শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে বিনিয়োগের উদ্যোগ

এম এ খালেক : বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে স্ফীত অবস্থায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪বিলিয়ন (চার হাজার চার শত) মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের এই পরিমাণ সার্ক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আটটি সার্ক দেশের মধ্যে একমাত্র ভারতই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি রিজার্ভ সংরক্ষণ করছে। বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ পাকিস্তানের রিজার্ভের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, কোনো দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই তাকে সন্তোষজনক বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৬ থেকে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেতে পারে। অবশ্য কোনো কেনো অর্থনীতিবিদ মনে করেন, করোনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাই সংরক্ষিত রিজার্ভ অর্থ দিয়ে ৮ থেকে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ দিয়ে কত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেতে পারে তা নিয়ে বিতর্কে নাই বা গেলাম। কিন্তু এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, বর্তমানে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সংরক্ষণ করছে তা আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, স্ফীত বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ, বিশেষ করে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রাচুর্য একটি দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে কাঙ্খিত অবস্থার নির্দেশক। এমন কি তুলনামূলক স্বল্প রিজার্ভ এবং ব্যক্তিখাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগও কাম্য হতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই বিনিয়োগবিহীন স্ফীত রিজার্ভ কাম্য হতে পারে না। কারণ বিনিয়োগবিহীন স্ফীত রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির স্থবিরতারই নির্দেশক। বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্ফীতির অন্যতম কারণ হচ্ছে দেশে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক দিন ধরেই স্থবিরতার পর্যায়ে রয়েছে। করোনার কারণে ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবার কারণে শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল ও ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমে গেছে। একই সঙ্গে কমেছে ভোগ্যপণ্য আমদানি। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিও কমে গেছে। ফলে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বিপরীত দিকে জনশক্তি রপ্তানি খাতের আয় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। অনেকেই এ জন্য বাহবা নেবার চেষ্টা করছেন এই বলে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রবাসী আয়ের উপর ২ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার কারণেই রেমিটেন্স প্রবাহে এমন ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু এই যুক্তি প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নেয়া যায় না। করোনাকালীন অবস্থায় অনেকেই বিদেশে কর্মচ্যুৎ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে আসার আগে কর্মস্থলে সঞ্চিত অর্থ একবারে দেশে নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া করোনার কারণে স্থানীয় সুবিধাভোগীদের অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ রেমিটেন্স প্রেরণ করছে। উপরন্তু করোনার কারণে হুন্ডি কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত এসব কারণেই রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া ২ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনাও রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। কিন্তু এই নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার জন্যই রেমিটেন্স এভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা ঠিক নয়। বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কমে গেছে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের সম্ভাব্য সবগুলো উৎসই বর্তমানে সংকুচিত হয়ে গেছে। উপরন্তু বিদেশে গমনের হারও কমেছে। সব মিলিয়ে এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, আগত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে তা জমা হচ্ছে।
এই অবস্থায় রকার চাইছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ অর্থ নিয়ে উন্নযন প্রকল্পে ব্যয় করার জন্য। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন ফান্ড (বিআইডিএফ) গঠিত হয়েছে। এই ফান্ড থেকে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য ঋণ দেয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ফান্ড থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ খাতে ঋণ দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই বিআইডিএফ থেকে পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৫ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ঋণ দানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিন বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো প্রদান করবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালি ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে এই ঋণ দেয়া হচ্ছে। এই ঋণের মেয়াদকাল হবে ১০ বছর এবং সুদের হার ২ শতাংশ। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংক লিমিটেড সার্ভিস চার্জ বাবদ এক শতাংশ পাবে এবং অবশিষ্ট এক শতাংশ পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকার মনে করছে, নিজস্ব রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করা হলে বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এতে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ছয় মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ সংরক্ষিত রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। আগামীতে এই ফান্ড থেকে ব্যক্তি খাতেও ঋণ দেয়া হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের অনেকেই সরকারের এই উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখছেন না। তারা বলছেন, একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সংরক্ষণ করা হয় আপদকালীন প্রয়োজন মেটানোর জন্য। কোনো কারণে যদি আর্থিক বিপর্যয় দেখা দেয় তাহলে সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। কারণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ স্থিতিশীল নয়। যে কোনো সময় এতে টান পড়তে পারে। তাই রিজার্ভ থেকে বিনিয়োগের ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তারা আরো বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে অর্থ বিনিয়োগ না করে বরং বিদেশ থেকে তুলনামূলক সহজ শর্তে ঋণ এনে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করাই বেশি যৌক্তিক হবে। করোনাকালীন দেশের আমদানি ব্যয় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেলেও গত জানুয়ারি মাসে অনেকটা হঠাৎ করেই আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। স্থানীয় বাজারে ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং অন্যান্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সাধারণভাবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে মোট আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭২৩ কোটি মার্কিন ডলার। আমদানি ব্যয়ের এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এমন কি গত ডিসেম্বর মাসেও আমদানি ব্যয় হয়েছিল ৫৩৮ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এ মাসের ব্যবধানে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১৮৫ কোটি মার্কিন ডলার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি বৃদ্ধি পেলে সার্বিক আমদানি ব্যয় আরো অনেকটাই বেড়ে যাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৪ হাজার ৪০০ কোটি  মার্কিন ডলারে উন্নীত হলেও ১০ মার্চ তা ৪ হাজার ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া কতটা যৌক্তিক হবে তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন উত্থাপন করতে শুরু করেছেন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ১১টি কিস্তিতে আগামী ১০ বছরে ১১টি কিস্তিতে পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এই ঋণ দেবে। আয় পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০৩১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ কিস্তিতে এই ঋণের অর্থ ফেরৎ দেবে। কাজেই আগামীতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত সময়ের আগে এই ঋণের কিস্তি ফেরৎ আনা সম্ভব হবে না। বিশ^ব্যাংকের সাবেক লীড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রিজার্ভ সংরক্ষণ করা হয় ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য। বলা হচ্ছে ছয় মাসের আমদানি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রিজার্ভ সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু আগামীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমদানি ব্যয়ের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। সেই অবস্থা কিভাবে সামাল দেয়া হবে? ভবিষ্যতের আমদানি চাহিদা বিবেচনায় রেখে আমদানি ব্যয়ে সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। আমি মনে করি, প্রতি মাসের আমদানি ব্যয় ন্যূনতম পক্ষে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ধরা উচিত। প্রতি মাসে সম্ভাব্য আমদানি ব্যয় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ধরা হলে সংরক্ষিত রিজার্ভের পরিমাণ খুব একটা বেশি নেই।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে. মুজেরী বলেন, প্রত্যেকটি দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রিজার্ভ সংরক্ষণ করে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে কোনো আপদকালীন সময়ে দেশের  অর্থনীতিকে সহায়তা করা। যাতে কোনোভাবেই দেশের অর্থনীতি সঙ্কটের মধ্যে পতিত না হয়। এই অর্থনৈতিক সঙ্কট দেশের অভ্যন্তরীণ হতে পারে। আবার বৈশ্বিক সঙ্কটও হতে পারে। অর্থাৎ যে কোনো আর্থিক সঙ্কট থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যই বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সংরক্ষণ করা হয়। অপ্রত্যাশিত সঙ্কট থেকে উত্তরণে দেশকে সহায়তা করার জন্যই রিজার্ভ সংরক্ষণ করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ যত বেশি হবে সেই দেশের অর্থনীতি তত শক্তিশালী হবে। আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলার সামর্থ্য তত বেশি থাকবে। কাজেই সব দেশেরই একটি লক্ষ্য থাকে কিভাবে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সংরক্ষণ করা যায়। একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বেশি হলে আন্তর্জাতিকভাবেও দেশটির সম্মান বৃদ্ধি পায়। দাতারা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকতর আস্থাশীল হয় দেশটির প্রতি। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে ঋণ আনার ক্ষেত্রে দেশটির সুবিধা হয়। কারণ তারা মনে করে, দেশটির যেহেতু পর্যাপ্ত পরিমাণ রিজার্ভ আছে তাই তাদের ঋণ দেয়া হলে কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে না। তাই প্রতিটি দেশেরই চেষ্টা থাকে কিভাবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ স্ফীত করা যায়। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ একটি দেশের আর্থিক সামর্থ্যের নির্দেশক বলা যেতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বেশি থাকলে সেই দেশে ঋণদানের ক্ষেত্রে টার্ম এন্ড কমিন্ডশনগুলো সহজতর হয়। কারণ ঋণের কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ বা সংশয় থাকে না। যেসব দেশের অর্থনীতি দুর্বল সেই সব দেশে জন্য ঋণ বরাদ্দের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক থাকে। তারা এমন সব শর্তারোপ করে যাতে ঋণের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। কাজেই বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বেশি থাকলে তার কিছু সুবিধা আছে।
আমরা যে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সংরক্ষণ করি তার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ মোকাবেলার সামর্থ্য অর্জন করা। যাতে কোনো দুর্যোগ সংঘঠিত হলে বাইরের দিকে সাহায্যের জন্য তাকিয়ে থাকতে না হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে করোনার কারণে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিশে^র প্রতিটি দেশই করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আছে। এই অবস্থায় আগামীতে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের উৎসগুলো সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বর্তমান স্লথ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। পণ্য রপ্তানি বাণিজ্য কত দিনে আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতও আগামীতে ঊর্ধ্বমুখীপ্রবণতা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমননি এক অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে কোনো প্রকল্পে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা কতটা উচিত হবে তা নিয়ে ভেবে দেখা দরকার। কোনো কারণে একবার বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট শুরু হলে তা সামাল দেয়া কঠিন হবে। তাই সব দিক ভেবেচিন্তেই করা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ