রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

বেতন-বোনাস দেয়ার প্রস্তুতি আছে খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে এ সময়ে শিল্প-কারখানা খোলা থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহনে আনা-নেয়ার শর্তে কারখানা খোলা রাখা যাবে। তবে সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও ঈদের বোনাস দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নব-নির্বাচিত সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। এদিকে গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। কারখানার নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে পোশাক ব্যবসায়ীরা কারখানা খোলা রাখার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে কারখানা খোলা রাখার আশ্বাস দেয়া হয়। যা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ’র নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পোশাক কারখানা লকডাউনের আওতার বাইরে না রাখলে শ্রমিকরা গ্রামে চলে যাবেন। গণপরিবহনে আসা-যাওয়া এবং অবাধে চলাফেরার ফলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বেড়ে যাবে। শ্রমিকদের দায়িত্বও মালিকরা নেবে না। ফারুক বলেন, আমরা বলেছি শ্রমিকদের ৯০ শতাংশ কারখানার আশপাশ এলাকায় থাকেন। তারা পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেলে করে অফিস করেন। কারখানা বন্ধ না করা হলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করব আমরা। তাতে শ্রমিকরা ভালো থাকবেন। এদিকে শ্রমিকদের রোজার ঈদের বোনাস ও বেতন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, গত লকডাউনে এপ্রিল এবং মে মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দেয়া হয়েছিল। আমরা আশা করি এবং প্রস্তুতিও থাকবে সব কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেয়ার। তবে কারখানা চালু রেখে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেয়া অব্যাহত রাখতে চাই। এক্ষেত্রে সরকারেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
লকডাউনে কারখানা খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কারখানা বন্ধ হলে শিপমেন্ট দিতে পারব না। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে লকডাউনে কারখানা চালু রেখেছে। আমরা ব্যবসার স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধির প্রটোকল মানতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে বাধ্য করতে বিজিএমইএ'র ১০টি টিম আছে, যারা মনিটরিং করছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মনিটরিং টিম রয়েছে। অন্যদিকে আমাদের কারখানাগুলো প্রতিনিয়ত তৃতীয় পক্ষ ও বায়ারদের প্রতিনিধি পরিদর্শন করছে। একটি কারখানা যদি আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে তা সবার জন্য বিপদ। আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থে স্বাস্থ্য প্রটোকলগুলো মানতে বাধ্য।
ফারুক হাসান বলেন, কোভিডের কারণে বিশ্বের কেউ ভালো নেই। এর আগের লকডাউনে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিজিএমএ'র পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে যথেষ্ট মনিটরিং করা হয়েছে। তাছাড়া ৯০ শতাংশ কর্মী কারখানার আশেপাশে থাকে। তারা মোটামুটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকেন কিংবা গার্মেন্টস কারখানাও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়। লকডাউন অবস্থায় যদি কারখানা বন্ধ হয়, তাহলে তারা বাড়ির দিকে ছুটবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাবে। গতবারের অভিজ্ঞতা তাই বলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ