্রেণীর লোক তাঁর সামনে আসে। এরা ছিলো ইয়াহুদী। মদীনার উপকণ্ঠে তাদের বিভিন্ন গোত্র বসবাস করতো। এরা তাওরাতের অনুসারী বলে দাবি করতো। আসলে তারা তাওরাতকে বিকৃত করে ফেলেছিলো। তাওরাতের যে সব আয়াত তখনো অবিকৃত ছিলো সেগুলোকে তারা নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যা দ্বারা বিকৃত করে ফেলেছিলো। এরা ছিলো বিকৃত আসমানী গ্রন্থের অনুসারী।
ইসলামী দা‘ওয়াত মাদানী যুগে প্রবেশ করার পর আরেক শ্রেণীর মানুষের আবির্ভাব ঘটতে শুরু করে। এরা ছিলো মুনাফিক। এদের কেউ কেউ ইসলামের সত্যতা স্বীকার করতো কিন্তু এর প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিলো না। এদের কেউ কেউ ইসলাম ও জাহিলিয়াতের মাঝে দোদুল্যমান ছিলো। এদের কেউ কেউ আসলে ইসলামকে অস্বীকারই করতো কিন্তু ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলিমদের দলে প্রবেশ করতো। এদের কেউ কেউ একদিকে মুসলিমদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতো অন্যদিকে ভালো সম্পর্ক রাখতো ইসলামের দুশমনদের সাথে। শেষাবধি যারাই বিজয়ী হোক না কেন, এতে যেনো তাদের স্বার্থহানি না ঘটে সেই বিষয়ে তারা ছিলো খুবই সজাগ ও সচেতন। এরাই সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর ও ইসলামের দুশমন।
সাইয়্যেদুল মুরসালীন রসূল (সা.) মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করেছেন, মদীনায় তাঁর একটা মজবুত অবস্থান ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এমন বিষয়ে মক্কার কাফির মুশরিকরা পেরেশান ও উদ্বিগ্ন। তারা মক্কা আক্রমণে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য কাফেলা ও মক্কার আবু জাহেলের নেতৃত্বে কাফিরদের আক্রমণ প্রতিহত করার মত ঈমানী মজবুতী, তাক্বওয়ার পরাকাষ্ঠা, শুধুমাত্র আল্লাহর দীনের স্বার্থে নিজের আপনজন, আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে ইক্বামাতে দীনের বিষয় মু’মিনের জন্য স্মর্তব্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটি হৃদয় মনে গ্রথিত করা এবং প্রতিপক্ষের যেকোনো পরিস্থিতির মুকাবিলায় ঈমানী মজবুতি ও তাক্বওয়ার বলে বলিয়ান হয়ে ময়দানে সাবিতে কদম থাকার জন্য সওমের মত গুরুত্বপূর্ণ বিধান ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহর বাণী: ‘ওহে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে (তোমরা গভীর মনোযোগে শুনো) তোমাদের উপর সিয়ামকে বিধিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে যেমনভাবে তাদের উপর বিধিবদ্ধ ছিলো, যারা তোমাদের পূর্বে ছিলেন। যাতে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা আল বাক্বারা, আয়াত: ১৮৩)।’ সহীহ হাদীসে এসেছে, ‘আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহ্তিসাব তথা হিসাব-কিতাব করে রমাদানের ‘সওম’ পালন করে তার পূর্বাপারের সব অপরাধ মাফ করে দেয়া হবে, আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও হিসাব-কিতাব করে রমাদানের রাতগুলো দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে তার পূর্বাপরের সব অপরাধ মাফ করে দেয়া হবে, আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও হিসাব-কিতাব করে লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করবে তার পূর্বাপরের অপরাধ সমূহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৩৮, ১৮০২, ১৯১০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১৭, ২৮২৫, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৪৩২, সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ১৮৯৪, ২১৯৯, ২২০৭, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৭১৭০, ৭২৮০, ৯০০১, ১০১১৭, ১০৫৩৭, জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ৬৮৩, মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বা, হাদীস নং ৮৮৭৫, ৮৮৭৭, সুনানু আবী দাউদ, হাদীস নং ১৩৭৪, কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফওয়াল, হাদীস নং ২৩৬৭৮, ২৩৬৭৯, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩২৬, ১৬৪১, সুনানুল বায়হাক্বী, হাদীস নং ৮২৮৯, ৮৩০৬, মুসনাদু আবী আওয়ানা, হাদীছ নং ২৬৩৯)। অপর হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলে করীম (সা.) বলেছেন, বনী আদমের প্রত্যেক ভালো কাজের প্রতিদান দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, তবে ‘সওম’ ছাড়া। যেহেতু তা কেবল আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। কেননা একজন সওম পালনকারী তার প্রবৃত্তিকে আমার জন্যই স্রেফ নিবৃত্ত রেখেছে এবং খানাপিনা থেকেও বিরত থেকেছে, (কাজেই এমন মহান কাজের প্রতিদান আমার নিজ হাতে দেয়াই শ্রেয়)। রোযাদারের জন্য রয়েছে আনন্দের দু’টো মুহূর্ত। এক) যখন সে ইফতার করে। দুই) যখন সে তার মহান রবের সাথে সাক্ষাত করবে। আর রোযাদারের মুখের গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট মিশকে আম্বরের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত। প্রকৃতপক্ষে ‘সিয়াম’ (রোযাদারের জন্য) ঢাল স্বরূপ। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রোযার দিনে রোযা রাখবে তখন যেন যৌন মিলন না করে, অশ্লীল বাক্যালাপও না করে। তবে যদি কেউ তোমাদের কোন রোযাদারের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয় বা ঝগড়া বাধিয়ে দেয়, তখন যেন (রোযাদার নিজেকে সংবরণ করে নম্রভাবে) বলে দেয় যে, আমি একজন রোযাদার। (তাই আমার পক্ষে বিবাদী জড়ানো শোভনীয় নয়)। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৮০৫, ৫৫৮৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬০, ২৭৬২, ২৭৬৩, মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৭৪৯৪, ৭৬৯৩, ৭৭৮৮, ৯৭১৪, ১০১৭৫, ১০৫৪০, ১০৬৯২, সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস ং ৩৪২২, ৩৪২৩, ছহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ১৮৯৬, ১৮৯৭, ১৯৮৯, সুনানুদ দারিমী, হাদীস নং ১৭৭০, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৭৮৯১, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৮, ৩৮২৩, সুনানুল বায়হাক্বী, হাদীস নং ৮০৯৪, ৮১১৬, ৮১১৯, ৮২৯০, ৮২৯২, ৮২৯৩, মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বা, হাদীস নং ৮৮৯৪)।২ পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহ পাক আরোও বলেন, রমাদান মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য সঠিক পথ দেখায় এবং হক্ব ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। কাজেই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এ সম্পূর্ণ মাসটিতে সওম পালন বা রোযা রাখা অপরিহার্য এবং যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে। আল্লাহ তোমাদের সাথে সহজ নীতি অবলম্বন করতে চান, কঠোর নীতি অবলম্বন করতে চান না। তাই তোমাদেরকে এ পদ্ধতি জানানো হচ্ছে, যাতে তোমরা সিয়ামের সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দান করেছেন সে জন্য যেন তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে ও তার স্বীকৃতি দিতে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। (সূরা আল বাক্বারাহ্, আয়াত: ১৮৫)। ২য় হিজরীর শা’বান মাসে সিয়ামের বিধান নাযিল করার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা বান্দাকে তাক্বওয়ার পরাকাষ্টা ও শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই নিজেদেরকে উপস্থাপিত করার প্রাকটিক্যাল আমল বাতলিয়ে দিলেন। পাশাপাশি প্রথম রমাদানে জিহাদের বিধান নাযিল করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাবলীও বিধিবদ্ধ করে দেন। আল্লাহর বাণী, অনুমতি দেয়া হলো তাদেরকে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা তারা মজলুম এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন। (সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৯) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, কিন্তু বাড়াবাড়ি করো না৷ কারণ যারা বাড়াবাড়ি করে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না। (সূরা আল বাক্বারা, আয়াত: ১৯০)।
রমাদানে সিয়ামব্রত অবস্থায়     (৬-এর পাতায় দেখুন)
(৫-এর পাতার পর)
কাফির মুশরিকদের আক্রমণের মুকাবিলায় যেভাবে সাহাবায়ি কিরামদের গাযওয়ায়ে বদরে সম্মুখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলো, তেমনি পরবর্তীতে প্রতিবছর রমাদান মাস, সিয়াম পালন এবং এ মাসের তাবৎ ইবাদত অনুশীলনে সত্য ন্যায়ের জন্য আপোষহীন ঈমানী মজবুতী অর্জনের প্রেরণা লাভ করে থাকি। ক্বিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম, মুসলমান, ইসলামী আন্দোলন, ইক্বামাতে দীনের যে কোনো কাফেলা সারা বিশে^ নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হচ্ছে, সেসবের মুকাবিলায় ঈমানী দৃঢ়তা ও তাক্বওয়ার মানদন্ডে উন্নীত হবার প্রতি বছর রমাদানে প্রেরণা পাবে ঈমানদান মুসলিমরা। মুসলমানদের পাওয়ার হাউজ তথা শক্তির উৎসই হচ্ছে কুরআন। এ অমীয় শক্তির কারণেই ঈমানদাররা অসত্য, অন্যায় ও অনাচার রুখতে জীবন বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। শত-সহস্র জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়িন বরণ করেছে ঈমানী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ফাঁসির কাষ্ঠে হাসিমুখে জীবন বিলিয়ে দেন। রমাদানের সিয়াম সাধনায় প্রতি বছর এ প্রেরণা উজ্জীবিত করে থাকে। কুরআন নাযিলের এ মাসে ব্যক্তি পর্যায় হতে তথা পার্সন টু পার্সন, বাসা-বাড়ী, পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-গঞ্জ, মক্তব-মসজিদে সহীহ কুরআন শিক্ষার আয়োজন করা যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের জনপদে উল্লেখযোগ্য মুসলমানরা কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন না। আবার সহীহ তিলাওয়াতের সংখ্যা একেবারেই নগন্য। জাগতিক জীবনে আমাদের কাউকে যদি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী-মিনিস্টার কর্তৃক কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রেরণ করা হয়, তাহলে সেটি পড়তে ও বুঝতে আমরা কত ব্যস্ত ও আগ্রহী হয়ে যাই। অথচ বিশ^জাহানের রাজাধিরাজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রিয় হাবীব মানবতার মহান শিক্ষক মুহাম্মদ (সা.) এর মাধ্যমে যে মহাপবিত্র কিতাব কুরআনুল করীম পাঠালেন, সেটি পড়তে, বুঝতে ও মান্য করতে আমরা সেরকম আগ্রহ, পেরেশানী ও প্রচেষ্টা করি না। যে কিতাব কঠিন মুসিবতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য অকাট্য দলীল হিসেবে উপস্থাপিত হবে এবং তিলাওয়াতকারীর জন্য জান্নাতের সুপারিশ করবে। আবার যে কিতাব পাঠ করে হাজার হাজার কাফির মুশরিক ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে প্রবেশ করে মুসলমান হচ্ছেন এবং নবমুসলিমরা দু’এক বছরের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ মর্ম বুঝার যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন। অথচ জন্ম থেকে মুসলমান আমরা সে অনুভূতি ও চেতনায় উজ্জীবিত হচ্ছি না। প্রতি বছর রমাদান আমাদের সে অনুপ্রেরণা ও প্রেষণা সৃষ্টি করছে, যেন আমরা কুরআন নাযিলের মাসে এদিকটি উপলব্ধি ও বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। ৩ প্রতিবছর রমাদান দাঈ ইলাল্লাহর তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য উত্তম সুযোগ দিয়ে থাকে। এ মাসে মানুষের হৃদয়-মন ভালো কাজে বেশি উদগ্রীব থাকে। মসজিদমুখীতা বেড়ে যায়। কল্যাণমূলক কাজে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ দান-সদাক্বা ও ফরজ যাকাত আদায়ের অনুকূল আবহ তৈরী হয়। কুরআন ও হাদীসের আলোচনা মানুষ ধৈর্য্য সহকারে রিসিভ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। দাঈ ইলাল্লাহর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ এ মাসের সমূহ দাওয়াহমূলক কাজ আন্তরিকভাবে করতে সমর্থ হলে অবশিষ্ট এগারো মাসের জন্য সে মতে আলোকিত মানুষ তৈরি হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ