রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান উপেক্ষিত

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : দেশে করোনা সংক্রমণে ফের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। কেন এমন হচ্ছে? কী কার্যকারণ কাজ করেছে এর পেছনে? এটা কি প্রত্যাশিত ছিল? হয়ে থাকলে এর মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতিই বা কতটুকু? আমরা কি সঠিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি? সংকট উত্তরণ, জনদুর্ভোগ লাঘব ও মৃত্যুর সংখ্যা ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে বিষয়গুলো গভীরভাবে নিরীক্ষণ ও পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যখন করোনার এমন ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহবান জানালেও তাতে সাড়া নেই বরং এই আহবানকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাবে দেখা হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বলা হচ্ছে, যে বা যারা করোনা সংক্রমণরোধে জাতীয় ঐক্যমতের কথা বলছে, সেটি শুধুই রাজনীতিক। বিশ্বের কোথাও এধরণের ঐক্যমতের নজির নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এ আহবানের বিরোধীতা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঐক্য মতের ভিত্তিতেই লকডাউন কার্যকর করতে হবে। এই ধরনের সর্বগ্রাসী জাতীয় সংকট কোন একক দলীয় সরকার দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। জাতীয় সঙ্কটে দল-মত নির্বিশেষে সবাই যখন সংকটগ্রস্ত তখন সমগ্র জাতিকে কার্যকর ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে একক শক্তিতে পরিণত করে এই অদৃশ্য যুদ্ধকে মোকাবেলা করতে হবে। যেভাবে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যু এবং সংক্রমনের বিস্তার ঘটছে, তা যথাযথ মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে চরম বেদনাদায়ক  অবস্থার সৃষ্টি হবে।
সূত্র মতে, গত করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর গত ৯ এপ্রিল শুক্রবার কোভিড মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। যদিও এর আগে গেল বছরও বিএনপি সরকারকে এই আহবান জানিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। এবার আবারো এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আবারো প্রস্তাব রাখছি, এখনো সময়ে আছে, সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে, জনগণকে সম্পৃক্ত করে-তাহলেই শুধুমাত্র এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। একটা কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে, বিশাল চ্যালেঞ্জ তা জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়। জনগনকে সম্পৃক্ত করতে হলে আমরা যেটা এর আগেও বলেছি যে, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি সকল স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষকে এই যে ব্যাধি, এই ব্যাধির যে ভয়াবহতা সেই সম্পর্কে তাদেরকে ধারণা দিতে হবে এবং তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে এই মোকাবিলা করার যুদ্ধের সঙ্গে। আসুন আমরা জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেই মানুষ বাঁচাই, দেশ বাঁচাই। মির্জা ফখরুল বলেছেন, এখন যেটা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যে, মানুষের জীবন ও জীবিকাকে রক্ষা করা। আমরা সরকারকে আহবান করব যে আজকে প্রতিটি ইনফরম্যাল সেক্টরের যারা উদ্যোক্তা আছেন তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ প্রণোদনা দিতে হবে। এই ইনফরম্যাল সেক্টরে যারা কাজ করছেন, শ্রমিক রয়েছেন বিভিন্ন দোকান-শিল্পকলকারখানায় তাদেরকেও ভাতা প্রদান করতে হবে এবং সেটা যত দিন এই সমস্যা থাকবে বিশেষ করে লকডাউন থাকবে তাদেরকে ভাতা প্রদান করতে হবে। বিশেষ করে যারা একেবারে দিন আনে দিন খায় মানুষ তাদেরকে ব্যাপক হারে ত্রাণ সামগ্রি দিতে হবে তাদের বেঁছে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য।
 দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বদলীয় ঐক্য গঠনের দাবি জানালেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, আইসোলেশন থেকে হাঁকডাক ছাড়ছে বিএনপি। আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে লন্ডনের নেতৃত্বকে খুশি করতে এবং কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে আইসোলেশন থেকে বিএনপি হাঁকডাক ছাড়ছে। বিএনপি মহাসচিবের এমন আহবানের পরপরই  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের এসব আহবান ও হুমকি-ধামকি আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন সার। সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, করোনার এই সময়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দলের পক্ষে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে। তৃণমূলে পৌঁছে গেছে সরকারি সহায়তা, আর বিএনপি দরজা জানালা বন্ধ করে লিপ সার্ভিস দিচ্ছে, আর করে যাচ্ছে কাল্পনিক অভিযোগ। যখন যে ইস্যু সামনে আসে তা নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পরাশ্রয়ী আন্দোলন এবং গোপন ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আরোহণের দিন শেষ হয়ে গেছে। গত শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় টেউ মোকাবিলা এবং মানুষের জীবন ও দেশ বাঁচাতে জাতীয় ঐক্যের যে প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছিল তার আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা কোনো রাজনৈতিক সমস্যা নয়, দেশে করোনা বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে। অতএব সরকার বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক কমিটির মতামত এবং সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। বিএনপি এখন সর্বদলীয় মতামত গ্রহণের প্রস্তাব করেছে, এর আগেও তারা সর্বদলীয় কমিটির কথা বলেছিল- এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসলে সবকিছু নিয়ে বিরোধীতা করাই এখন বিএনপির রাজনীতি। তাই বিএনপি নেতাদের বলব- করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে জনগণের পাশে দাঁড়ান। বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা তো সকালে ঘুম থেকে জেগেই বলেন- সরকারের সমন্বয় নেই। মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে সরকার অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি করোনা নিয়ে অপরাজনীতি করেছে, এখন লকডাউন নিয়ে নানান অপপ্রচার ও উসকানি দিচ্ছে। বিএনপির অপরিণামদর্শী বক্তব্য ও উসকানিতে অনেকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের নেতারা।
জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গেল বছরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐক্য গঠনের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটি আমলেই নেয়নি। গেল বছরের ০৩ মে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদ-বিশেষজ্ঞ-পেশজীবীদের সমন্বয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘জাতীয় পূনর্গঠন কমিটি’ গঠনসহ ৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছিল ‘নাগরিক ঐক্য’। সংগঠনটির আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, করোনা একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি। প্রথাগত যুদ্ধের চেয়ে এই যুদ্ধ আরো ভয়ঙ্কর। এই যুদ্ধ অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে। এমন একটা পরিস্থিতিতে সারা পৃথিবীর সব দেশ, সব শ্রেণী-পেশার রাজনৈতি দলের মানুষকে নিয়ে যৌথভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু সরকার সে দিকে যায়নি। এমনকি এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পরেও সেই ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এই দায় এককভাবে তাদেরকেই নিতে হবে। এই সময়ে এসেও সরকার যদি মনে করে তারা জনগণের পাশে দাঁড়াবে। তাহলে কিছু পদক্ষেপ এখনই জরুরিভাবে নিতে পারে। সেটা মাথায় রেখে নাগরিক ঐক্য তখন সরকারের কাছে ৮ দফা প্রস্তাব করেছিল। ৮ দফা প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী, এনজিও প্রতিনিধির সমন্বয়ে ৩-৫ বছর মেয়াদি একটি স্থায়ী ‘জাতীয় পুনর্গঠন কমিটি’ গঠন। কিন্তু সরকার কোন প্রস্তাবই মানেনি।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক বলেন, এই ধরনের দ্বি-চারিতা পৃথিবীর অন্য কোথাও হচ্ছে না। বিভিন্ন ভুল ও ক্রটির কথা বলা হচ্ছে। আমাদের এখানে বলবার পরও যখন সেটা করা হচ্ছে না, তখন কী বলব।
জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে বলব, ভালো কাজ একলা করা যায় না। ভালো কাজ করতে হলে সর্বদলীয় কমিটি দরকার। সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিতে হবে। আপনি সকলকে নিয়ে এই সঙ্কট মোকাবিলা করতে হবে। আপনাকে আমি মনে করাতে চাচ্ছি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা। তার ওপর ছোট একটা ডকুমেন্টারি আছে ‘আনফ্যাশনাবল ফ্যামিন’। গুদামের খাবার আছে তবু মানুষ অনাহারে ছিলো। ঠিক আজকেও আপনাদের মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য ১৬ লাখ টন এখনো আপনার খাবার গুদামে আছে। আপনাদের হিসেবে যাই- এক কোটি পরিবার তারা অতি গরিব লোক, কাজ না থাকার আরো এক কোটি পরিবার আছে-এই দুটি কোটি পরিবারের খাবার দরকার। বেঁচে থাকার জন্য যেমন বাতাস দরকার সেভাবে খাবারও দরকার। আপনার ইনসেনিভ কোথায় যাচ্ছে ধনীদের কাছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বাস্তবে গার্মেন্টস মালিকরা সরকারের সমান্তরালে আরেকটা সরকার তারা চালিয়ে যাচ্ছেন কিনা এটা নাগরিকদের মধ্যে গভীর ও উৎকন্ঠা প্রকাশ পেয়েছে। একদিকে বলছেন লকড্উান, বাসায় থাকেন । আরেক দিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এসব হাস্যকর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমরা প্রায় একটা দুর্ভিক্ষ মোকাবেলা করবো। এখন একটা জাতীয় দুর্যোগ। সকলকে মিলে একই যুদ্ধকালীন দুর্যোগ মোকাবেলা করা দরকার। এখনো পর্যন্ত সরকারের একলা চলো নীতি তারা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের কানে পানি ঢুকছে না। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখন দলীয় সংকীর্ণতা, দলীয়করণ ও দলবাজের সময় নাই। সকলে একযোগে কাজ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া দেশের সকল মানুষের ঐক্যমত না হলে এই মহামারি থেকে আমরা বাঁচতে পারবো না। সরকার একা একা সব কিছু করছে এবং সর্বক্ষেত্রে তার চরম ব্যর্থতা পরিচয় দিচ্ছে। তাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। ফলে স্বাস্থ্য খাত আজকে ধসে পড়েছে। সরকারকে বলব, আর সময় নষ্ট না করে সংকীর্ণতা ছেড়ে সব দলকে নিয়ে বসুন।
করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। এ জন্য অবিলম্বে সর্বদলীয় সভা ডাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বাম জোট নেতারা বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পৃথিবীর কোনো দেশের সরকারের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের দেশেও সরকার বা সরকারি দলের একার পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব না। তাই আমরা শুরু থেকেই এ পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞদের ঐক্যবদ্ধ করে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার এখনো আমাদের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ নিতে সর্বদলীয় সভা আহ্বানের জন্য ফের সরকারের প্রতি দাবি জানায় তারা।
জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সরকার ইতিপূর্বে করোনা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বহু আত্মতুষ্টি প্রকাশ করেছে কিন্তু এখন আর আত্মতুষ্টি প্রকাশ করার সময় নয়। করোনার ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। ঐক্য মতের ভিত্তিতে লকডাউন কার্যকর করতে হবে। এই ধরনের সর্বগ্রাসী জাতীয় সংকট কোন একক দলীয় সরকার দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। জাতীয় সঙ্কটে দল-মত নির্বিশেষে সবাই যখন সংকটগ্রস্ত তখন সমগ্র জাতিকে কার্যকর ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে একক শক্তিতে পরিণত করে এই অদৃশ্য যুদ্ধকে মোকাবেলা করতে হবে। যেভাবে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যু এবং সংক্রমনের বিস্তার ঘটছে, তা যথাযথ মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে চরম বেদনাদায়ক  অবস্থার সৃষ্টি হবে। তিনি অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দল, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধিকারী পেশাজীবী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্য’ স্থাপন করার আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ