মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ভালো আছেন খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল, উনি ভালো আছেন’ বলে জানিয়েছে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের প্রধান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী। গতকাল সোমবার বিকেলে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ বিএনপি চেয়ারপার্সনকে দেখে আসার পর মেডিকেল টিমের প্রধান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত বলব যে, উনার (খালেদা জিয়া) অবস্থা স্থিতিশীল। আজকে পর্যন্ত উনি যথেষ্ট ভালো আছেন। উনি স্পিরিটেড আছেন। আমরা আশা করছি যে, যদি এভাবে আরো এক সপ্তাহ পার হওয়া যায় তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা বিপদ থেকে মুক্ত হয়ে যাবো। এফএম সিদ্দিকী জানান, মেডিকেল বোর্ডে আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সাথে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। ইউকেতে অবস্থানরত উনার ছেলে ও ছেলের ওয়াইফ ডা. জোবাইদা রহমান সব সময় মোটিভেট করছেন। আমরা একটা টিম ওয়ার্ক হিসেবে আলোচনা করে উনার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা করছি। কোথাও কোনো গ্যাপ বা কোথাও কোনো রকমের সন্দেহের অবকাশ নেই।
৭৫ বছর বয়েসী খালেদা জিয়ার স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত উনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো আছে বলে মনে হচ্ছে।
খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা এরকম প্রশ্ন করা হলে চিকিৎসক টিমের প্রধান বলেন, আপনারা জানেন যে, কোভিডে আনসারটেনিটি আছে। পৃথিবীর কেউ বলতে পারবে না যে, করোনা প্রথম সপ্তাহে কেমন থাকবে, সেকেন্ড উইকে কি আচরণ করবে। কারো পক্ষে বলা সম্ভব না। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা যদি কখনো মনে করি, বিন্দুমাত্র আমাদের মনে হয় যে, তাকে হাসপাতালে নেয়া দরকার। আমরা সেই মুহূর্তে তাতক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যাবো- সেই ধরনের প্রস্তুতি আমরা রেখেছি।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ে চিকিৎসক টিমের সদস্য বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুস শাকুর খান, ইউরোলিজির অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ডা. মো. আল মামুন পাশে ছিলেন। গতকাল বিকেল ৫টায় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ‘ফিরোজায়’ প্রবেশ করেন। বেরিয়ে আসেন সন্ধ্যা ৬টার পর।
অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী বলেন, আমরা তিন চারজন ছিলাম, উনি আমাদের সামনে এসে বসেছেন। আমি উনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দীর্ঘ বছর ধরে। এর আগেও উনাকে যতবার আমি যেভাবে এসে দেখেছি, সেভাবেই দেখেছি। উনি রেডি হয়ে আসেন, বসেন। আমরা সেভাবে যাই। আমাদের সামনে সামনাসামনি কথা বলেন। শুধূ তাই নয়, আমি উনার পালস অক্সিমিটার দিয়ে দেখেছি, চেস্ট অলকালটেক করে দেখেছি। যেভাবে যা যা দেখা দরকার সেভাবে দেখেছি। অর্থাৎ আমাদের দেখা-পরীক্ষার কোনো কিছুর মধ্যে আমরা কোনো রকমের লিনেয়েন্সি সো করি নাই, ভেরি প্রফেশনালি আমরা এটা হেন্ডেল করছি।
অন্যরা কেমন আছেন জানতে চাইলে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী বলেন, সবাই কোভিড পজেটিভ। প্রত্যেককে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে যারা কোভিড পজেটিভ। কিন্তু ভালো দিক হচ্ছে বেশিরভাগই সিমটেমেটিক। প্রথম দিকে ১/২ জনের জ্বর ছিলো। ওদের এখন জ্বর নাই, সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সবাইকে চিকিৎসা করা হচ্ছে। ম্যাডাম শুধু নিজেরই না, সবাই ওরা (কোভিড আক্রান্তরা) ওষুধ খাচ্ছে কিনা সেটাও উনি তদারক করছে। আজকে আমি উনাকে দেখে চলে এসছি। উনি দোতলায়। উনি লাস্টে খবর পাঠিয়েছেন যে, আমার দুইজনকে আপনি একটু দেখে যান। তো আমি উনার রিকুয়েস্টে ওদেরকে দেখে এসছি। এভাবে উনি নিজেরও চিকিৎসা করছেন, অন্যরা ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছে কিনা সেটাও দেখছেন।
খালেদা জিয়া দোয়া চেয়েছেন উল্লেখ করে এফএম সিদ্দিকী বলেন, উনি ভালো আছেন, স্পিরিটেড আছেন। উনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। উনি বলেছেন, সবাই যেন উনার জন্য দোয়া করেন। সবাই যেন সাবধানে থাকেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসক টিমের এই বৈঠকে অনলাইনেও আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন। এছাড়া লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও ইন্টারনেটে যুক্ত থেকে বৈঠকে অংশ নেন।
গত শনিবার খালেদা জিয়া নমুনা পরীক্ষা শেষে রোববার তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। মেডিসিনের বিশেষ চিকিৎসক এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিম বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসা শুরু করে। ফিরোজার বাসায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ছাড়াও আরো ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তারাও বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কথিত দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়; শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।
এদিকে খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ শুনে নেতা-কর্মীরা উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে আছেন। বিভিন্ন জায়গায় নেতা-কর্মীরা নেত্রীর রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছেন। তার আশু রোগমুক্তি কামনা রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছে বলে দলের কেন্দ্রীয় দফতর শাখা জানিয়েছে। ঢাকায় পল্টন জামে মসজিদে বাদ জোহর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, অনিন্দ্র্য ইসলাম অমিত, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, নাজিম উদ্দিন আলম, রফিক শিকদার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেছারুল হক। গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়েও খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই দোয়া মাহফিলে ছিলেন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, উলামা দলের মাওলানা আবদুল খালেক, মাওলানা মো. ইব্রাহিম, মাওলানা সোবহানসহ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ